১৮, ডিসেম্বর, ২০১৭, সোমবার | | ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা: আন্তর্জাতিক গণ–আদালতে সু চির বিচার শুরু!

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:২৫

 রোহিঙ্গা মুসলমাদের গণহত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া বলেই নয়, মিয়ানমারের খ্রিষ্টান, কাচিন, এমনকি বৌদ্ধ তারাংদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে একটি আন্তর্জাতিক গণ-আদালতে শেষ পর্বের শুনানি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে শুরু হয়েছে। 

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীই শুধু নয়, দেশটির প্রধান ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) এবং এর আলোচিত নেত্রী অং সান সু চি যুদ্ধাপরাধ,
গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইতিমধ্যে অভিযুক্ত হয়েছেন।  তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র গত মার্চে লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত রোমভিত্তিক পারমানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনালের (পিপিটি) সূচনা অধিবেশনে গৃহীত হয়েছে। 

এই পিপিটি ষাটের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পটভূমিতে প্রখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের ধারণায় প্রতিষ্ঠিত।  ইতালির বোলোগনাতে ১৯৭৯ সালে এর যাত্রা শুরু।  তবে ব্যতিক্রমধর্মী এই গণ-আদালতের ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম জেনারেলদের পাশাপাশি শান্তিতে নোবেল বিজয়ী কেউ নৈতিকভাবে দণ্ডিত ও দোষী সাব্যস্ত হতে চলেছেন।  মালয়েশিয়ার স্বনামধন্য চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবী চন্দ্র মোজাফফর পিপিটির চলমান বিচারিক কার্যক্রম সফল করতে বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়ে ভূমিকা রেখেছেন। 

কুয়ালালামপুরে গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই গণ-আদালতের শুনানিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন বন্ধ করার অনুরোধ জানান।  তিনি নাগরিকত্বের বাছবিচার ছাড়া রোহিঙ্গাদের সেখানে শান্তিতে বসবাসের পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের চাপ কামনা করেন। 

গণ-আদালতের বিষয়ে মন্তব্য চাইলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও লেখক মফিদুল হক গতকাল বলেন, এই আদালতের কার্যক্রমে বিশ্ব নাগরিক সমাজের মতামত ও অভিপ্রায়ের প্রতিফলন ঘটছে।  শুক্রবার যে রায় আসবে, তা বাস্তবায়নের দায়দায়িত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিতে হবে।  তিনি ইঙ্গিত দেন, পিপিটি যে আইনি ধারার সূচনা করেছে, সেটাই কালক্রমে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) এখতিয়ারের বিষয় বলে স্বীকৃত হবে।  তিনি এ প্রসঙ্গে স্মরণ করেন যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা এই অঞ্চলে বাংলাদেশই শুধু আইসিসিবিষয়ক সংবিধি সই ও তাতে অনুসমর্থন দিয়েছে।  সুতরাং বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে এই প্রক্রিয়া থেকে সুফল পাবে। 

পিপিটির সমাপনী অধিবেশন কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে শুরু হয়েছে।  ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানোর প্রেক্ষাপটে এই অধিবেশনের আয়োজন করা হলো। 

অং সান সু চি, সেনাপ্রধান মিন অং লেইংগতকালের অধিবেশনে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল অংশগ্রহণ করেছে।  যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোসাইড স্টাডিজ অ্যান্ড প্রিভেনশনের গবেষক অধ্যাপক গ্রেগরি স্ট্যানটন গতকাল ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, ১৯৬২ সালে নে উইনের নেতৃত্বাধীন সামরিক জান্তা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে রোহিঙ্গা, কাচিন, শান, কারেন এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে নির্যাতন চলমান রয়েছে।  জাতিগত বর্মিরা একচেটিয়াভাবে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করার ফল হিসেবে যারা জাতিগতভাবে বুর্মন সম্প্রদায়ভুক্ত নয়, সেসব সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে দেশটিতে পদ্ধতিগত নিপীড়ন চলছে।  অধ্যাপক স্ট্যানটন তাঁর জবানবন্দিতে রোহিঙ্গা ও কাচিনদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী ও পুলিশ কীভাবে গণহত্যা চালিয়েছে, তার সাক্ষ্যপ্রমাণ তুলে ধরেন। 

উল্লেখ্য, মার্কিন আইনবিদ স্ট্যানটন ১৯৯২ থেকে ১৯৯৯ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরেও কাজ করেছেন।  সেখানে তাঁর হাতেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনাল ফর রুয়ান্ডার খসড়া তৈরি হয়েছিল। 

স্ট্যানটন তাঁর পাঁচ পৃষ্ঠার জবানবন্দির উপসংহারে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য বৌদ্ধ মিলিশিয়া এবং মিয়ানমারের বর্তমান বেসামরিক সরকারকেও অভিযুক্ত করেছেন।  কেন রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সর্বস্তরে সীমাহীন বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার, তা চিহ্নিত করে তিনি বলেছেন, তারা পদ্ধতিগতভাবে ধর্মীয় ও জাতিগত বৈষম্যের শিকার।  কারণ, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সংবিধানের অধীনে তালিকাভুক্ত ১৩৫টি জাতিগত সংখ্যালঘুর একটি বলে গণ্য হয়নি।  তাঁর কথায়, জাতিগত বর্মিরা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করে।  নাগরিকত্ব না থাকার কারণে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার নেই।  তারা রাষ্ট্রবিহীন।  মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের পরিচয়পত্র দিতে অস্বীকার করেছে, যা দেশের মধ্যে ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয়।  তাদের পাসপোর্টও দেওয়া হয় না।  উচ্চতর শিক্ষা নিতে তারা কোনো বিদ্যাপীঠে যেতে পারে না।  রোহিঙ্গারা ভূমি ও সম্পদের অধিকার থেকেও বঞ্চিত।  তারা যে বসতভিটায় বসবাস করে, তা রাষ্ট্র যেকোনো সময় কেড়ে নিতে পারে।  সরকারি চাকরির দরজা তাদের জন্য বন্ধ।  তার ওপরে রয়েছে বিবাহের বাধানিষেধ।  কোনো দম্পতি দুটির বেশি সন্তান নিতে পারে না।  তারা বাধ্যতামূলক শ্রম, চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য জবরদস্তিমূলক নিপীড়নের শিকার।  তাদের অশিক্ষার হার ৮০ শতাংশ। 

জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, পশ্চিম মিয়ানমারে ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শিশু চলাচলের অধিকার থেকে বঞ্চিত।  তারা স্কুলে যেতে পারে না।  ভবিষ্যতে তাদের বিয়ের অধিকার থাকবে না।  কারণ, তাদের পিতা-মাতারা অবৈধ বিয়ে কিংবা দুটির বেশি সন্তান নেওয়ার অপরাধে অভিযুক্ত।  কালো তালিকাভুক্ত এই শিশুদের জন্মনিবন্ধন হয় না।  তাই সরকার-নির্দিষ্ট পরিবারের তালিকায় তারা কেউ নয়।  আদমশুমারির সময় তারা পালিয়ে থাকে। 

স্ট্যানটন তাঁর লিখিত জবানবন্দিতে আরও বলেন, নির্যাতিত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ বা মালয়েশিয়ায় নৌকাযোগে পালানোর চেষ্টা করলেও এসব দেশে তারা উদ্বাস্তুর মর্যাদা পায় না।  থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক উদ্বাস্তু আইনকে অমান্য করে চলেছে।  প্রতিবছর শত শত রোহিঙ্গা নৌকাডুবিতে প্রাণ হারায়।  আর অনেকেই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী কর্তৃক সীমান্তে পোঁতা মাইন বিস্ফোরণে প্রাণ দিচ্ছে।  পলায়নরত রোহিঙ্গাদের সামরিক বাহিনী গুলি করে হত্যা করছে। 

চন্দ্র মোজাফফর তাঁর বিবৃতিতে তথ্য দেন যে পিপিটি অং সান সু চি, মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিনথ স এবং মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিং অন লেইনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে কিংবা তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।  কিন্তু তাঁরা সেই চিঠির জবাব দেননি।  রাখাইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানকেও পিপিটিতে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।  কিন্তু তিনি উপস্থিত থাকতে অপারগতা জানান। 

আজ মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে মিয়ানমারের মুসলিম নিপীড়ন বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হবে।  বিকেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে দেওয়া হবে সমাপনী বক্তব্য।  এরপর বিবাদীপক্ষের বক্তব্যও শোনা হবে।  বৃহস্পতিবার দিনভর বিচারকমণ্ডলীর সদস্যরা তাঁদের বক্তব্য পেশ করবেন। 

আট সদস্যের এই বিচারক প্যানেলের সুনাম রয়েছে বিশ্বজুড়ে।  এতে আছেন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলারসের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও আর্জেন্টিনায় সেন্টার ফর জেনোসাইডের প্রতিষ্ঠাতা দানিয়েল ফিয়েরেস্তেইন।  রয়েছেন গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী আয়ারল্যান্ডের ডেনিস হেলিডে।  আছেন মালয়েশিয়ার জুলাইহা ইসমাইল, যিনি এর আগে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত-প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।  ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন।  কম্বোডীয় আইনবিদ হেলেন জার্ভিস আছেন এই প্যানেলে।  তিনি পিপিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট।  বাংলাদেশেও যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে কাজ করেছেন হেলেন।  অস্ট্রেলিয়ার সিডনির মেকুইয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক প্রধান গিল এইচ বোয়েরিঙ্গারও বিচারকদের একজন।  এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার মানবাধিকার আইনজীবী নুরসিয়াবানি কাতজাসুংকানা, ইরানের মানবাধিকার আইনজীবী সাদি সদর এবং ইতালির সুপ্রিম কোর্ট অব ক্যাসেসনের বর্তমান সলিসিটর জেনারেল নিলও রেসি আছেন এই প্যানেলে। 

পিপিটি মালয়েশীয় সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি চন্দ্র মোজাফফর বলেছেন, পাঁচ দিনের অধিবেশনে বিচারকেরা প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক বিশেষজ্ঞ সাক্ষীদের মতামত, ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি বিচার-বিশ্লেষণ করবেন।  শুক্রবার সকাল ১০টায় তাঁরা রায় ঘোষণা করবেন।  তিনি জানিয়েছেন, বিচারকদের এই রায় ও পর্যবেক্ষণ জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। 

মিয়ানমার ও তার নেতাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে প্রসিকিউশনের নেতৃত্বে রয়েছেন অস্ট্রেলীয় মানবাধিকার আইনজীবী দোরিন চেন।  পাঁচ দিনের এই অধিবেশন খ্রিষ্টান, কাচিন ও বৌদ্ধ তারাংরাও তাদের জবানবন্দিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছেন।  পিপিটির অধিবেশনে চন্দ্র মোজাফফরের ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট ফর আ জাস্ট ওয়ার্ল্ড ছাড়াও দ্য সেন্টার ফর হিউম্যান রিসার্স অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি এবং দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম অন বুড্ডিস্ট-মুসলিম রিলেশন রয়েছে। 

ওই ট্রাইব্যুনালের প্রথম অধিবেশন ২০১৭ সালের ৬ ও ৭ মার্চ লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।  ৭ মার্চ পেনিগ্রিন, ফাহমি আবদ মঈন ও থমাস ম্যাকমানাস সমন্বয়ে গঠিত প্রসিকিউশন টিম ‘দ্য প্যানেল অব জাজেস অব দ্য পারমানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনাল অন মিয়ানমার স্টেট ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট রোহিঙ্গা, কাচিন অ্যান্ড আদার গ্রুপের’ কাছে অভিযোগপত্র দাখিল করে।  এতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের নভেম্বরে রোহিঙ্গাদের এবং ২০১৭ সালের মার্চে কাচিনদের দায়ের করা এজাহার গ্রহণ করে পিপিটির উদ্বোধনী অধিবেশনে কাচিন ও রোহিঙ্গাদের দুটি গ্রুপ তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় অপরাধের বিবরণ দেয়।  বিচারকমণ্ডলী ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি ছাড়াও বিভিন্ন ও ব্যাপকভিত্তিক সূত্রে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যাচাই-বাচাই করে।  অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মিয়ানমার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শুধু সাম্প্রতিক অভিযোগ নয়, সুদূর অতীতেও সংঘটিত অপরাধসমূহ আলোকপাত করা হয়। 

‘প্রসিকিউশন, ফোর্সড ডিসপ্লেসমেন্ট অ্যান্ড জেনোসাইড অব রোহিঙ্গা, কাচিন, শান, কারেন অ্যান্ড আদার মাইনরিটিস অব মিয়ানমার’ শীর্ষক জবানবন্দিতে গ্রেগরি স্ট্যানটন সাম্প্রতিক কয়েকটি রায়ের আলোকে বলেন, এথনিক ক্লিনজিং নয়, মিয়ানমারে যা ঘটেছে তা গণহত্যা।  সুত্র: জনকণ্ঠ