১৯, নভেম্বর, ২০১৭, রোববার | | ২৯ সফর ১৪৩৯

বিপিএলের ৭ম দিনে বাংলাদেশী পারফর্মাররা

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১২:৫৭

জহুরুল অমিঃ ৪৫*(৩৯)

তার ইনিংসের শুরু থেকেই মনে হচ্ছিলো তিনি হয়তো ম্যাচটা হারাতে যাচ্ছেন।  কিন্তু না, শুরু থেকেই রয়ে সয়ে খেলতে থাকা জহুরুল খোলস ছেড়ে বের হন পোলার্ড আউট হওয়ার পর থেকে এবং রিভার্স স্কুপে চার মেরে ম্যাচ শেষ করেই বের হন মাঠ থেকে।  একইসাথে পেয়ে যান ম্যাচসেরার পুরষ্কার। 

ইমরুল কায়েসঃ ৪৫(৩৬)

অমির মতোই তার ইনিংসের শুরুটাও ছিলো ভয় জাগানিয়া।  কিন্তু যতোই সময় গড়িয়েছে ততোই খোলস ছেড়ে বেড়িয়েছেন কায়েস।  পায়ে ক্র্যাম্প হওয়ার পরেও মেরেছেন
দুইটি ছক্কা।  সবমিলিয়ে ৩৬ বল খেলে দুই চার এবং তিন ছক্কায় ৪৫ রান করে জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরষ্কারটাও। 

নাজমুল শান্তঃ ২৪(২৫)

ইনিংসের শুরুটা পেয়েছিলেন ঠিকঠাক, সম্ভাবনা ছিলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কিন্তু পারেননি তিনি, থেমেছেন মাত্র ২৪ রানেই। 

সাকিব আল হাসানঃ ২০(১৭)

খুলনার দেয়া ১৫৭ রান তাড়া করতে নেমে টপঅর্ডারের ব্যর্থতার পর প্রথম কাউন্টার অ্যাটাকটা করেন সাকিব আল হাসানই।  শুরু থেকে পজিটিভি এটিচ্যুডে ব্যাট করতে সাকিবকে দেখে মনে হচ্ছিলো আজকে তারই দিন।  কিন্তু প্রতিপক্ষ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ওভারে ছক্কা মারতে গিয়ে মাত্র ২০ রানেই থেমে গিয়েছেন ঢাকার অধিনায়ক। 

লিটন দাশঃ ২১(২০)

নাজমুল শান্তর মতোই একই কথা প্রযোজ্য লিটন দাশের ক্ষেত্রেও।  সম্ভাবনা সবসময়ই দেখান বড় কিছুর, কিন্তু সেই আশার বেলুনটাও চুপসে দেন প্রায়শই। 

সৌম্য সরকারঃ ৩০(৩২)

অপর প্রান্তে লুক রঙ্কি ধুমধারাক্কা ব্যাটিং শুরু করলে এই প্রান্তে সৌম্য থাকেন দর্শক হয়ে, আজ নিজেও শুরু করেছিলেন মারমুখী ভাবেই, কিন্তু সময় গড়াতেই ঢুকে গিয়েছেন খোলসের ভেতরে এবং শেষতক আউট হয়েছেন টেস্ট ইনিংস খেলে। 

শফিউল ইসলামঃ ৪-০-২৪-২

খুলনা টাইটানসের ১৫৬ রান ডিফেন্ড করতে যা দরকার ছিলো তার পুরোটাই করেছেন শফিউল ইসলাম।  কিন্তু তবুও জেতাতে পারেননি দলকে।  চার ওভার থেকে মাত্র ২৪ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন মি. "বাল" শহীদ আফ্রিদির উইকেট এবং পরের স্পেলে ফিরিয়েছিলেন ডেঞ্জারম্যান কাইরন পোলার্দকেও, কিন্তু শেষ রক্ষে আর করতে পারেননি নিজ দলকে। 

আবু জায়েদ রাহীঃ ৩-০-২৪-২

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দারূণ বল করে আসছেন রাহী।  আজকেও শুরু র দুই ওভার করেছেন ভালোভাবে।  কিন্তু অধিনায়ক রিয়াদের ভুল ক্যালকুলেশনে নিজের কোটার চার ওভার শেষ করতে পারেননি।  তবে প্রথম স্পেলেই তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ডেঞ্জারম্যান এভিন লুইসকে। 

আবু হায়দার রনিঃ ৪-০-৪০-২

বোলিং ফিগারটা ঠিক বুঝাবে না রনি কতোটা ভালো বল করেছিলেন আজ।  নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভালোই বল করছিলেন তিনি।  শেষ ওভারে ইয়র্কার করার চেষ্টায় কয়েকটা লো ফুলটস দানব হয়ে ওঠা ব্রাথওয়েটের ব্যাটে পড়ায় বোলিং ফিগারটা ঠিক ভদ্র থাক্কেনি। 

সানজামুল ইসলামঃ ৩-০-১৪-২

কৌতুকে ভরা চিটাগাং ভাইকিংসের হাস্যকর অধিনায়কত্বের কল্যাণে ফ্রন্টলাইন স্পিনার সাঞ্জামুল স্পিনার বোলিং করতে আসেন এগারোতম ওভারে।  সেখান থেকে আর নিজের কোটা পূরণ করতে পারেননি, তবে তিন ওভার থেকে ১৪ রান দিয়ে প্রতিপক্ষের দুই সেরা ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস এবং জোশ বাটলারকে আউট করেন তিনি।  

মোহাম্মদ সাইফুদ্দীনঃ ৪-০-৩০-১

নিশ্চিতভাবেই আগামী দুই বছরের মধ্যে একটা ইয়র্কার মাস্টার পেতে যাচ্ছি আমরা।  গুরুত্বপূর্ণ মোমেন্টে যেভাবে ব্লক হোল, ইয়র্কার লেন্থ ডেলিভারি করে যায় সাঈফ, খুব আশা জাগায় মনে।  নিজেকে ধরে রাখতে পারলে ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে সাইফুদ্দিনের জন্য। 

তাসকিন আহমেদঃ ২-০-১৮-০

কোনো উইকেট না পেয়েও তাসকিন কেন এই তালিকায়? কারণ তাসকিনের প্রথম ওভারের ছয় বলের পাঁচটাই ছিলো মাপা ইয়র্কার।  ইভেন পরে ওভারেও আরো দুইটা ইয়র্কার করেন তাসকিন।  আজীবতর শটে শটে জশ বাটলার ইয়র্কার দেলিভারি যে কিভাবে কভারের উপর দিয়ে শক্কা মারসে তা এখনো ভেবে পাওয়া যায় না।