১৮, ডিসেম্বর, ২০১৭, সোমবার | | ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

মানুষের ভালোবাসা ও নেতাকর্মীদের সমর্থনে উজ্জীবিত খালেদা জিয়া

৩০ অক্টোবর ২০১৭, ১০:৩৫

মিয়ানমান সেনা ও বুদ্ধদের হত্যাযজ্ঞের কবল থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহর উখিয়া যাওয়ার পথে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক এবং উৎসবমুখর। 

প্রিয় নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে মহাসড়কের দু’পাশে বিপুল উপস্থিতি, বর্ণিল সাজসজ্জা ও স্লোগানে স্লোগানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারবাসী। 

খালেদা জিয়াকে এক নজর দেখতে
নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ধানের শীষ ও ব্যানার হাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন রাস্তার পাশে।  নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে নেতারা রাস্তায় এনেছেন হাতি, সাজিয়েছেন ব্রিজ আর ছিটিয়েছেন ফুলের পাপড়ি। 

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুইপাশে ও পাশের ভবনগুলোতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।  মানুষের বিপুল ভিড়ের কারণে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মাত্র ১৫৫ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে গাড়িবহরের। 

দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে মানুষের এমন বিপুল উপস্থিতিকে অভূতপূর্ব বলেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।  তারা বলছেন, মানুষের এ ভালোবাসা ও নেতাকর্মীদের এমন সমর্থনে উজ্জীবিত হয়েছেন খালেদা জিয়া।  যাত্রাপথে গাড়ির গ্লাস নামিয়ে এবং হাত নাড়িয়ে অভিবাদনের জবাব দিয়েছেন খালেদা জিয়া।  চলতি পথে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ঠাকুরদীঘি এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে বহনকারী গাড়ির চাকায় পেরেক ঢুকলে বহর থামিয়ে চাকা পরিবর্তন করা হয়। 

এর আগে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানাতে রোববার সকালেই চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।  সার্কিট হাউজ থেকে বেলা ১২টার সময় কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  এ সময় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সামনে হাজার হাজার নেতাকর্মী মুহুর্মুহু স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। 

নগরীর কাজির দেউরি, জুবলী রোড, নিউমার্কেট, ফিরিঙ্গিবাজার ও কর্ণফুলী সেতুর উত্তরপ্রান্ত পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে ব্যানার-ফেস্টুনসহ দাঁড়িয়ে নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা।  খালেদা জিয়াকে বরণ করতে ধানের শীষ হাতে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর উপর অবস্থান নেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।  নেতাকর্মীদের ভিড়ের কারণে কর্ণফুলী সেতু পার হতেই গাড়িবহরের কেটে যায় আধঘণ্টার বেশি সময়। 

কর্ণফুলী ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে মইজ্জার টেক হয়ে ত্রিমুনা রাস্তার মাথা পর্যন্ত প্রতিযোগিতা করে শোডাউন দেন সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম ও বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর সমর্থক নেতাকর্মীরা। 

পটিয়ার ভেল্লাপাড়া ব্রিজের দৃশ্যটি ছিল অন্যরকম।  হাতি, ব্যান্ডপার্টি ও হলুদ শাড়ি পরে নারীরা কুলো থেকে ফুল ছিটিয়ে খালেদা জিয়ার বহরকে বরণ করেন।  দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এনামুল হকের আয়োজনে পুরো ব্রিজটি সাজানো হয় জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিশাল আকারের ছবি, কাঁচাফুলের মালা দিয়ে। 

পটিয়ার শান্তির হাটে সাবেক এমপি গাজী শাহজাহান জুয়েল, মনসারটেকে সাবেক মন্ত্রী মোরশেদ খান, এরশাদ উল্লাহর অনুসারী নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বিপুল উপস্থিতির মাধ্যমে গাড়িবহরকে স্বাগত জানায়।  পটিয়া পৌরসভার সাবেক এমপি গাজী শাহজাহান জুয়েল ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, চন্দনাইশের রওশনহাটে ডা. মহসিন জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ধানের শীষ নিয়ে নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। 

চন্দনাইশের গাছবাড়িয়ায় অবস্থান নিয়ে জোটনেত্রীকে স্বাগত জানান শরিক দল এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের অনুসারীরা।  দোহাজারি শঙ্খনদী ব্রিজের দুইপাড়ে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে শোডাউন করেন ডা. মহসিন জিল্লুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম রাহী। 

সাতকানিয়ার কেরানীহাটে বান্দরবান জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাচিং প্রু জেরি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিএনপি নেতা প্রফেসর শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও মজিবুর রহমান, লোহাগাড়া বাসস্টেশনে নাজমুল মোস্তফা আমিন ও ফৌজুল কবির ফজলুর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক মানুষ খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান। 

আজিজনগর শিল্পাঞ্চলে বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতি ম্যা মা চিং, আজিজনগর ব্রিকফিল্ড, হারবাং, বানিয়ারছড়া ও চিরিঙ্গা পৌরসভায় বিপুল শোডাউনের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসনকে অভ্যর্থনা জানান ভারতে অবস্থানরত দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। 

ঈদগাঁও স্টেশন থেকে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে শতাধিক মোটরসাইকেলের স্কোয়াড করে নিরাপদে কক্সবাজার পৌঁছে দেন সাবেক এমপি লুৎফর রহমান কাজলের অনুসারী নেতাকর্মীরা।  পথে জোয়ারিয়ানালা, পানিছড়া, রামু বিশ্বরোড, খরুলিয়া, লিংক রোড, কলাতলী ডলফিন মোড় ও সার্কিট হাউজে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান।  রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার সার্কিট হাউজে পৌঁছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।  সেখানে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে অভ্যর্থনা জানান। 

এদিকে মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিগত নির্মূল ও গণহত্যার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণে আজ উখিয়ার বালুখালী, হাকিমপাড়া ও ময়নারঘোনা যাবেন খালেদা জিয়া। 

বিএনপির মহাসচিব জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া তার এই সফরে প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারকে ত্রাণ দেবেন।  সন্ধ্যায় কক্সবাজার ফিরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েই ফিরতি পথ ধরবেন তিনি।  চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাতযাপন শেষে আগামীকাল ঢাকা ফিরবেন বিএনপি চেয়ারপারসন।