১৬, ডিসেম্বর, ২০১৭, শনিবার | | ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

রাজনীতির মাঠে তিনি এখনও ‘ধোনি’, ঠান্ডা মাথায় মমতাকে বোঝালেন মুকুল

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০২:০৫

নিউজ ডেস্ক- রাজনীতিতে সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই বদলে যায়।  ঠিক যে ভাবে গত দু’বছরে বদলে গিয়েছে মমতা-মুকুল সম্পর্কের সমীকরণ।  একদা মমতার সবথেকে ভরসার মুকুল তাই আজ অভিমানী হয়ে দল ছাড়লেন। 

মুকুল একসময় ক্রিকেট খেলতেন।  তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তিক্ত হওয়ার পর থেকেই বার বার সেই ক্রিকেটের উদাহরণ টেনেছেন।  বলেছেন, ‘‘ক্রিজে টিক থাকলে রান আসবেই। ’’

ভবিষ্যতে মুকুল রান পাবেন, না দল ছেড়ে হিট উইকেট হলেন, তা সময় বলবে।  কিন্তু চাপের মুখে ঠান্ডা
মাথায় ফের মমতার অস্ত্র ভোঁতা করে মুকুল বুঝিয়ে দিলেন, এখনও তিনি রাজনীতির ময়দানের মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। 

তাঁর এই ঠান্ডা মাথার জন্যই মমতার অন্যতম ভরসার মানুষ হয়ে উঠেছিলেন মুকুল।  দলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে ছোট-বড় নির্বাচনের দিনগুলিতে তৃণমূল ভবনে ওয়ার রুম সামলানোর দায়িত্ব— সবই মুকুলের উপরে ছেড়ে নিশিন্ত থাকতেন মমতা। 

অন্য দলের নেতা, বিধায়ক ভাঙানো হোক, অথবা একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে তাক লাগানো ভিড়।  মুকুল দায়িত্বে থাকলে নিশ্চিন্ত থাকতেন মুখ্যমন্ত্রী।  দীনেশ ত্রিবেদী ‘বিপদে’ ফেলার পরে রেলমন্ত্রী হয়ে মমতার ‘মুখরক্ষা’ করেছিলেন এই মুকুলই।  এক সময়ে মুকুলের উত্থানে দলের ভিতরে ভিতরে যাঁরা গজরাতেন, তাঁরাই আজ মুকুলকে কার্যত প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। 

মুকুলের এই পরিণতিতে অনেকেই ক্রিকেট মাঠের ধোনির সঙ্গে তাঁর মিল খুঁজে পাচ্ছেন।  দুটো বিশ্বকাপ জেতা ধোনি নির্বাচকরা কোপ দেওয়ার আগেই অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন।  সময় খারাপ চলার সময়ে চেন্নাই সুপার কিংগসের বদলে পুণের অধিনায়ক হয়ে মালিকদের কটাক্ষ সহ্য করেছেন।  কিন্তু মুকুলের কথা অনুযায়ী ‘ক্রিজে টিকে থেকে রান’ পেয়েছেন।  কয়েকদিন আগে যাঁরা ধোনিকে অবসর নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছিলেন, তাঁরাই তাঁর দুরন্ত ফর্ম দেখে এখন ২০১৯ বিশ্বকাপে তাঁকে দলের অন্যতম ভরসা মনে করছেন। 
এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

ক্রিকেট মাঠের ধোনির মতো রাজনীতির মাঠে মুকুলও রান পাবেন কি না, তা সময় বলবে।  কিন্তু বাস্তব বলছে, চাপের মুখে মুকুলের মাথা এখনও ঠান্ডা।  তাই দল তাঁকে তাড়ানোর আগেই তিনি দল ছাড়লেন।  তৃণমূল নেতারা হয়তো বলবেন, তাঁরা এটাই চেয়েছিলেন।  কিন্তু একই সঙ্গে মুকুলের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল, তা প্রমাণ করার দায়ও তাঁদের।  কারণ, দল ছাড়ার সময়ে মুকুল শুনিয়ে রেখেছেন, নীতির প্রশ্নেই তিনি দলের কর্মসমিতির সদস্যপদ ছাড়ছেন। 

একই সঙ্গে মমতার আরও অস্ত্র ভোঁতা করলেন মুকুল রায়।  কারণ, তিনি বলে দিয়েছেন, রাজ্যসভার সাংসদ পদও ছেড়ে দেবেন।  ফলে, দল তাঁর সাংসদপদ বাতিলের মতো কড়া পদক্ষেপ নেবে, সেই রাস্তাও থাকল না মমতার হাতে।  তাহলে, মুকুলের বিরুদ্ধে এবার কী করবেন মমতা? কার্যত করার কিছুই নেই, শুধুমাত্র অভিযোগ করা ছাড়া। 

আর আস্তিনের সবথেকে বড় তাসটা নিজের হাতেই রেখেছেন মুকুল।  কেন তৃণমূল ছাড়লেন, সেটা পুজোর পরেই বলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।  মুকুলের ঝুলি থেকে কোন বেড়াল বেরিয়ে পড়ে, সেই চাপ মমতা এবং তৃণমূলের উপরে রেখেই দিলেন একদা দলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড।