১৮, ডিসেম্বর, ২০১৭, সোমবার | | ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

২৮ কেজি ওজনের ১০ মাসের শিশু!

১৩ নভেম্বর ২০১৭, ১২:৩৪

অবাক হলেও সত্য যে ছোট্ট ১০ মাসের এক শিশুর ওজন মেপে দেখা গেল ২৮ কেজি।  ঠিক কি কারণে এ অবস্থা শিশুটির তার নিয়ে ডাক্তারদের গবেষণা ও চিকিৎসা চলছে।  ২৮ কেজে ওজনের এ শিশুটিকে নিয়ে শিশুটির পিতামাতা বর্তমানে বেশ দুশ্চিন্তায় আছেন।  শিশুটির মাবাবা কোলে পিঠে করে আর যত্নে অনেকটা ভারাক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। 

দশ মাস বয়সী মেক্সিকোর লুইস মানুয়েল গনজালেসও কথা বলার চেষ্টা করে।  চোখের সামনে যা পায় তাই হাত দিয়ে স্পর্শ করার চেষ্টা করে।  কিন্তু এসব কিছু ছাপিয়ে খবরের
শিরোনাম হচ্ছে লুইস।  কেননা এতো অল্প বয়সেই লুইসের ওজন ২৮ কেজি।   

জন্মের সময় লুইসের ওজন ছিল সাড়ে ৩ কেজি।  ওই সময় তার তিন বছর বয়সী ভাই মারিয়োর ওজনও একই ছিল।  মাত্র দুই মাস বয়সেই লুইসের ওজন দাড়ায় দশ কেজিতে।  আর পরবর্তী আট মাসে এটির সঙ্গে যোগ হয় আরো ১৮ কেজি। 

লুইসের মা ইসাবেল পানতোজা বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম আমার বুকের দুধের গুণগত মানের কারণে এমনটা হচ্ছে।  তবে কি কারণে লুইস এতো ভারি সেটা বলতে পারছেন না ডাক্তাররাও। 

এদিকে লুইসের খরচের জন্য প্রয়োজন বহু টাকার।  কিন্তু ওর বাবার মাসে আয় মাত্র ২শ’ ডলারের কিছুটা বেশি।  তাই লুইস মানুয়েলের চিকিৎসার জন্য বাধ্য হয়েই একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন তার বাবা-মা।  খুলেছেন একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও যাতে মানুষজন সাহায্যের টাকা পাঠাতে পারেন। 

একজন শিশু বিশেষজ্ঞ তাদের বলেন, লুইসকে হরমোন ইনজেকশন দিতে হতে পারে, যেটির প্রতিটির দাম ৫শ’ ৫৫ মার্কিন ডলার।  তবে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও জানা যাচ্ছে না ঠিক কি কারণে এমনটা হচ্ছে।  একটি তত্ত্ব হচ্ছে যে লুইস প্রাডের-উইলি সিন্ড্রোমে ভুগছে।  এটি একটি জিনগত অবস্থা যেখানে কোনো শিশু বারবার খেতে চায় কিন্তু তার পেশি টোন দুর্বল।  কিন্তু লুইস এমন নয় যে সে বারবার বা কিছুক্ষণ পর পর খেতে চায়। 

এ ধরনের ডিসঅর্ডার হার্টের সমস্যাসহ মস্তিষ্কে বিকাশ এবং প্রজনন অঙ্গকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।  কখনো লুইসের বাবা আবার কখনো লুইসের মা ওকে রক্ত পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। 

লুইসের বাবা মারিয়ো গনজালেস বলেন, নার্সরা যখন ওর শিরা খোঁজার চেষ্টা করে, সেই দৃশ্যটা খুবই কষ্টদায়ক।  পানতোজা আলতোভাবে হাত বুলিয়ে যাচ্ছিলেন লুইসের ওপর।   যখন ও এক মাসের বেশি বয়সী তখনই লুইসকে দুই বা তিন বছর বয়সী বাচ্চাদের কাপড় পরাতে হতো।  যেদিন লুইসকে প্রথম টিকা দেয়া হয় তখন ওর ওজন ছিল দশ কেজি।  কিন্তু এখন অবস্থা খুবই ভয়াবহ।  সপ্তাহে চারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য লুইসকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হচ্ছে।  এমনকি বেশি ওজনের কারণে একদিন পড়ে যায় লুইস। 

লুইসের বাবা-মার সঙ্গে ওই সাক্ষাৎকারের সময় ওর পায়ের পাতায় সুড়সুড়ি দিলেই ও হেঁসে ওঠে।  অন্য সব শিশুর মতো লুইসও মুখের ভেতর বিভিন্ন জিনিস ঢোকানোর চেষ্টা করে।  শুধু তাই নয়, প্রত্যেকটা জিনিসকে খুব আগ্রহ সহকারে লক্ষ্য করে লুইস। 

তবে লুইস হাঁটতে পারে না এমনকি হামাগুড়ি দিতেও পারে না।  ও শুধু সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে।  ওকে কোলে নিতে নিতে এখন ক্লান্ত পানতোজা। 

তবে লুইসের জন্য আশার আলো দেখতে পাচ্ছে ওর পরিবার।  একজন পুষ্টি বিশেষজ্ঞ সিলভিয়া ওরোজকো লুইসের বাবা-মার সঙ্গে দেখা করে, ওর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে।  ওরোজকো বলছেন, লুইসের জীবন বিপন্ন।  তবে ওর টিস্যুর নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে বিশ্লেষণের জন্য।  সেটির ফলাফল জানা গেলে আরো ভালোভাবে লুইসের সমস্যার ব্যাপারে বলা যাবে। 

তিনি আরো বলেন, এমনও হতে পারে শিশুটি প্রাডের-উইলি সিন্ড্রোমে ভুগছে না।  বরং যখন লুইস ওর মায়ের পেটে ছিল, এমনও হতে পারে যে পানতোজা কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান খায়নি।  আর এর কারণে হয়তো যেই গ্লান্ডটি ওর মেটাবোলিজমকে নিয়ন্ত্রণ করে সেটি ঠিক মতো কাজ করতে পারেনি। 

যদি এমনটা ঘটে থাকে তাহলে লুইসের সেরে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।  আর সেটা হয়তো হরমোন ইনজেকশন ব্যবহার করেই। 

মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলীয় রাজ্য কলিমার টেকোমানে বসবাস করেন গনজালেস পরিবার।  শিশু স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসের দিক দিয়ে মেক্সিকোর অবস্থান শীর্ষে।  যার একটি নির্মম উদাহরণ হচ্ছে লুইসের এই স্থূলত্ব।