২২, নভেম্বর, ২০১৭, বুধবার | | ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

১% সুদে ভারতের সাথে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি

০৪ অক্টোবর ২০১৭, ১২:৫৪

বাংলাদেশ ভারত মধ্যে সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ হল।  তবে সুদের হারটা একটু বেশি হয়ে গেল।  বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশ যৌথ উন্নয়নে কাজ করছে তারা।  বাংলাদেশে সফররত  ১ শতাংশ হারে তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আরও সাড়ে চারশ কোটি ডলার ঋণ নিতে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। 

অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ও বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।  এই অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ, রেলপখ, সড়ক, জাহাজ চলাচল,
বন্দরসহ অবকাঠামো খাতে ১৭টি অগ্রাধিকার প্রকল্পের বাস্তাবয়ন করবে বাংলাদেশ। 

প্রথম দুটি লাইন অব ক্রেডিটের মত এবারও এই ঋণের জন্য বছরে ১ শতাংশ হারে সুদে দিতে হবে বাংলাদেশকে।  ঋণ শোধে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছর সময় পাওয়া যাবে। 

বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শফিকুল আযম এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকে (এক্সিম) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড রাসকিনহা এই চুক্তিতে সই করেন। 

অরুণ জেটলি বলেন, গত সাত বছরে বাংলাদেশ ভালো প্রবৃদ্ধি পেয়েছ।  আর্থসামাজিক দিক দিয়ে ব্যাপকেউন্নয়ন করেছে।  আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নে আগেও পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।  তারই ধারাবাহিকতায় এই বড় অংকের ঋণচুক্তি। 

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক এখন অত্যন্ত ভালো।  একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় তারা বাংলাদেশের পাশে ছিল।  আগামীতেও তারা আমাদের পাশে থাকবে বলে আশা করছি। 

চলতি বছর এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বাংলাদেশের জন্য এই সাড়ে চারশো কোটি ডলার ঋণের ঘোষণা দেওয়া হয়।  তারই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় অর্থমন্ত্রীর এবারের সফরে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হল। 

এর আগে ২০১০ সালে প্রথম লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় বাংলাদেশকে একশ কোটি ডলার ঋণ দেয় ভারত।  ওই ঋণের আওতায় নেওয়া ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ১২টির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান।   

আর ২০১৬ সালে দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটে ভারত থেকে পাওয়া দুইশ কোটি ডলারের আওতায় নেওয়া ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছন তারা।  রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য এর আগে রাশিয়ার সঙ্গে ১১৩৮ কোটি ডলারের  ঋণচুক্তি করেছিল বাংলাদেশ।  সেই হিসেবে ভারতের এই তৃতীয় এলওসি হচ্ছে বাংলাদেশের করা দ্বিতীয় বৃহত্তম ঋণ চুক্তি।