২০, নভেম্বর, ২০১৭, সোমবার | | ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

জালিয়াতি করে মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি!

২৯ আগস্ট ২০১৭, ১২:১২

তিন কোটি ৪৭ লাখ টাকার এলসি (ঋণপত্র) খুলে এক হাজার ৪০ কোটি টাকার অবৈধ পণ্য আমদানি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।   

এ জালিয়াতি করতে মিথ্যা নাম-ঠিকানা ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এলসি খুলে ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য আমদানি করে। 

সাম্প্রতিক সময়ে ঘটনাটি জালিয়াতির মাধ্যমে সবচেয়ে বড় শুল্ক ও মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে শুল্ক গোয়েন্দা তদন্ত অধিদফতর। 
 
সম্প্রতি অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল
খান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বরাবর এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।  প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শুল্ক গোয়েন্দা তদন্ত অধিদফতরের নিকট গোপন সংবাদ ছিল যে, চট্টগ্রাম বন্দরে ১২টি কন্টেইনারে পোল্ট্রি ফিডের ক্যাপিটাল মেশিনারি ঘোষণা দিয়ে প্রকৃতপক্ষে আমদানি নিয়ন্ত্রিত ও আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি করে খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছে।  এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা গত ৫ ও ৬ মার্চ বন্দর কাস্টমস ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে ইনভেন্টরি (বর্ণনামূলক তালিকা)করে বর্ণিত ১২টি কন্টেইনারে ক্যাপিটাল মেশিনারির পরিবর্তে প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ সিগারেট, এলইডি টেলিভিশন, পুরাতন ফটোকপি মেশিন, মদ ও গুঁড়োদুধ পান। 

পরবর্তীতে তদন্তে দেখা যায়, আমদানিকারক গত এক বছরে আরও ৭৮টি কন্টেইনার খালাস নিয়েছেন।  সর্বশেষ মিথ্যা ঘোষণায় আনা ১২টি কন্টেইনারের পণ্যের উপস্থিতি দেখে ধারণা করা যায়, পূর্বে খালাস করা পণ্যেও একইভাবে অবৈধ পণ্য আনা হয়েছে।  সেই হিসেবে ৭৮টি কন্টেইনারের মোট মূল্য দাঁড়ায় এক হাজার ৪০ কোটি টাকা।  অথচ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পরিশোধ হয়েছে মাত্র তিন কোটি ৪৭ লাখ টাকা।  বাকি টাকা অবৈধ পন্থায় (হুন্ডি) পাচার করা হয়েছে।  যা সাম্প্রতিক সময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে সবচেয়ে বড় শুল্ক ও মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। 

মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্যসমূহ জব্দ করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন গত ৯ মার্চ চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে প্রেরণ করা হয়।  ওই ঘটনার সঙ্গে আমদানি নীতি আদেশ ভঙ্গ ছাড়াও অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা- তা নিরূপণের নিমিত্তে দফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।  অনুসন্ধানের স্বার্থে গঠিত কমিটির আরও পাঁচ সদস্যকে কো-অপট (সংযুক্ত) করে। 

গঠিত কমিটি দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে অপরাধের ধরন ও দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। 

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, মেসার্স হেনান আনহুই এগ্রো এলসি, খিলক্ষেত, ঢাকা এবং এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা কর্তৃক আইএফআইসি ব্যাংক, নয়াপল্টন শাখার মাধ্যমে এলসি খুলে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ঘোষণায় প্রতিটি চালানে ছয়টি কর দুটি চালানে মোট ১২টি কন্টেইনার আমদানি করে।  প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আবদুল মোতালেব। 

ঠিকানা- গ্রাম: পাতিরা, ইউনিয়ন: ডুমনী, থানা: খিলক্ষেত।  জনৈক খোরশেদ আলমের ছবি আবদুল মোতালেব হিসেবে ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে আইএফআইসি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এলসি খুলে ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য আমদানি করা হয় এবং সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স রাবেয়া অ্যান্ড সন্স’র মাধ্যমে অন-চেসিস ডেলিভারি নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে স্ক্যানিং প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় আমাদনি নিষিদ্ধ ও শর্তযুক্ত পণ্যকে পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মূলধনী যন্ত্রপাতি ঘোষণা দিয়ে খালাস নেয়ার অপচেষ্টা করা হয়।  সূত্র: জাগো নিউজ