২৫, সেপ্টেম্বর, ২০১৭, সোমবার | | ৪ মুহররম ১৪৩৯

আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট চাইলেন সাকিব

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:১৮

নিউজ ডেস্ক- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ক্রিকেট কর্মশালা হওয়ার প্রচার চলছিল কিছুদিন থেকেই।  সেই কর্মশালায় ক্রিকেটারদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেবেন বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান।  এভাবেই গত প্রায় এক সপ্তাহ থেকে রংপুরে চলে জোড় প্রচার। 

সাকিব আল হাসানের আগমন উপলক্ষ্যে রংপুরের তরুণ-তরুণীরা অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে।  সবার প্রত্যাশা ছিল সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং-বোলিং খুব কাছ থেকে দেখবে।  আর কর্মশালায় অংশ নেয়া ক্রিকেটারদের স্বপ্ন
ছিল বিশ্বসেরা এই অল রাউন্ডারের কাছ থেকে ক্রিকেটের খুটি নাটি বিষয়গুলো রপ্ত করে নিজেকে মেলে ধরার। 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন স্টেডিয়াম নেই।  একটি মাঠেই খেলাধুলা করে শিক্ষার্থীরা।  সেখানেই আয়োজন করা হয় ক্রিকেট কর্মশালার।  প্রিয় তারকাকে দেখতে সকাল দশটার মধ্যেই মাঠে হাজির হয় কয়েক হাজার দর্শক।  কিন্তু মাঠকে যেভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল তা একটি রাজনৈতিক সমাবেশের জন্য উপযুক্ত হলেও খেলা বা অনুশীলনের তেমন সুযোগ ছিল না।  দর্শক যাতে মাঠে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য তেমন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।  একটি চিকন রশি দিয়ে মাঠকে ঘিরে রাখে আয়োজকরা। 

এদিকে সকাল সাড়ে ১১ টায় মঞ্চে উঠে আসেন সাকিব।  এসময় সাকিব আল হাসান আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সদস্য রাশেক রহমানের পক্ষে ভোট চেয়েছেন।  ওই সময় ভিড় সামলাতে পুলিশ লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। 

সেখানে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রাশেক রহমান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক তাবিউর রহমান প্রধান প্রমুখ।  এসময় সাকিব আল হাসান তার বক্তব্যে  বলেন, আপনারা আমাকে এতো ভালোবাসেন তা আমি জানতাম না।  আমার জন্য দোয়া করবেন।  এই অনুষ্ঠানের আয়োজন রাশেক রহমান ভালো মানুষ তার সাথে থাকবেন।  রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাকে ভোট দিবেন।  তাহলে তিনি আপনাদের অনেক উন্নয়ন করবেন। 

এদিকে সকাল থেকেই সাকিবকে দেখতে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হন।  পরে একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নেন সাকিব আল হাসান।  তবে অনুষ্ঠানের শেষের দিকে ভিড় নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।  বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পুলিশ লাঠি চার্জ শুরু করলে ক্যাম্পাস জুড়ে দৌঁড়াদৌড়ি শুরু হয়। 

এ সময় বিক্ষুব্ধরা বেশ কিছু চেয়ার ভাংচুর করে।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় নির্ধারিত ক্রিকেট কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়নি।  বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সরকার মুহিব্বুল হাসান জানান, উৎসুক জনতা বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মৃদু লাঠি চার্জ করা হয়।