১৯, নভেম্বর, ২০১৭, রোববার | | ২৯ সফর ১৪৩৯

হবিগঞ্জ-সিলেট সংসদ সদস্য এমপি কেয়া চৌধুরীর উপর যুবলীগ নেতার হামলা

১০ নভেম্বর ২০১৭, ১০:২৭

মিজানুর রহমান সোহেল  হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।  বাহুবলে নারী সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।  হামলার পরপরই তাৎক্ষণিক ভাবে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  প্রতিবাদ সভা শেষে অসুস্থ সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরীকে বাহুবল হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেয়া হয়।  ঘটনাটি ঘটেছে আজ সন্ধ্যার আগ দিয়ে উপজেলার মিরপুরস্থ বেদে পল্লীতে।  প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, হবিগঞ্জ-সিলেটের
দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরী এমপি আজ শুক্রবার বিকেলে মিরপুরস্থ বেদে পল্লীতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে যান। 

এ উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী স্থানে সমাবেশের মঞ্চ তৈরি করা হয়।  এক পর্যায়ে যুবলীগ নেতা মো. তারা মিয়া ও আওয়ামী লীগ নেতা আলাউর রহমান সাহেদের নেতৃত্বে কিছু লোক মঞ্চ থেকে মাইক খুলে নিয়ে যায়।  এ নিয়ে হট্টগোল বাধলে তারা মিয়া ও সাহেদের নেতৃত্বে উশৃঙ্খল কর্মীরা হামলা চালায়।  এতে তিনি ওই স্থানে সমাবেশ করতে না পেরে নিকটস্থ মিরপুর চৌমুহনীতে এসে রাস্তায় বসে প্রতিবাদ জানান।  আধঘণ্টারও বেশি সময় রাস্তায় অবস্থানের পর চৌমুহনীতে শত শত লোকের সমাগম ঘটে।  এক পর্যায়ে কেয়া চৌধুরী এমপি মাইক চাইলে তাকে মাইক এনে দেয়া হয়।  ঘটনাস্থলে মাইক পৌঁছার পরপর তাৎক্ষণিক সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।  সমাবেশে কেয়া চৌধুরী এমপি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসকার আলী, লামাতাসী ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান চৌধুরী টেনু, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ফরিদ তালুকদার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. আবুল হোসেন, মিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা কদর আলী, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অলিউর রহমান অলি, উপজেলা মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাহেলা আক্তার প্রমুখ।  সমাবেশে কেয়া চৌধুরী এমপি হামলাকারীদের নাম-পরিচয় উল্লেখ করে বলেন, আমি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপহার নিয়ে সুবিধাবঞ্চিত বেদে লোকজনের কাছে এসেছিলাম।  জোয়াড়ি তারা মিয়া ও সাহেদের নেতৃত্বে উশৃঙ্খল কর্মীরা আমার উপর হামলা করে, আমার মঞ্চ থেকে মাইক খুলে নিয়ে যায়। 

তিনি জনগণের কাছে এর বিচার দিয়ে বলেন, আপনারাই বলুন আমার কি অপরাধ।  কেন এরা আমাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে বাঁধা দিচ্ছে।  এদিকে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তৃতার এক পর্যায়ে কেয়া চৌধুরী এমপি মাথাঘুরে পড়ে যান।  সাথে সাথে তাকে গাড়িতে তুলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাহুবল হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।  এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে, বাহুবলের উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. বাবুল কুমার দাশ বলেন, কেয়া চৌধুরী এমপি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন।  তার শারীরিক অবস্থায় বিবেচনায় উন্নত পরীক্ষা-নীরিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।  বর্তমানে তিনি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। 

এদিকে, কেয়া চৌধুরীর উপর হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বাহুবল বাজারে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে জুতা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে