১৬, ডিসেম্বর, ২০১৭, শনিবার | | ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

বৃষ্টি বাড়িয়ে দিল রোহিঙ্গাদের কষ্ট

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০১:২২

নিউজ ডেস্ক- মিয়ানমারে সহিংসতায় পালিয়ে এসে বাংলাদেশে অস্থায়ী শিবিরে ঠাঁই নেওয়া হাজার-হাজার মুসলিম রোহিঙ্গার জীবনে রোবাবরের মৌসুমী ভারীবর্ষণ আরো দুর্দশা বাড়িয়ে দিয়েছে। 

ত্রাণের আশায় রোহিঙ্গাদের অনেকেই তাদের জন্য তৈরি করা উখিয়া ও টেকনাফের নতুন আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে না গিয়ে বসে ছিল সড়কের দুই পাশে।  উখিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের শনিবার সড়কে পাশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।  বৃষ্টির মধ্যেই
ঝুপড়ি বস্তি ভেঙে পাহাড়ের ঢালের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যেতে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।  বিশেষ করে কাদাপানিতে পিচ্ছিল পথে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা চলতে-ফিরতে সমস্যায় পড়েন। 

মায়ানমার থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৭ হাজারের বেশি নারী সন্তানসম্ভবা।  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম রবিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে বার্মার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের উদ্বাস্তু করে দিচ্ছে।  তারা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।  চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছে রোহিঙ্গারা।  মায়ানমারের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। 

নতুন আসা রোহিঙ্গাদের আবাসন সংকটের পাশাপাশি বিভিন্ন সংকট দিনে দিনে বেড়েই চলছে।  আচমকা এত বিপুল মানুষের স্রোত আসায় তাদের সামাল দেওয়ার কোনো পূর্বপ্রস্তুতি প্রশাসনের ছিল না।  এসব মানুষের আশ্রয় ও অন্যান্য জীবনোপকরণ সরবরাহ করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সবাইকেই যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। 

এদিকে, কক্সবাজারের বালুখালী ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের জন্য ১৪ হাজার তাঁবু তৈরি করা হচ্ছে।  আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) রবিবার থেকে তাঁবু তৈরির কাজ শুরু করেছে বলে বাসসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁবু নির্মাণ কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।  বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হবে।  বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার দেয়া ত্রাণ সামগ্রী ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে পরিবহন করে কক্সবাজারে জেলা প্রশাসকের দফতরে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বও পালন করবে সেনাবাহিনী।  কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এক সমন্বয় সভা রবিবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়। 

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, রোহিঙ্গাদের একটিমাত্র ক্যাম্প বালুখালীতে স্থানান্তর, প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন বিষয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে জাতিসংঘের দুই সংস্থা ইউএসএইচসিআর ও আইওএম।  এই দু’টি সংস্থা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব তাঁবু সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে।