৩ বছর পূর্বের মৃত দেখ রাখা হল ফ্রিজে, অত:পর..

তিন বছর হল মা গত হয়েছেন। মায়ের নশ্বর দেহ পিস হাভেন-এ রাখা হয়েছে বলে পাড়াপড়শির কাছে বারংবার বলে এসেছে ছেলে। কিন্তু বাড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ আবিষ্কার করল পিস হাভেন নয়, গত তিন বছর ধরে মৃতা মাকে ফ্রিজে মমি করে রেখে দিয়েছে ছেলে।

শরীরে মাখানো রয়েছে ফর্ম্যালডিহাইড। পেট থেকে বের করে ফেলা হয়েছে নাড়িভুঁড়ি। বেহালার ঘোলসাপুরের এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ফিরিয়ে আনছে রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া। কোথাও যেন মিলেও মিলছে না রবিনসন স্ট্রিটের পার্থ দে ও বেহালার ঘোলসাপুরের শুভব্রত মজুমদার। বেহালার এহেন ঘটনা যেন ছাপিয়ে যাচ্ছে রবিনসন স্ট্রিটকেও।

একসময়ে মেধাবী ছাত্র হিসেবে শুভব্রতবাবুর নামডাক ছিল। লেদার টেকনোলজির ছাত্র ছিলেন। প্রতিবেশীদের বক্তব্য, আগে বানতলার চর্মনগরীর একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন শুভব্রত। সেই কাজও ছেড়ে দেন তিনি। তার পর থেকে বিশেষ কিছুই করতেন না তিনি। মা বীণা মজুমদার ও বাবা গোপাল মজুমদারের সঙ্গেই থাকতেন ভবঘুরে স্বভাবের শুভব্রত।

প্রতিবেশীরা বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বীণাদেবীর মৃত্যু হয় কোনও এক হাসপাতালে। শুভব্রত প্রতিবেশীদের জানান, মায়ের দেহ পিস হাভেনে রাখা হয়েছে। কিন্তু পড়শিদের সন্দেহ কাটেনি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার রাতে শুভব্রতবাবুর বাড়িতে হানা দেয় বেহালা থানার পুলিশ। তখনই পুলিশের নজরে আসে, আইসক্রিম রাখার মতো বড় একটি ফ্রিজে বীণাদেবীর দেহ কার্যত মমি করে রাখা হয়েছে।

সংরক্ষণে যাতে কোনও রকম সমস্যা না হয়, সেই কারণে শুভব্রত তাঁর মায়ের পেট থেকে নাড়িভুঁড়ি বের করে নিয়ে রাসায়নিক মাখিয়ে দেহটি রেখে দেন ফ্রিজে।

তবে কি শুভব্রতবাবুর বাবা বিষয়টা জানতেন না? প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ৮৯ বছরের বৃদ্ধ গোপালবাবু ছেলের এই কীর্তির কথা জানতেন। তবুও তিনি উচ্চবাচ্য করেননি কেন? ছেলের আজব কাণ্ডকারখানাকে কেন সমর্থন করেছেন?

প্রতিবেশীরা বলছেন অন্য কথা। বীণা দেবী সরকারি চাকুরে ছিলেন। তাঁর পেনশন পাওয়ার জন্যই নাকি এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এমনটাই বলছেন প্রতিবেশীরা। গোপালবাবুর কাছে স্ত্রী-র ডেথ সার্টিফিকেট চাওয়া হলে, তিনি তা দেখাননি বলে অভিযোগ।

শুভব্রতবাবুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তাঁর বাবাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।