২০, নভেম্বর, ২০১৭, সোমবার | | ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

সৌদি আরবে চুয়াডাঙ্গার সেই গৃহবধূর সারাশরীরে ভয়াবহ নির্যাতনের চিহ্ন

২৯ আগস্ট ২০১৭, ১১:১৯

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার শিবপুর গ্রামের জিনারুল ও তার স্ত্রী সালমা খাতুনকে মোটা অঙ্কের বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে দেড় লাখ টাকা নেন দালাল চক্রের সদস্য ও একই উপজেলার কমলাপুর গ্রামের মৃত জলিল মণ্ডলের ছেলে হাবলু। 

এর এক মাস পর স্বামী জিনারুল ইসলামকে না পাঠিয়ে স্ত্রী সালমা খাতুনকে রাজধানী গুলশান-২ নতুন বাজারের ‘আল জাহান এজেন্সি’র মাধ্যমে সৌদি আরব পাঠানো হয়।  সেখানে গিয়ে সালমা একটি বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ শুরু করেন।  মাস দুয়েকের মাথায়
সালমা বুঝতে পারেন হাবলুরা তাকে ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে। 

এটা জানার পর সালমা খাতুন যখন ক্রীতদাস হিসেবে থাকতে অস্বীকৃতি জানান, তখনই তার ওপর শুরু হয় নির্মম নির্যাতন।  নির্যাতনের কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।  দুই দফা হাসপাতালে নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সহযোগিতায় তিনি সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসে পৌঁছান।  পরে দূতাবাসের কর্মকর্তারা গত বৃহস্পতিবার তাকে দেশে ফেরত পাঠায়।  এরপর শুক্রবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 
 
সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ প্রতারকের খপ্পড়ে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রাজধানীর ভাটারায় নতুন বাজার এলাকার ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসায়ীরা।   সোমবার একাধিক ট্রাভেল এজেন্সির লোকজন এমন তথ্য জানান। 

চুয়াডাঙ্গা জেলার নির্যাতিত গৃহবধূ আল জাহান নামে যে এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন সেই নামের কোনও এজেন্সি বায়রার বৈধ তালিকায় নেই।  এছাড়া ‘আল জাহান’ নামে কোনও ট্রাভেল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা রিক্রুটিং এজেন্সির নামও শোনেননি বলে দাবি করেন তারা। 

আল-আমিন ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজমের মালিক আক্তার হোসেন বলেন, ‘আমার জানা মতে  এই এলাকায় আল জাহান নামে কোনও রিক্রুটিং এজেন্সির অফিস নাই। 

রফিক অ্যান্ড সন্স রিক্রুটিং এজেন্সির খোরশেদ আলম বলেন, সৌদি আরবে নারী শ্রমিকদের পাঠাতে কোনও নারীর কাছ থেকে একটি টাকাও নেওয়ার কথা নয় এজেন্সির লোকজনের।  কারণ, সৌদি নাগরিক তার বাড়ির গৃহকর্মীর জন্য সরাসরি সৌদিয়ান এজেন্সির সঙ্গে দুই হাজার ডলারের চুক্তি করেন।  চুক্তি করা ওই টাকা থেকেই নারী শ্রমিকের আসা যাওয়ার ব্যয় ভার, এমনকি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নগদ দেওয়া হয়ে থাকে।  এদেশের এজেন্সির সঙ্গে সৌদি এজেন্সির লোকজনের মাধ্যমেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।  এক্ষেত্রে সবখানেই বাংলাদেশি দালালের ভূমিকা থাকে। 

তিনি আরও বলেন, ‘আল জাহান নামে  বায়রার তালিকায় কোনও রিক্রুটিং এজেন্সি নাই।  তবে আল জাহাঙ্গীর নামে একটি এজেন্সি আছে।  যারা সৌদি আরবে লোক পাঠিয়ে থাকে।  আল জাহাঙ্গীরের লাইসেন্স নম্বর ৬৬৯।  ’

তিনি বলেন, ‘এখন ওই গৃহবধূকে কাগজপত্র সরবরাহ করতে হবে।  কারা তাকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিল।  নাম পরিচয় ঠিক থাকলে তাকে ওই অফিসের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে হবে।  অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য তারা। ’

তার তথ্য মতে,  এজেন্সির মালিকরা জানান, স্থানীয় দালালের প্রতারণার খপ্পড়ে পড়েছিলেন ওই নারী।  এখন দালালকে গ্রেফতার করলেই মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলম ডাঙ্গা থানার ওসি আক্রাম হোসেন বলেন, ‘সোমবার সকালে একটি মামলা হয়েছে।  মামলায় রাজধানীর বারিধারা এলাকার প্রগতি স্মরণীর ১২ নম্বর জে ব্লকে আল জাহান ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি এজেন্সির মালিক আব্দুল হাইসহ দু’জনকে আসামি করা হয়েছে। ’ সূত্র:  বাংলাট্রিবিউন