১৯, নভেম্বর, ২০১৭, রোববার | | ২৯ সফর ১৪৩৯

আপত্তিকর অবস্থায় যুবক যুবতী আটক, পরিকল্পনা নাকি প্রেম!

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৩:১০

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সহড়াবাড়ীয়া গ্রামে অপত্তিকর অবস্থায় যুবক ও যুবতীকে আটক করেছে গ্রামবাসী।  যুবতীর বাড়ির পাশে আটকের পর তাদের শিকল দিয়ে বেধে রাখা হয়েছে। 

অভিযুক্তরা হলেন- সহড়াবাড়ীয়া গ্রামের মাছের খাবার ব্যবসায়ী রিপন হোসেন (৩০) ও একই গ্রামের কৃষক ফজলুল হকের মেয়ে রিনা খাতুন (১৮)।  পুলিশ তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে।  

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল।  তারই জের ধরে মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে রিনার বাড়ির পাশে
পাটকাঠির গাদার মধ্যে দুজনেই শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হয়।  পরে গ্রামবাসী তাদের অপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে।  ধরার পর তাদের শিকল দিয়ে বেধে রেখে মারধর করেছেও অভিযোগ করেছে যুবক-যুবতী।  তাদের বিয়ে এবং জড়িমানার ব্যবস্থাও চলছিল।  কিন্তু মাঝখানে গাংনী থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে গ্রাম্য বিচার প্রক্রিয়া ভেস্তে যেতে বসেছে। 

রিনা খাতুন বলেন, ‘বছর খানেক আগে আমার বিয়ে হলেও সংসার ভেঙে যায়।  মাস খানেক আগে থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রিপনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয়।  বিয়ের প্রলোভনে রিপনের ডাকে মঙ্গলবার রাতে শারীরিক সম্পর্ক করি।  এসময় প্রতিবেশীরা আমাদের আটক করেছে।  ’রিপনের সঙ্গে বিয়ে করে সংসার পাতার দাবি করেন রিনা।  

এদিকে সাজানো ঘটনায় ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন রিপন হোসেন।  তিনি অকপটে স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে আমি শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এসেছিলাম।  কিন্তু রিনার বাবাসহ আশপাশের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমাকে আটক করে মারধর করেছে। ’

সহড়াবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা ষোলটাকা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আজিজুল হক বলেন, ‘বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।  এজন্য গ্রাম্য মোড়লদের নিয়ে আলোচনায় বসেছি। ’

স্থানীয়দের দাবি, ব্যভিচারের জন্য দু’জনের সাজা হওয়া উচিত।  গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে রিপনকে উদ্ধার করেছে।  রিনাকেও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।