১৯, নভেম্বর, ২০১৭, রোববার | | ২৯ সফর ১৪৩৯

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি বৈঠক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:১৯

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।  রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করতে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। 

বুধবার ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।  জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান রাখাইন প্রদেশের সহিংসতার ঘটনাকে জাতিগত নিধন বলে সতর্ক করার পরেই জরুরি বৈঠক ডাকল সংস্থাটি। 

রাখাইনে সেনাবাহিনীর অত্যাচার, নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে
হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম।  মিয়ানমার থেকে পালিয়ে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। 

এদিকে, নিজেদের দেশে থাকা প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেয়ায় ভারতের সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল।  সোমবার কাউন্সিলের ৩৬তম অধিবেশনে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাদ আল হুসেইন ভারতের সমালোচনা করেন। 

গত ২৫ আগস্টে বেশ কয়েকটি পুলিশ চেক পোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনে সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার সরকার।  তারপরই দ্বিতীয়বারের মতো সহিংসতা শুরু হয় রাখাইনে। 

সোমবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের প্রধান জেইদ রা’দ আল হুসেইন রাখাইনে ‘নৃশংস সামরিক অভিযান’ গুটিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।  তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের লক্ষ্য করে দেশটির সেনাবাহিনী যে অভিযান পরিচালনা করছে তা জাতিগত নিধনের সামিল। 

ওই সতর্কতার পরেই বুধবার এই সংকট নিয়ে কথা বলতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে নিরাপত্তা পরিষদ।  তবে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নীরব ভূমিকার কারণে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার শিকার হচ্ছেন দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি।  শান্তিতে নোবেল পাওয়া এই নেত্রী রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য কেন কিছু করছেন না তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে।  অনেকেই তার এই অবস্থানকে দুর্বল রাজনৈতিক কৌশল বলে উল্লেখ করেছেন। 

 মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন ও হত্যার কারণে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা পৌণে চার লাখ শরণার্থীদের মধ্যে দুই লাখ শিশু স্বাস্থ্য ঝুকিতে আছে।  কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া ওইসব শিশুদের জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফ। 
 
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই মানবিক সংকট ক্রমশ বড় আকার ধারণ করছে।  আর এই সঙ্কটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে শিশুরা।  প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের মোট সংখ্যার ৬০ শতাংশই শিশু। 
 
ঢাকা থেকে ইউনিসেফের সহায়তার জরুরি সামগ্রী কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। 
 
ইউনিসেফ জানিয়েছে, মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে ক্যাম্পগুলোতে সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের প্রয়োজন।  সেজন্য প্রাথমিকভাবে ৭৩ লাখ ডলার প্রয়োজন। 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদী থেকে আরো সাত রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।  তাঁদের কারো কারো শরীরে কোপানোর দাগ রয়েছে। 

আজ বুধবার সকালে ও গতকাল মঙ্গলবার রাতে শাহপরীর দ্বীপ, জালিয়াপাড়া ও নাজিপাড়া এলাকা থেকে এসব লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈন উদ্দিন খান। 

পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল রাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে কয়েকটি নৌকা কক্সবাজারের শাহপরীর দ্বীপের দিকে আসার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।  রাতে নাফ নদীর মোহনা শাহপরীর দ্বীপের কাছ থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।  পরে জালিয়াপাড়া থেকে দুই পুরুষ ও এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

সর্বশেষ আজ সকালে নাজিপাড়ায় আরো দুই নারীর লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।  পুলিশ গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করে। 

এদিকে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা সকালে জানিয়েছেন, যে দুই পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের গায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর চিহ্ন রয়েছে।  মনে হচ্ছে, জখম হওয়ার পর তাঁরা নৌকায় করে নাফ নদী পাড়ি দিচ্ছিলেন।  তার মধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হন। 

আগস্টের শেষ সপ্তাহে রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর প্রায় তিন লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।  বিপদসংকুল নদী ও সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।  সরকারি-বেসরকারি হিসাবমতে, এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।  তবে নিখোঁজের কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।