২৬, সেপ্টেম্বর, ২০১৭, মঙ্গলবার | | ৫ মুহররম ১৪৩৯

রোহিঙ্গা পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কোথায়?

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:২৯

নিউজ ডেস্ক- টেকনাফের কুতুপালং ক্যাম্পে সপ্তাহখানেক আগে এসেছেন আলমাস খাতুন।  এখনো থাকার বন্দোবস্ত হয়নি।  ক্যাম্পে এক পরিচিতজনের সাথে আছেন।  জানতে চেয়েছিলাম তার সাথে পরিবারের আর কে কে এসেছেন বাংলাদেশে। 

আলমাস খাতুন বলছিলেন তার স্বামী এবং একমাত্র ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।  এরপর মায়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের ধরে নিয়ে গেছে।  তিনি জানেন না আদেৌ তারা বেঁচে আছেন কিনা।  খবর বিবিসির। 

আলমাস খাতুনের মত অনেক নারী ও শিশু বাংলাদেশের কক্সবাজার
এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।  বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবারের পুরুষ সদস্যরা তাদের সাথে আসেনি।  তাহলে তাদের পরিণতি কি হয়েছে?

রাখাইন রাজ্য থেকে আসা আরেক জন নারী শরণার্থীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল।  আমার সাথে কথা বলার সময় তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছিলেন। 

ওই নারী বলেন, তার স্বামী এবং তার তিন ছেলেকে তার সামনেই হত্যা করা হয়েছে।  দুই ছেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে গুলি করা হয়।  সেখানেই মৃত্যুর কোলে লুটিয়ে পড়ে। 

তিনি আরো বলেন, পৃথিবীতে এখন আমার কেউ নেই।  সব শেষ হয়ে গেছে। 

গত ২৫শে অগাষ্ট হতে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে বলে ধারণা করছে ত্রাণ সংস্থাগুলো।  কিন্তু স্থানীয় মানুষ এবং জনপ্রতিনিধিরা বলছে শরণার্থীর সংখ্যা আসলে সাড়ে ৫ লাখের বেশি। 

এই বিপুল সংখ্যাক শরণার্থীর বড় অংশই নারী এবং শিশু।  পালিয়ে আসা এসব মানুষ বলছে, তাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যদের বেশির ক্ষেত্রেই হত্যা করা হয়েছে।  অথবা নিখোঁজ আছে। 

মোহাদ্দেসা নামে এক নারী বলেন, তার স্বামী, এক ছেলে এবং শ্বশুরকে মায়ানমারের সেনাবাহিনী হত্যা করেছে।  সেনাবাহিনীর সন্দেহ ছিল তার স্বামী আল ইয়াকিন নামের একটি গ্রুপের সদস্য। 

মায়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের উপর হামলার কারণ হিসেবে আরাকান রোহিংগা স্যালভেশন আর্মি বা আরসাকে দায়ি করছে।  এই সংগঠনটি স্থানীয় ভাবে হারাকাহ আল ইয়াকিন নামে পরিচিত ছিল। 

তবে স্থানীয় ভাবে একটা গুঞ্জন রয়েছে বেশ কিছু পরিবারের পুরুষ সদস্যরা মায়ানমারে রয়ে গেছেন তাদের ভাষায় লড়াই এ অংশ নেয়ার জন্য।  তবে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।