২৪, নভেম্বর, ২০১৭, শুক্রবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

যে ৪ শর্তে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে মিয়ানমার

১১ নভেম্বর ২০১৭, ০১:২৬

রাখাইন রাজ্য থেকে সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও গণহত্যার মুখ থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চারটি শর্ত দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। 

গতকাল শুক্রবার ইয়াঙ্গুনে ভারত-মিয়ানমার সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে শরণার্থী বিষয়ে দেশটির অবস্থান নিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কলকাতার সংবাদমাধ্যম দৈনিক আনন্দবাজার। 

সম্মেলনে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ইউ কিইয়াও জেয়া’র দেওয়া চারটি শর্ত হলো- যেসব রোহিঙ্গা এ দেশে দীর্ঘদিন বসবাসের প্রমাণপত্র
দাখিল করতে পারবেন, স্বেচ্ছায় রাখাইনে ফিরতে চাইবেন, পরিবারের কেউ এদিকে রয়েছেন তেমন প্রমাণ দেখাতে পারবেন এবং বাংলাদেশে জন্মানো শিশুগুলোর বাবা-মা উভয়েই মিয়ানমারের স্থায়ী বাসিন্দা। 

এসব বিষয় প্রমাণিত হলে তবেই তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। 

তবে এ বিষয়ে কূটনীতিকরা বলছেন, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে যারা ভিটেমাটি ছেড়ে এসেছেন, তাদের কাছে নিজেদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে প্রমাণের কোনো নথি না থাকাটাই স্বাভাবিক। 

কলকাতার ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ, ইয়াঙ্গুনের ভারতীয় দূতাবাস এবং মিয়ানমারের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সম্মেলনেও বিষয়টি উঠে আসে। 

এর উত্তরে ইউ কিইয়াও জেয়া বলেন, স্কুলে পড়া, হাসপাতালে চিকিৎসা, চাকরির নথি- এ সবের মতো কিছু প্রমাণ তো দেখাতেই হবে।  না হলে ফেরত নেওয়াটা মুশকিল। 

শরণার্থী সঙ্কটের বিষয়ে কেন এত কড়া শর্ত- তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, রাখাইন প্রদেশের এই সমস্যা কেবল মানবিক বিষয় নয়।  নিরাপত্তাও একটা বড় কারণ। 

রাখাইনে সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়াকে নিজেদের আন্তরিকতার প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছেন ইউ কিইয়াও জেয়া। 

এদিকে নিউ লাইট অব মিয়ানমার খবর দিয়েছে, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত মংডুতে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) বিলি শুরু করেছে মিয়ানমার সরকার।