১৬, ডিসেম্বর, ২০১৭, শনিবার | | ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

গফরগাঁওয়ে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধুকে গণধর্ষণের অভিযোগ

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০:৫২

 মেহেদী হাসান আবদুল্লাহ্, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:  ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্বামীকে বেধে রেখে গৃহবধুকে রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।  সালিশে বিচার না পেয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী। 
বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নে ধর্ষিত গৃহবধু বাবার বাড়ি কদম রসুলপুর গ্রাম থেকে স্বামীর বাড়ি ছয়ানি রসুলপুর গ্রামে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।  অভিযুকÍ দুই ধর্ষক হলো রসুলপুর গ্রামের সাঈদ বেপারীর ছেলে আঃ রশিদ (৩৫) ও হযরত আলীর ছেলে রবি মিয়া (৩২)। 
/> এ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সালিশি বৈঠকের আয়োজন করে দুই ধর্ষককে হাজির হতে নোটিশ করলেও তারা হাজির হয়নি।  বরং ওই গৃহবধুর স্বামীকে এ ঘটনায় বাড়াবাড়ি না করে চুপ করে থাকতে বলে ধর্ষকরা।  এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে পরিমান আরো ভয়াবহ হবে বলে হুমকি দেয় ধর্ষকরা।  পরে বাধ্য হয়ে গত ২০ অক্টোবর নির্যাতিতা গৃহবধু দুই ধর্ষকের নাম উল্লেখ্য করে গফরগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।  এর পর থেকে দুই ধর্ষক গাঁ ঢাকা দিয়েছে। 
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর ছয়ানী রসুলপুর গ্রামের জনৈক দরিদ্র রিকসা চালকের স্ত্রী (১৯) বাবার বাড়ি কদম রসুলপুর গ্রামে বেড়াতে যান।  পরে ৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে স্বামীর সঙ্গে স্বামীর বাড়িতে ফেরার পথে রসুলপুর চৌরাস্তা বাজারের অদূরে কালভার্ট ব্রীজের উপর পৌছা মাত্র রসুলপুর গ্রামের সাঈদ বেপারীর ছেলে আঃ রশিদ (৩৫) ও হযরত আলীর ছেলে রবি মিয়া (৩২) ওই দম্পতির পথরোধ করে। 
পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গৃহবধুর স্বামী নূর মোহাম্মদকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের অস্থায়ী কার্যালয়ের বারান্দায় রশি দিয়ে বেধে রাখে।  গৃহবধু রুমাকে মুখ বেধে রসুলপুর চকপাড়া গ্রামের জনৈক আঃ মতিনের মৎস খামারের পরিত্যক্ত ঘরে আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণ করে ফেলে এসে তার স্বামীকে মুক্ত করে দিয়ে চলে যায় দুই ধর্ষক।  পরে নুর মোহাম্মদ ওই মৎস খামারে পৌছে তার স্ত্রীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসেন। 
ঘটনার পরদিন স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিকট বিচার প্রার্থনা করলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা এ ঘটনায় বিচার সালিশের আয়োজন করলে ধর্ষকরা সালিশে হাজির হয়নি।  
সালিশে হাজির না হয়ে বরং এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে পরিমান আরো ভয়াবহ হবে বলে হুমকি দেয় ধর্ষকরা।  পরে বাধ্য হয়ে গত ২০ অক্টোবর নির্যাতিতা গৃহবধু দুই ধর্ষকের নাম উল্লেখ্য করে গফরগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ এখনো মামলা নথিভুক্ত করেনি বলে অভিযোগ করেন ধর্ষিতার স্বামী। 
রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল আলম, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করে নির্যাতিতাকে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। 
এ ব্যাপারে গফরগাঁও থানার ওসি একে এম মাহবুবুল আলম বলেন, এ ঘটনায় গৃহবধু বাদী হয়ে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে আজ সন্ধায় (গতকাল রোববার) ধর্ষণ মামলা নেয়া হবে।  এছাড়াও অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে বলে তিনি জানান।