১৯, সেপ্টেম্বর, ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৮

ধর্ষিতার জন্ম দেওয়ার শিশুর ডিএনএ মিললনা ধর্ষকের সাথে

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৪:০১

ভারতে দশ বছর বয়সী একটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে গত বৃহস্পতিবার একটি কন্যা শিশুর জন্ম দিয়েছে।  গত বৃহস্পতিবার সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে মেয়েটির সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় চণ্ডীগড়ের এক হাসপাতালে।  তবে ফরেনসিক রিপোর্টে শিশুটির ডিএনএ নমুনার সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ নমুনার মিল পাওয়া যায়নি। 

গত জুলাই মাসে পেটে ব্যথা হচ্ছে বলে মেয়েটি তার বাবা-মাকে জানালে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।  আর তখনই ধরা পড়ে তার গর্ভবতী হয়ে পড়ার বিষয়টি। 

মেয়েটি তখন অভিযোগ
করেছিলো, তার চাচা তাকে কয়েক মাস ধরে ধর্ষণ করছে।  অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  পরে আদালতের কাছে নিজের ওপর আনিত অভিযোগ স্বীকারও করে নেয় ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি। 

তবে ফরেনসিক রিপোর্টের পর মামলার মোড় আশ্চর্যজনকভাবে ঘুরে গেছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন মামলার তদন্তে জড়িত এক কর্মকর্তা।  তিনি বলেন, 'কেউ ভাবেনি, এ ঘটনায় অন্য কেউ দায়ী হতে পারে।  ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেয়েটি আদালতের কাছে পরিষ্কারভাবে তার চাচার নাম বলেছিলো। '

মেয়েটির মা ও তদন্তকারীদের কাছে জানিয়েছিলেন, তারা অন্য কাউকে সন্দেহ করেন না। 

পুলিশরে উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষায় কোন ভুল আছে কিনা তা দেখার জন্য পুনরায় ফরেনসিক টেস্টের জন্য আবেদন করবেন তারা। 

মেয়েটি যে একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছে সেটি তাকে জানানো হয়নি।  তাকে বলা হয়েছে, পেটের ভেতর বড় একটি পাথর ধরা পড়েছে। 

নবজাতকের ওজন দুই দশমিক দুই কেজি।  চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী মঙ্গলবার মেয়েটিকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হবে। 

মেয়েটি জন্ম দেয়া সন্তানটিকে তার পরিবার সেটিকে নিতে চায়নি।  তাই এই শিশুটিকে দত্তক দেয়া হবে।  তার আগে পর্যন্ত একটি শিশু কল্যাণ কমিটি শিশুটির দেখাশোনা করবে। 

ভারতে এই মেয়েটির ধর্ষণ, অন্তসত্ত্বা হওয়ার পর গর্ভপাতের আবেদন নিয়ে আদালতে আইনি লড়াই এবং সন্তান জন্ম দেয়ার এই ঘটনা ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে। 

গত শুক্রবার এমনই একটি মেয়ের গর্ভপাতের অনুমতি দেয় আদালত।  ১৩ বছর বয়সী ওই মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ে।  ৩২ সপ্তাহের সন্তানটি দুই দিন পর মারা যায়। 

এর আগে গত মে মাসে, একই ধরণের একটি মামলা হয় হরিয়ানায়।  ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে তার সৎ বাবার দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।  ২০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটিকেও গর্ভপাতের অনুমতি দেয় আদালত।