২৬, সেপ্টেম্বর, ২০১৭, মঙ্গলবার | | ৫ মুহররম ১৪৩৯

মাছ চেনার উপায়

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০:০৫


১) তাজা মাছ কখনো শক্ত হবে না, আবার নরমও হবে না।  তাজা মাছ হবে ‘বাউন্সি’।  যদি আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে দেখেন যে মাছ একদম শক্ত, বুঝবেন যে সেটা ফ্রিজে রাখা ছিল।  আর যদি আঙুল দিলেই ডেবে যায় ভেতরে, বুঝবেন মাছের বয়স হয়েছে।  তাজা মাছে আপনি আঙুল দিয়ে চাপ দিলে ডেবে যাবে।  কিন্তু আঙুল সরিয়ে নিলেই জায়গাটা ঠিক হয়ে যাবে। 
২) তাজা মাছের চোখ সবসময় স্বচ্ছ হবে।  একদম ঝকঝকে চোখ হবে, দেখলে মনে হবে মাছটি জীবন্ত।  সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চোখ ঘোলাটে, মৃত হয়ে আসে।  যত সময়
যায়, চোখ তত নিষ্প্রাণ হয়।  ফরমালিনে মাছের মাংস পচে না ঠিকই, কিন্তু চোখের জীবন্ত ভাব নষ্ট হওয়া ঠেকানো যায় না।  চোখ দেখলেই চিনে নিতে পারবেন তাজা মাছ। 
৩) মাছের কানকো দেখাটা তাজা মাছ চেনার একটা ভাল উপায়।  যদিও মাছের কানকোতে এখন রং মিশিয়ে রাখেন দোকানিরা।  তাই শুধু কানকো দেখে মাছ কিনবেন না।  জেনে রাখুন, তাজা মাছের কানকো হবে তাজা রক্তের রঙের এবং পিচ্ছিল, স্লাইমি ভাব থাকবে। 

৪) চোখ আর কানকো দেখার পর মাছের শরীর দেখুন।  মাছের শরীর কি চকচকে আর উজ্জ্বল রূপোলি রংয়ের? বিশেষ করে সুপার শপের মাছে দেখবেন চকচকে রূপালি রঙের বদলে হলদে বা অন্য রঙের আভা দেখা যায় মাছের গায়ে।  এতে বুঝে নেবেন যে মাছটি অতি অবশ্যই অনেক দিনের পুরনো।  তাজা মাছ চকচক করবে, সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চকচকে ভাব একেবারেই ম্লান হয়ে যাবে, তা সে যতই ফরমালিন দেওয়া হোক না কেন। 
৫) তাজা মাছের গন্ধ হবে জলের মত, সামুদ্রিক মাছ হলে সমুদ্রের মত।  শসার গন্ধের সঙ্গেও মিল পেতে পারেন।  যে মাছ থেকে দুর্গন্ধ আসবে, সেটা নিঃসন্দেহে তাজা মাছ নয়। 
৬) জিওল মাছ যেমন শিং, মাগুর, শোল ইত্যাদি কিনতে গেলেও সাবধান।  আজকাল দোকানিরা মরা জিওল মাছকেও তাজা বলে ধরিয়ে দেন।  জিওল মাছ যদি ট্যাংকের মাঝে ঘোরাফেরা করে, ধরতে গেলে ছটফট করে তাহলে সেই মাছ কিনুন।  আগে থেকে বের করে ট্রে-তে সাজিয়ে রাখা মাছ নয়। 
৭) সুপার শপের কেটে রাখা মাছ বা ফিশ ফিলে কিনতে চান? কাটা মাছের রং লক্ষ্য করুন। , তাজা মাছের মাংস হবে উজ্জ্বল রঙের।  রঙ যত বিবর্ণ, মাছ তত পচা। 
৮) বাজারে কেটে দেওয়া মাছ কিনবেন? ভালো করে লক্ষ্য করুন মাছের আশেপাশে কোনও সাদা বা ফ্যাকাশে রংয়ের জল রয়েছে কিনা।  যদি থাকে, বুঝবেন মাছ ভালো নয়।  তাজা মাছের আশেপাশে স্বচ্ছ জল থাকবে। 
৯) চিংড়ি মাছের ক্ষেত্রে কিন্তু পদ্ধতি ভিন্ন।  যদি চিংড়ি মাছের খোসা শক্ত আর ক্রিসপি থাকে, তাহলে মাছ তাজা।  যদি খোসা নরম আর নেতিয়ে পড়া হয়, তাহলে মাছ ভালো নয়।