bd24report.com | শিলাবৃষ্টিতে আহত হশতাধিক, প্রতিটি শিলার ওজন কত ছিল জানলে আতকে উঠবেন

শিলাবৃষ্টিতে আহত হশতাধিক, প্রতিটি শিলার ওজন কত ছিল জানলে আতকে উঠবেন

আপডেট: March 30, 2018

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
শিলাবৃষ্টিতে আহত হশতাধিক, প্রতিটি শিলার ওজন কত ছিল জানলে আতকে উঠবেন

তীব্র শিলাবৃষ্টিতে আঘাতে তছনছ হয়ে গেছে গোটা পার্বতীপুর উপজেলা। মাত্র ১০ মিনিটের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার হাজার হাজার বাড়ি-ঘর, শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

এছাড়াও শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে শুরু হওয়া শিলাবৃষ্টিতে সৈয়দ আলী (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক নারী-পুরুষ। তাদের মধ্যে অর্ধশত মানুষকে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।

নিহত সৈয়দ আলীর বাড়ী উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের চৈতাপাড়া গ্রামে। তার পিতার নাম লাল মোহাম্মদ।

অন্যদিকে বৃষ্টির সময় শহরের সবচেয়ে বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তাজ বেকারির টিনের ছাউনি শিলার আঘাতে চৌচির হয়ে গেছে। এতে নষ্ট হয়ে গেছে লক্ষাধিক টাকার খাদ্য সামগ্রী। একই অবস্থা শাহ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, জোনাকী ফুড ভিলেজসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের।

উপজেলার চন্ডিপুর, মোমিনপুর, মন্মথপুর, বেলাইচন্ডিসহ ১০ ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় প্রতিটি বাড়ির টিনের চাল শিলার আঘাতে ছিদ্র হয়ে গেছে। বোরো ধানের ক্ষতি না হলেও সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মারা গেছে বিভিন্ন প্রজাতীর অসংখ্য পাখি।

চন্ডিপুর ইউনিয়নের মুন্সীপাড়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আ. মজিদ (৬৫) জানান, তিনি তার জীবনে এতো বড় আকারের শিলা দেখেননি। প্রতিটি শিলার ওজন ছিল ৪শ থেকে ৭শ গ্রাম পর্যন্ত।

নুরুল মজিদ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম জানান, তার বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষের টিন শিলার আঘাতে ফেটে গেছে। বৃষ্টি আসলে তার মতো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ক্লাস নেওয়া সম্ভব হবে না।

পার্বতীপুর পৌরসভার কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পৌর এলাকার কুলিপাড়া, বাবুপাড়া, সাহেবপাড়া এলাকার নিম্মআয়ের মানুষের টিনের ঘরগুলো শিলার আঘাতে চৌচির হয়ে গেছে। অনেকেই মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে ফেলেছেন।

উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রায়হান আলী জানান, শিলাবৃষ্টির পর হাসপাতালে এসে ২০ জনের মতো চিকিৎসা নিয়েছেন। অধিকংশ নারী-পুরুষের মাথা ফেটে গেছে শিলার আঘাতে। শহরের ল্যাম্ব মিশনারী হাসপাতালেও ২৫ জনের মতো নারী-পুরুষের চিকিৎসা নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এ দিকে শিলাবৃষ্টির পর পরই শহরের ঢেউটিনের দোকানগুলোতে ভিড় বেড়ে গেছে। কালিকাবাড়ী গ্রামের মোস্তাকিম সরকার বলেন, এই সুযোগে টিনের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি বান্ডিল টিনের দাম হঠাৎ করেই ৫শ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

পার্বতীপুর উপজেলা ত্রাণ কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম শিলাবৃষ্টিতে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পার্বতীপুরে ১০ ইউনিয়ন ও পৌরসভায় শিলাবৃষ্টি আঘাত হেনেছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন