২৪, নভেম্বর, ২০১৭, শুক্রবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

গভীর রাতে কুবির ছাত্রী হলে পুলিশের অনুপ্রবেশ অধিকার ও নিরাপত্তার দাবীতে ছাত্রীদের মানববন্ধন

১৩ নভেম্বর ২০১৭, ১১:০৩

কুবি প্রতিনিধি ঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে(কুবি) ছাত্রীদের একমাত্র আবাসিক হলে গভীর রাতে পুলিশ অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে।  এ ঘটনার জের ধরে প্রাপ্য অধিকার এবং নিরাপত্তার দাবিতে মানবন্ধন করেছে সাধারণ ছাত্রীরা।  সোমবার দুপুরে ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলায় নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের ছাত্রীরা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। 

জানা যায়,সোমবার গভীর রাতে স্াদা পোশাকধারী কয়েকজন পুলিশ কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী নিবাস নবাব ফয়জুন্নেছা
চৌধুরানী হলে প্রবেশ করে।  এসময় তারা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আইভী রহমানের সাথে কথা বলেন।  এতে হলে বসবাসরত সাধারণ ছাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলায় নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের ছাত্রীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।  মানববন্ধনের আগে হলের প্রাধ্যক্ষ এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে হলে অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য পৃথকভাবে আবেদন করেন তারা। 

মানববন্ধনে ছাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘‘সোমবার গভীর রাতে আনুমানিক ২টা ১৭ মিনিটের সময়ে কয়েকজন সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য ছাত্রী হলে প্রবেশ করেন।  এসময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আইভী রহমানের সাথে ওই ব্যক্তিদের কথা বলতে দেখা যায়।  গভীর রাতে পুলিশ সদস্যদের এরকম প্রবেশ আমাদের মাঝে ভীতি সঞ্চার করেছে। ’’  মানববন্ধনে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘‘ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা তাদের বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে আসছেন।  নাশকতামূলক কর্মকান্ডে জড়িত এমন অভিযোগ তুলে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয় এমনটা দাবী করছেন ছাত্রীরা। 

মানববন্ধনে সাধারণ ছাত্রীদের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী বীথি আক্তার বলেন, ‘‘বেশ কিছুদিন ধরে হলে সিট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হচ্ছে।  এর প্রতিবাদ করায় আমরা বিভিন্ন ব্যক্তির হুমকির শিকার হচ্ছি।  এই অবস্থায় আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। ’’ ছাত্রী হলে পুলিশ এসেছিল কিনা বিষয়টির সত্যতা জানার জন্য সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখার দাবি জানান তিনি। 

মানববন্ধন শেষে প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের সাথে কথা বলেন আন্দোলনরত ছাত্রীরা।  প্রক্টরের কাছে কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, গতরাতে (রবিবার দিবাগত রাতে) ছাত্রলীগের এক নেত্রী আমাদের হুমকি দিয়ে আসছিল।  এ সময় আমাদেরকে পুলিশের ভয়ভীতিও দেখানো হয়।  পরে রাত আড়াইটায় কয়েকজন সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য হলের মূল গেইটে প্রবেশ করে ঐ নেত্রীর সাথে কথা বলে।  তবে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আইভি রহমান বলেন, ‘’পোশাকধারী পুলিশ এসেছিল।  তাদের সাথে আমি গেইটের ভিতরে দাঁড়িয়ে কথা বলেছি,তারা ভিতরে প্রবেশ করেননি। ’’

ছাত্রীদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘‘এ অভিযোগ সত্য নয়।  পুলিশ গেইটের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকমীদের সাথে কথা বলেছে শুধু,ভিতরে প্রবেশ করে নাই।  সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই প্রমান পাওয়া যাবে। ’’
ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘‘এটা কোন সাধারণ ছাত্রীদের আন্দোলন নয়।  ছাত্রী সংস্থার ছাত্রীরা এমনটি করেছে।  এদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। ’’

ছাত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী হলের প্রাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান শিকদার বলেন, ‘‘ওদের একটা অভিযোগ আমি পেয়েছি।  আগামীকাল (মঙ্গলবার) হলে প্রভোস্ট বডির মিটিং ডেকেছি,সেখানে বিষয়টি আলোচনা হবে। ’’ পুলিশ প্রবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘গেইট থেকেই এক ছাত্রীর সাথে টহল পুলিশ কথা বলেছে।  কিন্তু ভিতরে প্রবেশ করেনি। ’’

প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘‘ছাত্রীদের সাথে আমি কথা বলেছি।  তাদের দাবীর বিষয়ে জেনেছি।  মূলত হলের আসন নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে।  তবে পুলিশ প্রবেশের বিষয়টি সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাবে। ’’