২৪, নভেম্বর, ২০১৭, শুক্রবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

এবার মুক্তি পেতে যাচ্ছে শিশু জাহিদ

৩১ জুলাই ২০১৭, ১০:৩৩

জাহিদের জিহ্বা এতটাই বড় যে, এর একটা অংশ সবসময় মুখের বাইরে বের হয়ে থাকে।  একে মুখের ভিতরে নেওয়ার চেষ্টা করলে নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় তার।  স্পষ্টভাবে কথাও বলতে পারে না সে।  জন্ম থেকেই এই যন্ত্রণা নিয়ে বেড়ে উঠেছে জাহিদ।  জিহ্বা বড় হওয়ার এই যন্ত্রণা থেকে এবার সে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।  সে ইঙ্গিতই দিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

জাহিদের জিহ্বার অপারেশন হয়েছে।  এ অপারেশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান
অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক কাজল ও ঢামেক হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. ইউসুফ ফকির। 

চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক কাজাল  বলেন, জাহিদের অপারেশন হয়েছে।  সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা ১১টা ১৫ পর্যন্ত অপারেশন চলে।  জাহিদ এখন পোস্ট অপারেটিভে রয়েছে।  সেখানেও আমরা তাকে দেখেছি, ছেলেটা ভালো আছে।  জাহিদের জিহ্বার বাড়তি অংশটা আমরা ফেলে দিয়েছি।  অপারেশনের পরে তার জিহ্বার শেপটাও ভালোই আছে।  অপারেশনের ফল পেতে বেশিরভাগ সময় দেড় থেকে দুই মাস অপেক্ষা করতে হয়।  তবে আমরা আশা করছি, জাহিদকে এতদিন অপেক্ষা করতে হবে না, সে দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবে। ’

সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের মামুন বিশ্বাস জাহিদকে নিয়ে পোস্ট দেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।  মামুন বিশ্বাসের ফেসবুক পোস্ট চোখে পড়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. সিরাজুল ইসলামের।  তিনি নিজের ফেসবুক ওয়ালে জাহিদকে নিয়ে একটি পোস্ট দেন। 

অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক কাজল সচিব মো. সিরাজুল ইসলামকে জানান, তারা শিশু জাহিদের অপারেশন করতে আগ্রহী।  এরপরই মো. সিরাজুল ইসলাম উদ্যোগী হয়ে জাহিদকে নিয়ে আসেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে।  সেখানে জাহিদ ভর্তি হয় শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক কাজলের অধীনে। 

জাহিদের বাবা আলিম উদ্দিন অন্যের জমিতে কাজ করেন, আর মা জাহেদা বেগম গৃহিণী।  এই দম্পতির দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।  আলিম উদ্দিন জানান, জন্মের পর একমাত্র ছেলের অস্বাভাবিক জিহ্বা দেখে ঢাকার শিশু হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন একবার।  কিন্তু তখন চিকিৎসা করানোর মতো টাকা না থাকার কারণে অপারেশন করানো সম্ভব হয়নি। 

আলিম উদ্দিন আরও জানান, নিজ বাড়িতেই ছেলেকে নিয়ে কটু কথা শুনতে হয়েছে তাকে।  জিহ্বা বড় হওয়ায় শিক্ষকরা তার ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করেননি বলেও জানান তিনি। 

ঢামেক হাসপাতালে জাহিদকে দেখতে গেছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম

হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর শিশু জাহিদকে দেখতে আসেন স্বাস্থ্য সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম।  তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস ছিল, চিকিৎসকরা শিশু জাহিদ এবং সবুজকে সুস্থ করে তুলতে পারবেন।  কিন্তু সবুজের পরিবার রাজি না হওয়াতে সে বাড়ি ফিরে গেছে।  তবে জাহিদের অপারেশন সফল হয়েছে এবং আমি আশা করছি, জাহিদ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে। ’