২৪, নভেম্বর, ২০১৭, শুক্রবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

রোহিঙ্গা গণহত্যা: বার্মার সেনাপ্রধানকে ফোন করে যা বলল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

২৭ অক্টোবর ২০১৭, ১০:১৯

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের কবল থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের করুন কাহিনী।  যেকেউ তাদের কথা শুনবেন চোখের পানি ধরে রাথতে পারবেন না।  যা কিছু ছিল সবশেষ হয়ে গেল।  কেউ মা হারা, কেউ বাবা, ভাই বোন হারা সবশেষ দেশ হারা তাদের দুঃখের সীমারেখা নেই। 

প্রতিটি হৃদয়বান মানুষের তাদের জীবিকার জন্য এগিয়ে আসা উচিত।  কি নিষ্ঠুর, পাষন্ড, কুখ্যাত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যাকান্ড চালাল নিরাপরাধ রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর। 

সারা বিশ্বের
বিবেক আজ হতশবম্ব।  কিন্তু মুসলমান না হয়ে আজ যদি অন্য কোন ধর্মের একটি প্রাণিও মারা যেত তাহলে বুঝা যেত মানবতা।  কিন্তু আজ মুসলমানরা নির্যাতনের স্বীকার।  চিরতরে ধ্বসংস করে দিচ্ছে।  ভিটেবাড়ী সহ রোহিঙ্গাদের।  জাতিসংঘ শুধু বানী দিয়ে যাচ্ছে। 



আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াংকে ফোন করে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন-হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

বৃহস্পতিবার টেলিফোনে আলোচনার সময় টিলারসন রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কার্যকর পদেক্ষপ নেওয়ার জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন বলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ জেনারেল মিন অং হ্লাইয়াংকে রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে তাদের স্বদেশে ফিরতে পারে, তার জন্য সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।    

গত ২৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।  প্রতিদিন নতুন করে বাংলাদেশ সীমান্তে এসে ভিড় করছে রোহিঙ্গা সদস্যরা।  এ ঘটনাকে জাতিগত নিধনের ধ্রুপদি উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। 

এটি এক মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।  পালিয়ে আসাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি, যাদের ওপর পাচারকারীদের লোলুপদৃষ্টির বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা। 



মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হয়ে বাস্তুচ্যুত ও অবরুদ্ধ রোহিঙ্গাদের মধ্যে মানবিক সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান, উপদ্রুত অঞ্চলে গণমাধ্যমের কর্মীদের প্রবেশাধিকার এবং জাতিসংঘের উদ্যোগে রাখাইন রাজ্যের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তে সহযোগিতার জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রেক্স টিলারসন। 

আগামী মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এশিয়া সফরে বের হচ্ছেন।  এ সময় তিনি দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর একটি সম্মেলনেও অংশ নেবেন, যেখানে মিয়ানমারের প্রতিনিধিও থাকবেন।  এর ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের সঙ্গে এই আলোচনা করলেন।