bd24report.com | রানা প্লাজার মালিককে ৬ বছরের কারাদণ্ড

রানা প্লাজার মালিককে ৬ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট: March 29, 2018

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
রানা প্লাজার মালিককে ৬ বছরের কারাদণ্ড

২৪ এপ্রিল ২০১৩ সকাল ৮:৪৫ এ সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামের একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে। ভবনের কয়েকটি তলা নিচে দেবে যায়। কিছু অংশ পাশের একটি ভবনের ওপর পড়ে। এ দূর্ঘটনায় এক হাজার ১৭৫ জন শ্রমিক নিহত এবং দুই হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয় যা বিশ্বের ইতিহাসে ৩য় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

মর্জিনা বেগম ছিলেন সাভারের ধসে পড়ে রানা প্লাজার একাংশের মালিক। এছাড়াও সাভার বাজার রোডের আরেকটি ভবনের একাংশের মালিক তিনি। দুদক তার সম্পদ তথ্য চেয়ে নোটিশ জারি করেন। দুদক কাছে তথ্য দেওয়ার সময় তিনি মিথ্যা ও ভীত্তিহীন তথ্য দেন। এদিকে দুর্নীতির মামলায় রানা প্লাজার অন্যমত মালিক মর্জিনা বেগমকে ৬ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি আসামির সম্পদের ৬ কোটি ৬৭ লাখ ৬৬ হাজার ৯৯০ টাকা বাজেয়াপ্ত করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আজ ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষনা করেন।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী এম সালাউদ্দিন ইস্কেন্দার কিং সাংবাদিকদের জানান, ঢাকার সাভারের বি-৬৯/১, বাজার রোডের আব্দুল খালেকের স্ত্রী মর্জিনা বেগম রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরআগে আসামিকে ৬ বছরের কারাদণ্ডসহ ২০ হাজার টাকা জরিমানা কর হয়েছে এবং অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্ত আসামি মর্জিনা বেগম সাভারের ধসে পড়া রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার মা।

রায়ের আদেশে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর-২৬(২) ও-২৭(১) ধারার আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মোসা. মর্জিনা বেগমকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর-২৬(২) দোষী সাব্যস্ত করে-০৩ (তিন) বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ডসহ ১০,০০০ (দশহাজার) টাকা জরিমানা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর-২৭(১) দোষী সাব্যস্ত করে ৩ (তিন) বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ডসহ ১০,০০০ (দশহাজার) টাকা জরিমানা এবং অবৈধ ভাবে অর্জিত আসামির মালিকানাধীন বাড়ি যাহার নাম্বার-৬৯/১, বাজার রোড, সাভার, ঢাকা এর এক তৃতীয়াংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হল।

মামলা অভিযোগ করা হয়, মর্জিনা বেগম সাভারের রানা প্লাজার একাংশের মালিক। এছাড়াও সাভার বাজার রোডের আরেকটি ভবনের একাংশের মালিক তিনি। দুদক তার সম্পদ তথ্য চেয়ে নোটিশ জারি করেন। দুদক কাছে তথ্য দেওয়ার সময় তিনি মিথ্যা ও ভীত্তিহীন তথ্য দেন। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল রাজধানীর রমনা থানায় দুদকের উপ-পরিচালক মাহমুবুল আলম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে ঘটনার তদন্ত করে ২০১৬ সালের ২৯ আগস্ট মর্জিনা বেগমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত। মামলায় ৮ জন সাক্ষির মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৭ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন