২৪, নভেম্বর, ২০১৭, শুক্রবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

যে কারনে আজ দেশের ফুটবল ধ্বংসের মুখে

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৩:২৪

ফুটবল সংক্রান্ত যে কোন নেতিবাচক ঘটনায় সব সময়ই সরাসরি দায়টা বর্তায় ফেডারেশনের উপর।  কিন্তু বরাবরই দেশের ক্লাবগুলি থেকে যায় পর্দার আড়ালে। 

ক্লাবগুলোর দাবির মুখে দফায় দফায় পেছাতে হয় লিগ।  যেন করার কিংবা দেখার কেউ-ই নেই।  তার উপর বিভিন্ন সময় জাতীয় দলের ক্যাম্প কিংবা ম্যাচ চলাকালীন খেলোয়াড় ছাড়তেও টালবাহানা শুরু করে দেয় ক্লাবগুলি। 

এ সমস্যা সমাধানে বাফুফে'কে আরো পেশাদার হবার সঙ্গে কঠোর হওয়ার পরামর্শ সাবেক ফুটবলারদের।  সাবেক ফুটবলার কায়সার
হামিদ বলেন, 'আমরা যখন জাতীয় দলে খেলেছি তখন ক্লাব আমাদের ছেড়েছে।  জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা যখন জাতীয় দলে সুযোগ পাবে তখন তাদেরকে জাতীয় দলেই খেলতে হবে। '
 
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএল ২০০৭ সালে পেশাদার লিগ নামে যাত্রা শুরু করে।  নামে পেশাদার হলেও যেখানে প্রতিটি আসরেই ছিলো দারুণ অপেশাদারিত্বের ছাপ। 

বিপিএলের বিগত ৯ মৌসুমের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিভিন্ন অজুহাতে বারবারই পিছিয়েছে লিগের সূচি।  দফায় দফায় মাঝ পথেই স্থগিত হয়েছে লিগ।  যার ব্যতিক্রম নয় এবারের আসরও। 

এখন পর্যন্ত হওয়া ৮ম রাউন্ডের খেলায় লিগ বন্ধ হয়েছে ৩ বার।  সবশেষ কারণটি ছিল অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য ক্লাবগুলি খেলোয়াড় ছাড়তে রাজি না হওয়ায়।  ফলে ক্লাগুলোর কাছে জিম্মি বাফুফে বাধ্য হয় লিগ পেছাতে।   

সাবেক ফুটবলার হাসানুজ্জামান খান বাবলু বলেন, 'ফেডারেশন ক্লাবগুলোকে দোষ দিবে, ক্লাবগুলো ফেডারেশনকে দোষ দিবে, এইভাবেই চলবে।  এখানে সততা ও নেতৃত্ব যদি শক্ত না হয়, তাহলে এই সমস্যাগুলোর আর সমাধান হবে না। '

কিন্তু সর্ষের মধ্যেই যেন ভূত।  পেশাদার লিগ কমিটির ২০ সদস্যের ১৫ জনই কোন না কোন ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত।  যে কারনে বাফুফের নেয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই যায় সাময়িক নির্বাসনে।  সঙ্গে পান থেকে চুন খসলেই ক্লাবগুলির লিগ বর্জনের হুমকি তো আছেই। 

হাসানুজ্জামান খান বাবলু আরো বলেন, 'যারা ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা ফুটবল লিগ কমিটির সাথে সম্পৃক্ত।  সুতরাং ক্লাবের স্বার্থে যখনই আঘাত আসবে তখন তারা ফুটবল ফেডারেশনের সাথে একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিবে।  ফিফার গাইডলাইনেই বলে দেয়া আছে, যারা লিগ কমিটির সদস্য হবে তারা কোন অবস্থাতেই কোন ক্লাবের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারবে না। '

তবে নিকট ভবিষ্যতে দেশের অন্ধকার ফুটবলকে জাগাতে ফেডারেশন শক্ত অবস্থানে থাকবে, এমন প্রত্যাশাও সংশ্লিষ্টদের।