bd24report.com | চালবাজ নিয়ে আসছে শাকিব খান -শুভশ্রী

চালবাজ নিয়ে আসছে শাকিব খান -শুভশ্রী

আপডেট: March 30, 2018

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
চালবাজ নিয়ে আসছে শাকিব খান -শুভশ্রী

সব জটিলতা কাটিয়ে ‘চালবাজ’ তাহলে মুক্তির পথে? এমনঅই বললেন শাকিব খান ।
(হাসি) হ্যাঁ, প্রজেক্টটা নিয়ে আমি খুব এক্সাইটেড! ভেবেছিলাম, ‘চালবাজ’ই ২০১৮’য় আমার প্রথম ছবি হবে। কিন্তু সেটা হল কই! ইনশাল্লাহ্‌, ইট উইল বি আ বিগ
হিট মুভি।

ছবির নাম যখন ‘চালবাজ’, তখন গল্পে বিস্তর চালবাজি করেছেন নিশ্চয়ই?
কিছুটা তো করেইছি! তবে চালবাজি শব্দটা আমরা সাধারণত নেগেটিভ মনে করি। এক্ষেত্রে আমি চালবাজিটা করেছি পজিটিভলি। আর বেশি কিছু বলব না। পুরোটা জানতে গেলে দর্শককে ছবিটা দেখতে হবে।

‘নবাব’এর পর ফের শুভশ্রীর সঙ্গে কাজ করলেন।
হ্যাঁ! প্রথম থেকেই ওঁর সঙ্গে আমার কেমিস্ট্রিটা বেশ ভাল! ‘নবাব’ বিগ হিট ছিল। বিদেশেও মুক্তি পেয়েছিল। ‘শিকারি’র সময় থেকে আমরা ফের ওভারসিজ রিলিজ করছি। তার আগেও বিদেশে ছবি মুক্তি পেত, কিন্তু ছাড়া ছাড়া ভাবে। ‘নবাব’ মিড্‌ল-ইস্টে খুব ভাল ব্যবসা করেছিল। কানাডা, ফ্রান্সেও। আমার বিশ্বাস, ‘চালবাজ’ও দেশ ও বিদেশের মাটিতে ভাল
ব্যবসা করবে!

ছবির লন্ডন শিডিউলের সময় ফেডারেশনের আপত্তির কারণে শ্যুটিং বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। ফেডারেশনের যুক্তি ছিল— বিদেশে শ্যুটিংয়ের ব্যাপারে ফেডারেশনের নিয়ম মানেনি প্রযোজনা সংস্থা। আবার ‘এসকে মুভিজ’ জানিয়েছিল, ফেডারেশনের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে প্রায় এক কোটি টাকা লোকসান হয়েছিল তাদের। আদতে হয়েছিল কী বলুন তো?
দেখুন, এখানকার ফেডারেশনের নিয়মগুলো আমি খুব একটা ভাল জানি না! আমি যেটুকু দেখেছি, সেটা বলতে পারি মাত্র। আমরা তখন লন্ডনে। পরদিন থেকে শ্যুটিং শুরু। হঠাৎ জানতে পারি, শ্যুটিং করা যাবে না। তারপর তো দেখলাম, শ্যুটিংটাই বাতিল করতে হল! প্রযোজনা সংস্থার তরফে পুরো ব্যাপারটা নিয়ে সেট্‌লমেন্টে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা করা যায়নি! খুব খারাপ লেগেছিল ব্যাপারটায়। বিশ্বাস করুন, আউটডোরে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতা আমার আগে কখনও হয়নি।
ভাবে থেমে থেমে, ভেবেচিন্তে কথা বলছেন— ব্যক্তিগত জীবনেও কি আপনি এতটাই সংযমী?
(হেসে) আমি কেমন, সেটা মাঝে মধ্যে আমিও বুঝে উঠতে পারি না! কখনও মনে হয়, আমি ইন্ট্রোভার্ট। আবার কখনও মনে হয়, এক্সট্রোভার্ট। আপনি এখন আমাকে এরকম দেখছেন। যখন টানা তিন-চারদিন ছুটি পাই, তখন আমি সম্পূর্ণ অন্যরকম মানুষ হয়ে যাই (হাসি)।

কী রকম মানুষ হয়ে যান তখন?
(চোখে দুষ্টুমির ছোঁয়া) সেটা আপনি সামনে থেকে আমাকে না দেখলে বুঝবেন না (হাসি)। আমরা আর্টিস্টরা সীমিত গণ্ডির মধ্যে থাকতেই অভ্যস্ত। তাই নতুনভাবে একটু বাঁচতে ইচ্ছে করে। আমার যেমন আড্ডা দিতে, ঘুরে বেড়াতে, মস্তি করতে দারুণ লাগে। বাংলাদেশে আমার একটা ফার্ম হাউস রয়েছে। সেখানে হোক বা অন্য কোথাও— আমার কাছের মানুষগুলোকে ডেকে নিয়ে কয়েকটা দিন পুরো বাঁধনছাড়া ভাবে কাটাই (হাসি)!

বাংলাদেশের ফিল্ম তারকাদের তালিকা যদি বানানো হয়, তাহলে এক থেকে পাঁচ নম্বর পুরোটাই শাকিব খানের দখলে। এই সুপার-স্টারডমের রহস্যটা কী?
(মুচকি হেসে) খুব ভগ্নদশায় আমি আমাদের ইন্ডাস্ট্রিটাকে পেয়েছিলাম। আপনি যদি ২০০০ সাল অবধি বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রিকে দেখেন, তখন আমাদের ওখানে টলিউডের চারগুণ বাজেটের ছবি তৈরি হতো। সেই সময় আমরা তখন দু’কোটি টাকায় ছবি বানাতাম। টলিউডে ছবির বাজেট তখন ৫০ লক্ষ। তখন আমাদের সুপারস্টার ছিলেন সলমন শাহ। শাহরুখ খানের সঙ্গেও ওঁর ভাল আলাপ ছিল। তখন স্টারডম কাকে বলে, সেটা ওঁকে শিখতে হয়! তখনকার তারকাদের হাতে প্রায় ২০-২৫টা ছবি থাকব। আমাদের ছবি সুপারহিট হলে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যবসা করত। ভাবতে পারছেন!

তাহলে বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি পিছিয়ে পড়ল কীভাবে?
সলমন শাহ মারা গেলেন। আরও যাঁরা স্টার ছিলেন, তাঁরা অনেকে অভিনয় ছেড়ে গিলেন। অনেকে বিয়ে করে নিলেন। আমি যখন ইন্ডাস্ট্রিতে আসি, তখন আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একটা ক্রান্তিকাল চলছিল। তারপর কোথা থেকে একটা অশ্লীল পিরিয়ড চলে এসেছিল। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি তখন ফাঁকা মাঠ। কোনও ভাল তারকা নেই। সেই সুযোগে কিছু দুষ্টু লোক ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকে পড়েছিল। তাঁরাই অশ্লীলতাগুলো করত! মান্না ভাই সেই সময় ইন্ডাস্ট্রির অভিভাবক ছিলেন। তার নেতৃত্বে ইন্ডাস্ট্রি ওই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে। সিনেমা হল রাজকীয় ব্যবসা! সারা বিশ্বে তাঁরাই সিনেমা বানান— যাঁদের প্রচুর অর্থ রয়েছে, সঙ্গে একটা শিল্পী মনও রয়েছে। অনেক নামী প্রযোজকও অশ্লীলতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে দেন। ওই সময়টাতেই ইন্ডাস্ট্রি অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছিল। তারপর ইন্ডাস্ট্রিটাকে নতুন করে সাজাতে প্রচুর সময় লেগে গেল। আজকে বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রি যে অগ্রগতিটা করেছে, সেটা আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ১৯৯৫-২০০০ সালের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়নি।

যৌথ প্রযোজনা সম্পর্কে আপনার কী মত?
যৌথ প্রযোজনা তো মিঠুনদা’র (চক্রবর্তী) সময় থেকেই হয়ে আসছে। সেই সময় ‘অন্যায় অবিচার’এর মতো ছবি হয়েছিল। রাজেশ খন্না, শশী কপূরও ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। মাঝে কিছুটা সময় ব্যাপারটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার যৌথ প্রযোজনা শুরু হয়েছে। এপার বাংলা-ওপার বাংলা দু’টো দেশ হতে পারে, কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি তো একই! আমাদের রুচিবোধও এক। যেদিকে ব্যাপারটা এগোচ্ছে, সেটা ভালর দিকেই!

কেরিয়ারে এত সাফল্য পেয়েও মাটির এত কাছাকাছি থাকেন কীভাবে?
আমি কীভাবে এতটা সাফল্য পেলাম, সেটাই মাঝে মধ্যে বুঝতে পারি না। আমি সেই মানুষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ, যাঁরা আমাকে ভালবাসেন। কিছুদিন আগেই খুব খারাপ সময় এসেছিল আমার জীবনে। কিন্তু ওই মানুষগুলোর ভালবাসা কখনও কমেনি। জীবনে তো কম কিছু দেখলাম না। কিন্তু খারাপ সময় আমাকে ছুঁতেও পারেনি। কেন জানেন? ওই মানুষগুলোর নিঃস্বার্থ ভালবাসা! ওঁরাই আমার জীবনের সব কিছু। ইন্ডাস্ট্রিতে আমার শত্রু যাঁরা রয়েছে, তাঁরা হয়তো ভেবেছেন— শাকিব খানের অধ্যায় এবার শেষ! কিন্তু শেষ তো হই-ইনি, বরং নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছি। এটাই তো আল্লাহ্‌র রহমত! খারাপ সময়েই কাছের মানুষকে চেনা যায়।

তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে সংবাদমাধ্যমে এত কাটাছেঁড়া হয়, খারাপ লাগে না?
(জানলা দিয়ে দূরের দিকে তাকিয়ে) ইট্‌’স পার্ট অফ লাইফ! মানুষ আমাদের ভালবাসেন। সেই কারণেই আমাদের সম্পর্কে তাঁদের এত আগ্রহ। ভালাবাসা থেকেই আসে ব্যাপারটা। খারাপ লাগে না তা নয়, কিন্তু ঠিক আছে…!

অতিরিক্ত আগ্রহ তো কারও বিরক্তি বা যন্ত্রণার কারণও হতে পারে!
যন্ত্রণা তো হয়ই! ভালর চেয়ে আমার সম্পর্কে খারাপ খবর আরও বেশি ছড়াবে— এটা আমি মন থেকে মেনে নিয়েছি। স্টার হলে একটা কালো ছায়া পিছু ধাওয়া করবেই। এটাই নিয়ম! এই কালো ছায়ার কাজ হল স্টারকে বেইজ্জত করা। আমি এগুলো গায়ে মাখি না। কারণ, জীবনে সবচেয়ে খারাপটা আমি দেখে ফেলেছি। তাই নতুন করে আর কিছু দেখার নেই! জীবনে খারাপ মুহূর্ত আসারও সুবিধা আছে। এগুলো পরিণত করে তোলে। জীবনে প্রতিটা খারাপ মুহূর্তে আমাদের একটা করে শিক্ষা দিয়ে যায়।

প্রিয় তারকার পান থেকে চুন খসলে বাংলাদেশের মানুষ সোশ্যাল সাইটে তাঁকে তুলোধোনা করেন। অশালীন শব্দও বাদ যায় না। এটা কেন হয় বলুন তো?
ভাল-মন্দ তো সব জায়গাতেই রয়েছে। দুষ্টুলোকেদের কাজই তো খারাপ কাজ করা। আমার মনে হয়— তাদের পিছনে সময় না দিয়ে, ভাল মানুষদের নিয়ে আলোচনা করাই শ্রেয়!

বাংলাদেশের মুক্তমনা ব্লগার হত্যার সঙ্গেও কি দুষ্টুলোকেদের প্রসঙ্গটা জড়িয়ে রয়েছে?
এই ব্যাপারটাকে আমি কোনও অবস্থাতেই সমর্থন করি না। আমাদের দেশের সরকার এই ব্যাপাটায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এমন ঘটনা ঘটলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। বা নিজে খোঁজখবর নিচ্ছেন। যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। ব্যাপারটা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন