২৬, সেপ্টেম্বর, ২০১৭, মঙ্গলবার | | ৫ মুহররম ১৪৩৯

একদিকে বন্যা, অন্যদিকে রোহিঙ্গা, উভয় সংকটে বাংলাদেশ

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৪:৪৫

বন্যায় টালমাটাল অবস্থা বাংলাদেশের।  দেশের ১৬টি জেলায় একযোগে বন্যা শুরু হয়েছিল জুলাইয়ে।   বাংলাদেশের অন্তত ১৬টি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এবার বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।  জুলাই মাসে শুরু হওয়া এ বন্যায় সরকারি হিসেবেই ৩৪ লাখের বেশি মানুষ দুর্গত হয়েছে।  

২৮শে জুলাই যমুনার পানি বিপদসীমার ১২১ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।  এর প্রভাবে জামালপুরের নিচু এলাকা এবং চরাঞ্চল তলিয়ে যায়। 

বহু বাড়ি-ঘর এমনকি প্রধান সড়কও পানিতে তলিয়ে গেছে এ বন্যায়। 
পানি বন্দী হয় দেড় লাখের বেশি পরিবার।  ফসলি জমি, মাঠ-ঘাট সবই ছিল পানির নিচে।  সাময়িক বন্ধ হয়ে যায় শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 

অনবরত বৃষ্টির সাথে বাংলাদেশের মানুষের গলার কাটা হয়ে বিধেছিল ভারত থেকে আসা পানি।  গবাধী পশু থেকে শুরু করে মানুষের মৃত্যুর মিছিল চলছিল।  ছিল সাপের উপদ্রব ।  ঘরবাড়ি হারিয়ে মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে।  সহায় সম্বল হারিয়ে মানুষ দিনাতিপাত করেছে অতি কষ্টে।  অভুক্ত থেকেছে দিনের পর দিন।  

এখন যখন বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এসব মানুষদের পূর্নবাসনে মনোযোগ দিবে সরকার ও বিভিন্ন সংগঠন গুলো তখনই নতুন বিপর্যয়ে বাংলাদেশ।  এই বিপর্যয়ের নাম রোহিঙ্গা।  মিয়ানমারের সেনা ও মগ সম্প্রদায়ের মানুষ মেতে উঠেছে রোহিঙ্গা নিধনের উৎসবে।  হাজারো রোহিঙ্গা যুবক বৃদ্ধদের মেরেছে গুলি করে।  নারীদের প্রথমে ধর্ষণ পরে করেছে জবাই।  বাদ যায়নি শিশুরাও।  জালিয়ে দিয়েছে ঘরবাড়ি।  রাখাইন রাজ্যে এই তান্ডব চালানোর কারনে প্রান বাঁচাতে রোহিঙ্গারা ছুটে আসছে বাংলাদেশের দিকে।  আশ্রয় নিচ্ছে বাংলাদেশে।  

সরকারি হিসেবে প্রায় সারে তিন লাখ রোহিঙ্গা এরই মধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।  বিভিন্ন সংগঠন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য করা হচ্ছে এসব রোহিঙ্গাদের।  ত্রান বিতরন করা হচ্ছে তাদের মাঝে।  প্রয়োজনীয় সব রকমের সহায়তা করছে সরকার।  সরকারি উদ্যোগের সাথে বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী সংগঠন গুলো রোহিঙ্গাদের সাহায্যে পাশে এসে দাড়াচ্ছে।  

কিন্তু এই সময়ে সরকারের থাকার কথা ছিল বন্যায় আক্রান্ত মানুষদের পাশে।  তাদের বন্যা পরবর্তী বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য।  তাদের পূনর্বাসন করার জন্য।  কিন্তু  এখন সরকারের থাকতে হচ্ছে অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে।  রোহিঙ্গাদের ভীড়ে বাংলাদেশে যে বন্যা হয়েছিল সেই কথাই এখন মানুষ বেমালুম ভুলে গেছে।  

তাই এখনই সরকারের উচিত, মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য স্থায়ী কোন ব্যবস্থা নেওয়া।  সেই সাথে বাংলাদেশের উচিত আন্তর্জাতিক ভাবে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ করা।  মোটকথা এখন সময় এসেছে রোহিঙ্গাদের একটা স্থায়ী সমাধানের।  বাংলাদেশের মানুষ রোহিঙ্গাদের দায়ভার সারা বছর নিবেনা।  তখন রোহিঙ্গা মুসলিমদের কি হবে? তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমার থেকে তাদের উচ্ছেদ করে দিবে তা তো হতে পারেনা।  মিয়ানমার তাদের সে দেশের নাগরিক বলেই গন্য করেনা।  কিন্ত কেন ? এভাবে তো কোন সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার হত্যাযজ্ঞ চালানো যেতে পারেনা।  তাদের অধিকার তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে।  আরাকান রাজ্য রোহিঙ্গা মুসলিমদের এবং সেখানেই তাদের থাকার ব্যবস্থা করার জন্য মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে।  

 

লেখা: এস এম জুয়েল