২৪, নভেম্বর, ২০১৭, শুক্রবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

কাহালুতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরীর অনৈতিক কর্মকান্ডে ক্ষুব্দ এলাকাবাসী

১৪ নভেম্বর ২০১৭, ০৬:২৬

মোঃ ফাহিম আহম্মেদ রিয়াদ (কাহালু-বগুড়া) ঃ কাহালু উপজেলার মদনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরীর চাকুরী করে ঐ গ্রামের আমিনুল ইসলাম।  চলতি বছরে দুটি নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে যাওয়ায় স্থানীয় লোকজন চরম ক্ষুব্দ হয়েছেন।  গ্রামবাসী জানান, মদনাই স্কুলের অধ্যায়নরত শিশুকন্যারা আমিনুলের কাছে নিরাপদ নয়।  স্থানীয় সাংবাদিক ইমদাদ হোসেন মদনাই গ্রামের হাফেজ মাস্টারসহ গ্রামবাসীর বরাদ দিয়ে জানান, কয়েক মাস পূর্বে গভীর রাতে ঐ গ্রামের এক বিধবার বাড়িতে
প্রাচীর টপকে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা চালায়।  বিধবার চিৎকার শুনে গ্রামবাসী লম্পট আমিনুলকে হাতে-নাতে আটক করে।  গ্রামে শালিস-দরবার হলে মাতবরদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করায় প্রথমবারের অপরাধের কথা বলে তাকে সামান্য শাসন করে রেহায় দিয়েছে শালিসকারীরা।  এ ঘটনার কিছুদিন পরেই অসহায় ওই নারী চরম হতাশা নিয়ে মারা যান।  সম্প্রতি মদনাই স্কুলের এক ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে জড়িয়ে ধরে যৌন্য হয়রানীর চেষ্টা করে।  ঐ সময় অন্য শিক্ষার্থীরা দেখে ফেললে স্কুলের শিক্ষকদের বলে দেয়।  বিষয়টি নিয়ে গত ৪ নভেম্বর স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকরা স্কুলে দরবার শালিস করে।  কিন্ত শালিসে লম্পট আমিনুলের শাস্তির বিষয়টি এবারও শুন্যে।  বিদ্যালয়ের সভাপতি মতিয়ার রহমান জানান, ম্যানেজিং কমিটির বেশীর ভাগ সদস্য ইতিপূর্বের মত জানিয়েছেন প্রথমবার মত আমিনুলকে ক্ষমা করে দেওয়া হোক।  বেশীর ভাগ সদস্য এই ধরনের মতামত দেওয়ায় আমিনুল অপরাধ করার পরেও তাকে শাস্তি দেওয়া যায়নি।  তিনি আরো জানান, আমিনুল ভুল স্বীকার করে একটি লিখিত দিয়েছে ভবিষ্যতে এই ধরনের ভুল করবেনা।  এ বিষয়ে আমিনুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাক্ষাত পাওয়া যায়নি।  তবে মদনাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা জুলেখা পারভীন তার একটি মোবাইল ফোন নাম্বার দিলে সেই মোবাইল ফোনে বার বার কল করা হলে কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি।  এ ব্যাপারে মদনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জুলেখা পারভীন মোবাইল ফোনে জানান, তাকে স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছিলো গত ২ নভেম্বর এক ছাত্রীকে আমিনুল জড়িয়ে ধরে।  এস এম সির মিটিং এ আমিনুল জানায় ছাত্রীর খালু হয় সে।  যার ফলে ইয়ার্কির ছলে আমিনুল তাকে আদর করতে করতে বলেছে তোমাকে আমার ছেলের বউ বানাবো।  মিটিংএ ছাত্রীর অভিভাবকসহ ম্যানেজিং কমিটির সদস্য তাকে প্রথমবারের মতো ক্ষমা করে দিতে বলেছে।  তাছাড়া ছাত্রীর অভিভাবকরা আমিনুলের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি।  যার ফলে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত কোনো প্রদক্ষেপ নিতে পারিনি।  তবে গ্রামবাসী জানান, আমিনুল ঐ ছাত্রীর কেউ হয়না।  এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার এস এম সারওয়ার জাহানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, আমি প্রধান শিক্ষকের কাছে ঘটনাটির বিস্তারিত জানতে চেয়েছি।  বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আমিনুলের কোনো অপরাধ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।