২৪, নভেম্বর, ২০১৭, শুক্রবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

১০০ ধর্ষকের সাথে সময় কাটালেন এক নারী

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৫:২৩

ধর্ষণ সামাজিক ব্যাধি।  এবং অবশ্যই এর জন্ম সমাজেরই গর্ভে।  তবু সমাজ ধর্ষকদের কী চোখে দেখে, তা নতুন করে বলার কিছুই নেই।  যুক্তরাজ্যের অ্যাঞ্জিলা রাস্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত্ব বিভাগের গবেষিকা মধুমিতা পন্ডে ধর্ষকের মনস্তত্ত্ব থেকে জানতে চেয়েছেন বিষয়টিকে।  ২০১২-য় দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের অভিঘাতই মধুমিতাকে এই গবেষণায় নিয়ে আসে। 
এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দিল্লির তিহাড় জেলে মধুমিতা বেশ কয়েক সপ্তাহ প্রায় সারা দিন কাটিয়েছেন
ধর্ষণে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের সঙ্গে।  তাদের নিবিড় সাক্ষাৎকার থেকেই তিনি নির্মাণ করতে চলেছেন তাঁর গবেষণাপত্র। 
মধুমিতার সমীক্ষা এমন কিছু বিষয়কে সামনে নিয়ে আসছে, যা সত্যিই চমকপ্রদ।  মধুমিতা জানয়েছেন, এই সব ধর্ষক অশিক্ষিত।  তাদের বেশির ভাগই স্কুলের গণ্ডি ডিঙোয়নি।  গবেষণা শুরুর সময়ে মধুমিতাকে বেশির ভাগ মানুষই বলেছিলেন, ধর্ষকরা রাক্ষস বই আর কিছুই নয়।  কিন্তু তাদের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বুঝতে পেরেছেন, এরা মোটেই তেমন কিছু অ-স্বাভাবিক মানুষ নয়।  বরং এরা বেশি মাত্রাতেই সাধারণ।  ধর্ষণের মতো একটি জঘন্য অপরাধ এরা করে বসেছে মূলত অজ্ঞতার কারণেই।  এদের বেড়ে ওঠা এবং চিন্তা ভাবনার মধ্যেই রয়ে গিয়েছে প্রবল অসংগতি। 

লিঙ্গ সমতার কোনও ধারণা ভারতের বেশির ভাগ শিক্ষিত পরিবারেই নেই।  আর এই সব ধর্ষক তো এসেছে সমাজের একেবারেই নীচুতলা থেকে।  বেশির ভাগ ভারতীয় পরিবার আজও মেয়েদের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের শিক্ষাই দেয়।  অন্যদিকে, পুরুষ পায় প্রভুত্ববাদের পাঠ।  এমনটাই মত মধুমিতার।  তিনি এ-ও জানিয়েছেন, বেশির ভাগ ধর্ষকের সঙ্গে কথা বললে মন ব্যথিত হয়ে ওঠে।  অনেকে জানেও না, তারা যে কাজটা করেছে, তার নাম ধর্ষণ এবং তা আইনের চোখে গুরুতর অপরাধ।  পুরুষ শাসিত সমাজের শিকড়ে নারীশরীরের উপরে অধিকারকে এতটাই স্বাভাবিক বলে বর্ণনা করা হয়ে থাকে যে, কোনটা ধর্ষণ আর কোনটা নয়, সেই বোধ বেশির ভাগ ভারতীয় পুরুষেরই থাকে না।  ফলত কৃতকর্মের জন্য অনুতাপের বিষয়টি বেশ বিরল এই সব মানুষের মধ্যে।  অনেকেই চেষ্টা করে তাদের করা দুষ্কর্মকে কোনও না কোনও ভাবে যুক্তিসিদ্ধ করে তুলতে।  নারীর শরীরে হাত রাখতে গেলে যে সম্মতি বলে একটা বস্তুর প্রয়োজন, তা তারা জানেই না। 

এক ৪৯ বছরের পুরুষ এক ৫ বছরের বালিকাকে ধর্ষণের দায়ে জেল খাটছে।  মধুমিতা যখন তার সাক্ষাৎকার নেন, সে তাঁকে জানায়, সে অনুতপ্ত।  কারণ, ওই মেয়েটির বিয়ে হওয়া মুশকিল।  সেই সঙ্গে সে এ-ও জানায়, জেল থেকে বেরিয়ে সে-ই ময়েটিকে বিয়ে করবে। 

পুরুষ-নজরে বন্দি ভারতীয় সমাজে এই যদি ধর্ষকের মনস্তত্ত্ব হয়ে থাকে, তা হলে সমস্যা সহজে দূরীভূত হওয়ার নয়, মনে করেন মধুমিতা। 
২০১৭-এ মধুমিতা তাঁর গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন।