২৪, নভেম্বর, ২০১৭, শুক্রবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য নিয়ে এক চমকপ্রদ তথ্য দিলেন গবেষকরা

০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:১০

লোকে বলে প্রেম নাকি অন্ধ।  প্রেম নাকি বয়সের ধার ধারেনা।  যখন কাউকে ভালো লেগে যায়, তখন প্রিয় মানুষটির বয়স কতো সেটা হিসেব কষার অবকাশ থাকে না।  শুধু তাই নয় বিয়ের ক্ষেত্রেও অনেক সময় দেখা যায় স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান একটু বেশিই থাকে। 

বর্তমানে স্বামী-স্ত্রীর বয়সটা মিলিয়ে দেখলেও আগের দিনে সাত বছরের শিশুর সঙ্গে ৭০ বছরের বুড়োর বিয়ে হতেও দেখা গেছে। 

এছাড়া বাবা-মা,  নানা-নানী বা দাদা-দাদীর মধ্যে বয়সের পার্থক্যটা বেশি থাকতো।  কিন্তু তারপরও
তারা বেশ সুখেই জীবন কাটিয়েছেন। 

তবে সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রী মধ্যে যদি বয়সের পার্থক্য খুব বেশি থাকে, তাহলে সেই সম্পর্ক একবারেই স্থিতিশীল হয় না।  বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, বিয়ের আগে স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য কত? সেটা মিলিয়ে দেখাটা জরুরি। 

এখন প্রশ্ন আসতে পারে বয়সটা বেশি হলে সমস্যা কোথায়?

ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোর বিজ্ঞানীদের করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, সম বয়সী অথবা একটু কম বয়সী পাত্রীর সঙ্গে বিয়ে করার পর বৈবাহিক জীবনে সুখের সন্ধান পেয়ে থাকেন ছেলেরা।  কিন্তু খুব কম বয়সী মেয়েকে বিয়ে করলে একেবারেই তা সম্ভব হয় না। 

মেয়েদের ক্ষেত্রেও একই লক্ষণ দেখা গেছে।  তাদের থেকে বেশি বয়সের কারো সঙ্গে বিয়ে হলে প্রথম প্রথম সবকিছু ভালো লাগে।  কিন্তু কিছু বছর যাওয়ার পর সম্পর্কে ভাঙন ধরতে শুরু করে।  সেই সঙ্গে বাড়তে শুরু করে স্ট্রেস এবং মানিসক অবসাদও। 

গবেষকরা দেখেছেন, বয়সের পার্থক্য বেশি হলে ৪-৫ বছরের পর থেকে স্বামী-স্ত্রী, উভয়ের মধ্যেই সেটিসফ্যাকশন লেভেল খুব কমে যায়।  সেই সঙ্গে মতের অমিল হতেও শুরু করে।  ফলে স্বাভাবিকভাবেই তার প্রভাব পরে সম্পর্ক এবং শরীরের ওপর। 

শুধু তাই নয়, স্ট্রেসের কারণে শরীরও ভাঙতে শুরু করে।  সেই সঙ্গে ব্লাড প্রেসারসহ একাধিক মরণঘাতী রোগ এসে বাসা বাঁধে দেহে।  ফলে সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়। 

সমবয়সীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করলে মনের মিল হওয়ার সম্ভাবনাটা অনের বেড়ে যায়।  সেই সঙ্গে সামাজিক এবং পারিবারিক নানা সমস্যায় চলজলদি সমাধান বার করতেও এমন দম্পতিরা বেশ সক্ষম হন। 

এরা দুজনেই কম-বেশি ম্যাচিওরড হন, শুধু তাই নয়, মানসিকতায় মিল থাকার কারণে বিপদে একে অপরের বড় সাপোর্টার হয়ে দাঁড়াতে পারেন।  ফলে কঠিন সময় পেরোতে যেমন কষ্ট হয় না, তেমনি সম্পর্কের বাঁধনটাও মজবুত হয়। 

অন্যদিকে বয়সের পার্থক্য রয়েছে এমন দম্পতিরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কঠিন সময়ে তাদের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। 

গবেষণায় আরো দেখা যায়, যেসব দম্পতিদের মধ্যে বয়সের পার্থক্য খুব কম হয়, তারা যে কোনোও পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।  ফলে জীবন যুদ্ধটা অনেক সহজ হয়ে যায়।