২৫, সেপ্টেম্বর, ২০১৭, সোমবার | | ৪ মুহররম ১৪৩৯

কমে যাচ্ছে বিয়ের প্রবণতা, এর পেছনে যেটি সম্পূর্ণভাবে দায়ী

০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:২৬

বর্তমান সময়ে কমে যাচ্ছে বিয়ের প্রবণতা৷ কারণ শারীরিক মিলন এখন বাজারে কিনতে পাওয়া যায়৷ বরাবরই যেত৷ কিন্তু ইদানিং সস্তায় বাজিমাতের লোভ সামলাতে পারে না অনেকে৷ রোজকার ইঁদুর দৌঁড়ের মাঝে খনিকের আনন্দ পেতে এখন মানুষের ঠিকানা ‘চিপ সেক্স’৷

আমেরিকায় এই ‘চিপ সেক্স’ বেড়েছে আশ্চর্যরকম বেশি৷ সমাজবিজ্ঞানী মার্ক রেগনার্সের মতে, ২০০০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে সে দেশে বিয়ের হার কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ৷ আর এই পুরোটাই হয়েছে ২৫ থেকে ৩৪ বছরের ব্যক্তিদের
মধ্যে৷ তার মতে ‘চিপ সেক্স’ একটি অর্থনৈতিক শব্দ৷ সাদা বাংলায় যাকে বলে কম খরচে সময় বা অনুভূতির পিছনে বিনিয়োগ করা৷ তিনি ও অ্যান্টনি গিডনেস একটি বই লিখেছেন৷ নাম ‘চিপ সেক্স: দ্য ট্রান্সফর্মেশন অফ মেন, ম্যারেজ অ্যান্ড মোরোগ্র্যামি৷’ সেখানে তারা বলেছেন, দু’টি মার্কেট একে অপরের উপর চেপে বসেছে৷ একটি বিয়ে, অন্যটি যৌনতা৷

আগেকার দিনে বিয়ের আগে পর্যন্ত শারীরিক সম্পর্কের দিকে যেত না মেয়েরা৷ কিন্তু এখন অত্যধিক স্বাধীনতা ও পর্নোগ্রাফির জামানায় যৌনতা যেকোনো সময় খুব সহজেই পাওয়া যায়৷ এই কারণে ছেলেরা বিয়ের দিকে ততটা উত্সাহিত থাকে না৷

রেগনারের মতে, ২০ জনের ছেলের মধ্যে গড়ে ৩ জনই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চায় না৷ এর জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ি ‘চিপ সেক্স’৷ এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার খামতি ও চাকরির হার কমে যাওয়ার পিছনেও ‘চিপ সেক্স’-ই কারণ বলে মনে করেন তিনি৷ তার মতে, এখন ছেলেরা সেক্স পাওয়ার জন্য শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিশ্রম করে না বা ক্যারিয়ারে ফোকাস করে না৷ যৌনতা এখন স্বাধীন ও সহজ৷ এটাই আজকাল ছেলেদের মাদক৷

নারীদের কাছে মনে হয়, ছেলেরা কমিটমেন্টে যেতে পারে না৷ প্রতিশ্রুতি দিতে তারা ভয় পায়৷ কিন্তু সাধারণত ছেলেরা কমিটমেন্টে ভয় পায় না৷ আসলে বিয়ের বাজারে এখনো ছেলেরা চালকের আসনে বসে আছে৷ তারা তাদের স্বার্থ ও পছন্দগুলোকে গুরুত্ব দেয়৷ আর তার দিকেই তারা যাত্রা করে৷ সেই কারণে বিয়ে অধিকাংশ সময়ই সুখের হয় না৷ এমনকী তিনি এই প্রসঙ্গে ফিফটি শেডস অফ গ্রে সিনেমার কথাও উল্লেখ করেছেন৷

বলেছেন, এটি ফিকশন৷ এটি তৈরি করা হয়েছে৷ কিন্তু যদি ২ বছরে এর ১০০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়, তাহলে বুঝতে হবে নিশ্চয়ই এর মধ্যে কিছু আছে৷
 সূত্র: কোলকাতা ২৪x৭