১৯, নভেম্বর, ২০১৭, রোববার | | ২৯ সফর ১৪৩৯

মৃত্যুর সময় মানুষের কতটা কষ্ট সহ্য করতে হয় বলে দিবে কর্ম

০৮ নভেম্বর ২০১৭, ০৪:৪৭

মৃত্যুর সময় মানুষ কতটা কষ্ট পায় সেটা যদি জীবিত কোন মানুষ জানত তাহলে হয়তো সে আর কোন দিন পাপ কাজের ধারে কাছেও যেত না।  কিন্তু ঠিক মৃত্যুর সময়ে মানুষের কিরকম কষ্ট হয় সেটা কোরআনে থাকলেও হিন্দুদের পুরাণে দেওয়া আছে এই রকম কিছু তথ্য।  সেখানে বর্ননা করা আছে, কিভাবে মৃত্যুর সময় আত্মা বেড় হয়।  আত্মা বেড় হওয়ার সময় কি অবস্থা হয়। 

হিন্দুদের পুরাণ অনুযায়ী, জীবনের একেবারে শেষ মুহুর্তে এসে মানুষ তার সবকিচু দেখতে পায়।  কিন্তু তখন তার শরিরের সমস্ত জ্ঞান ধ্বংস
হয়ে যায়।  তাই তখন তার করার কিছুই থাকেনা। 

পুরাণের তথ্যানুযায়ী, ঐ ব্যক্তির মুখ থেকে এরপর লালা পড়ে।  এসময় মৃত্যুদূতরা এসে তার সামনে দাড়ায়।  এদের দেখতে ভয়ানক।  গায়ের রং কুচকুচে কালো হয়।  মুখের কোন নির্দিষ্ট অবয়বও হয় না।  আর নখ হয় অস্ত্রের মত ধারালো। 

মৃত্যুর সময়ে অনেকেই প্রস্রাব করে ফেলেন।  এই প্রতিবেদনটির দাবি, এই ভয়ানক দেবতাদের দেখেই ভয়ে প্রস্রাব করে ফেলেন মানুষ।  সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয় সেই ব্যক্তির।  তার পরেই যমদূত সেই ব্যক্তির আত্মা বেঁধে নিয়ে যান। 

যমলোকে যাওয়ার পথে সেই আত্মা খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়ে।  কিন্তু কোনও ভাবেই যমদূতরা তাকে বিশ্রাম করতে দেন না।  বরং যমলোকে গিয়ে আরও কতও শাস্তি তার জন্য অপেক্ষা করছে, সেই কথা শুনিয়ে তাকে ভয় দেখাতে থাকেন।   

এই সব কথা শুনে সেই আত্মা আর্তনাদ করতে থাকে।  কিন্তু হাজার চোখের জল ফেলেও কিছুতেই সেই যমদূতদের সহানুভূতি পায় না আত্মা।  তখনই নিজের পাপের কথা এক এক করে তার মনে পড়তে থাকে।  মনে পড়তে থাকে, এই ভাবেও সে বহু মানুষকে কাঁদিয়েছিল। 

যমলোকে পৌঁছনোর পরে যমরাজের সঙ্গে দেখা হয় সেই আত্মার।  তখন যমরাজ সেই আত্মাকে কিছু সময়ের জন্য যেখানে মৃত্যু হয়েছিল সেখানে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেন। 

নিজের মৃতদেহ দেখে তার মধ্যে আবার প্রবেশ করার চেষ্টা করে সেই আত্মা।  তখনই আবার তাকে যমলোকে ফিরিয়ে আনা হয়। 

গড়ুর পুরাণে বলা আছে, মৃত্যুর পরে পরিবারের সদস্যরা মৃত ব্যক্তির আত্মাকে শান্তি দিতে শ্রাদ্ধ না করলে, সেই আত্মা বিভিন্ন জায়গায় হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ায়।  তাই মৃত্যুর ১০ দিনের মধ্যে পিণ্ড দান করতে বলা হয়।