১৮, ডিসেম্বর, ২০১৭, সোমবার | | ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

বিভিষিকাময় রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যা, রাখাইনে বাতাসে লাশের গন্ধ!

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:৫৬

মিয়ানমারের হায়েনাদের আক্রমনে বিভিষিকাময় মুসলিম গণহত্যার কবলে মুসলিমদের বসবাস করা রাখাইন রাজ্য।  এখন শুধু রাখাইনে বাতাসে লাশের গন্ধ! মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মগ্নিপাড়া থেকে নাফ নদীর পাড় দিয়ে আসতে দুইশ গ্রাম আমাদের সামনে পড়েছে,।  যার সব পুড়ে গেছে।  আমরা যখন গ্রামের জঙ্গল দিয়ে পাঁটছিলাম তখন পঁচা ও পোড়া গন্ধ পাচ্ছিলাম।  মানুষের লাশ, রক্ত, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী মরে পঁচে এমন গন্ধ ছড়াচ্ছে। 

রাখাইন রাজ্যে মুসলিম গ্রামগুলোয় দেশটির সেনাবাহিনী হত্যাযজ্ঞ
চালানোর পর বাতাসে শুধুই মানুষের লাশ পঁচা গন্ধ।  এখনও গ্রাম গুলোতে সেনাবাহিনী ও মগরা পাহারা দিচ্ছে।  বুধবার পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষরা এ তথ্য জানিয়েছেন। 

মায়ানমান থেকে পালিয়ে আসা আলম জানান, তার গ্রামের নাম খাইন্দা পাড়া।  এ মাসের ৭ তারিখে মিয়ানমার সেনাবাহিনী আমাড়ের গ্রামে আগুন দেয়।  তখন আমরা আমাদের পাশের গ্রাম মগ্নিপাড়ায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলাম।  এরপর তিনদিন আগে আমরা বাংলাদেশের দিকে রওয়ানা হই। 
 
তিনি আরও বলেন, ‘নাসাকার লোকজন এখনও গ্রামে আছে।  তবে আগের মত দলে দলে নেই।  এখন আর পোড়ানোর কিছু নেই।  সেনাবাহিনী এখন খালি গ্রাম পাহারা দিচ্ছে। ’

কাদির বিল এলাকার বাসিন্দা আবু তালেব (৫২)।  তার বাবার নাম মো. ইয়াকুব।  তার বাবা বেঁচে নেই।  এক ভাই ও চারবোন তার।  বোনরা সবাই বিবাহিত।  তার স্ত্রীর নাম হামিদা খাতুন।  চার ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে তিনি বুধবার বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। 

তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামে ১৬ সেপ্টেম্বর আগুন দেওয়া হয়।  এরপর রাতেই বাড়িথেকে বের হয়ে অন্য গ্রামে চলে যাই।  নলবুনিয়া নামক গ্রামে ৭/৮ দিন ছিলাম।  সেখানেও আগুন দেয়, তারপর বাংলাদেশে চলে আসি। ’

তিনি বলেন, ‘যেসব গ্রামে আগুন দিয়েছে সেসব গ্রামে কোনও মানুষ নেই।  সব খালি।  ঘর বাড়ি কিছু নেই।  সব মাটির সঙ্গে মিশে আছে।  চাল, ডাল, পরে আছে।  গরু মরা খালে ভাসছে, মানুষের লাশ পরে আছে।  সেগুলো এখনও পরিস্কার করা হয়নি।  সারা গ্রামে গন্ধ। ’

আরাফা খাতুন (২৫) নামে এক নারী বলেন, ‘আমার গ্রামের নাম খাইল্যাপাড়া।  আমাদের গ্রামে প্রথম আগুন দেওয়া হয়।  এরপর আমি আমার স্বামী, চার ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে পালিয়ে আমার বোনের বাড়ি  চলে যাই।  সেখানে কোনও আগুন দেয়নি।  আমাদের এক পরিবারে ৮ জন।  আমরা ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে টেকনাফে আসি।  আসার পথে আমরা তিনদিন শুধু পানি খেয়ে হেঁটেছি। ’

তিনি গ্রামগুলোর বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘কোনও গ্রামে মানুষ নেই।  মনে হচ্ছে একটু আগে সব তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।  মানুষের খাবার পরে আছে।  গরু মরে আছে, মানুষের শরীরের অঙ্গ পরে আছে।  শুধু পঁচা গন্ধ। ’

এদিকে, এখনও বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন রোহিঙ্গারা।  নাফ নদী পার হয়ে আসা রোহিঙ্গারা টেকনাফে জমা হয় প্রতিদিন রাতে।  সেখান থেকে সকালে তারা ক্যাম্পে চলে যায়।  এখন টেকনাফের সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও মিয়ানমারের বিজিপি টহল শিথিল করা হয়েছে। 

গত ২৪ আগস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনীর ২৯টি চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।  এরপর দেশটির সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে।  রাখাইন রাজ্যের গ্রামগুলোতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করেছেন রোহিঙ্গারা।  গুলি ও আগুনে পুড়ে কয়েক হাজার রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়।  প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় চার লাখ ৯০ হাজার রোহিঙ্গা।  যাদের প্রায় প্রত্যেকেরই স্বজন হারিয়েছেন।  সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন