bd24report.com | মৃত্যুর আগে বাংলাদেশের মাথা উচু করে গেছেন পাইলট প্রিথুলা

মৃত্যুর আগে বাংলাদেশের মাথা উচু করে গেছেন পাইলট প্রিথুলা

আপডেট: March 13, 2018

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
মৃত্যুর আগে বাংলাদেশের মাথা উচু করে গেছেন পাইলট প্রিথুলা

নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগে ১০ নেপালি যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়ে নিজের জীবন দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিমানটির বাংলাদেশী কো-পাইলট প্রিথুলা রশিদ। মৃত্যুর আগেও বাংলাদেশকে গর্বিত করে গেছেন এই বাঙালী কন্যা।

নেপাল ভিত্তিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও সামাজিক মাধ্যমে এই বীর নারীকে ‘ডটার অব বাংলাদেশ’ আখ্যা দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রিথুলা ছিলেন সোমবার বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের সহকারি পাইলট। পাইলট প্রিথুলা নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। শুধু তাই নয়, ইউএস বাংলার প্রথম নারী পাইলট ছিলেন তিনি।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি গতকাল স্থানীয় সময় বেলা ২টা ২০ মিনিটে অবতরণের কথা ছিল। নামার আগেই এটি বিধ্বস্ত হয়ে বিমানবন্দরের পাশের একটি খেলার মাঠে পড়ে যায়। উড়োজাহাজটিতে চারজন ক্রু ও ৬৭ জন যাত্রী ছিলেন। এতে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে বেঁচে আছেন ২১ জন।

সোমবার ঘটা এ দুর্ঘটনায় যাত্রী ছাড়াও বিমানটির কো-পাইলট প্রিথুলা রশিদ, ক্রু খাজা হোসেন ও ক্রু নাবিলা মারা যান। এর পর আজ সকালে মৃত্যুর কাছে হেরে গেছেন প্রধান পাইলট আবিদ সুলতান।

দুর্ঘটনা কবলিত বোমবার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ ৪০০ উড়োজাহাজটিতে ৩৭ জন পুরুষ ও ২৭ জন নারী ছাড়াও উড়োজাহাজটিতে ছিল শিশু। দুর্ঘটনায় নিজের কথা না ভেবে আগে সেই যাত্রীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন প্রিথুলা। দশ জন নেপালি যাত্রীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে নিরাপদে সরিয়ে দিতে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করতে করতেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় প্রিথুলার।

তবে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রিথুলা রশিদের অন্যের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়নি। ওই দশ নেপালি যাত্রীর সবাই দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। তারা সবাই এখন বেঁচে আছে।

দুর্ঘটনার পর সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে ‘সিকিম ম্যাসেঞ্জার’ নামে একটি পেজে প্রিথুলার মহানুভবতার কথা তুলে ধরে বলা হয়, ‘আজ নেপালি নাগরিকদের বাঁচাতে গিয়ে বাংলাদেশি কন্যা তার নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে কাঠমান্ডুতে আজ এই বাংলাদেশি তরুণী পাইলট মারা গেছেন।

তার নাম মিস প্রিথুলা রশিদ। তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের (ফ্লাইট বিএস২১১) কো-পাইলট ছিলেন। যেটি আজ নেপালের কাঠামান্ডুতে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়েছে। যাই হোক, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ১০ নেপালি নাগরিককে রক্ষার চেষ্টা করে গেছেন। যাদের সবাই জীবিত আছেন।’

প্রিথুলার ফেসবুক পাতা থেকে জানা যায়, তিনি ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যুক্ত। নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর তিনি আরিরাং এভিয়েশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বিমান চালনার ওপর ডিগ্রি নেন।

নিহত পাইলট প্রিথুলার শেষ স্ট্যাটাস ‘খোদা হাফেজ’

ঢাকা থেকে নেপালের কাঠমান্ডুর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ইউএস বাংলার প্রথম নারী পাইলট প্রিথুলা রশিদ নিহত হয়েছেন। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

ফেসবুকের শেষ স্ট্যাটাসে প্রিথুলা লিখেছিলেন, ‘খোদা হাফেজ’। ইথিওপিয়া বিমানবন্দরে গত ১৮ জানুয়ারি দেয়া ওই স্ট্যাটাসের পর তিনি আর কোনো স্ট্যাটাস লেখেননি।

ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবার বুলে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে বাংলাদেশে আসার সময় তিনি এ স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি আর কোনো স্ট্যাটাস দেননি। এরপর তিনি শুধু (গত ৩ ফেব্রুয়ারি) তিনি তার প্রিয় বিড়ালকে কোলে নিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেছেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন