১৯, নভেম্বর, ২০১৭, রোববার | | ২৯ সফর ১৪৩৯

ধর্ষণ থেকে বাঁচতে ট্রেন থেকে ঝাপ দিল মা-মেয়ে

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১০:১৮

ট্রেনের ভেতরে বখাটেদের হাতে ধর্ষণ থেকে বাঁচতে তাঁরা শনিবার রাতে আপ হাওড়া-জোধপুর এক্সপ্রেস থেকে ঝাঁপ দেন মা ও মেয়ে ।  রাতেই স্থানীয় বাসিন্দারা কানপুরের কাছে চান্দেরি স্টেশনে তাঁদের নিয়ে যান।  রেল পুলিশ কানপুরের একটি সরকারি হাসপাতালে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। 

সুস্থ হওয়ার পর সোমবার ভোররাতে ফরাক্কা এক্সপ্রেসে তাঁদের গন্তব্যস্থল দিল্লি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।  জানা গিয়েছে, মহিলার স্বামী কর্মসূত্রে দিল্লির বাসিন্দা।  হাওড়ার
এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তিনি তাঁর নবম শ্রেণিতে পাঠরত মেয়েকে সঙ্গে করে হাওড়া-জোধপুর এক্সপ্রেসে দিল্লি রওনা দেন।  তাঁর অভিযোগ, অসংরক্ষিত কামরায় বেশ কয়েকজন যুবক তাঁর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করছিল।  মেয়েকে ধরে টানাটানিও করছিল।  তিনি একাধিকবার প্রতিবাদ করেন।  এরপর মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেয় তারা।  ইলাহাবাদ স্টেশনে আরপিএফ কর্মীদের কাছে অভিযোগ জানান তিনি।  আরপিএফ তিন যুবককে কামরা থেকে নিয়ে যায়।  কিন্তু পরে ছেড়ে দেয় তাদের।  ট্রেন ইলাহাবাদ ছাড়তেই ওই যুবকেরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়েটিকে বাথরুমে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনি মেয়েকে নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেন। 

কানপুর রেল পুলিশের সুপার প্রতীপ মিশ্র জানান, অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের নামে পকসো আইনে অভিযোগ দায়ের করে মামলা শুরু হয়েছে।  পাশাপাশি, ঘটনার রাতে মা-মেয়েকে প্রয়োজনমতো সহায়তা না করার অভিযোগে জিআরপি’র এক মহিলা সাব ইনস্পেক্টর এবং একজন কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে তিনি জানান। 

চান্দেরি রেল পুলিশের আধিকারিক আর পি রায় এদিন জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে।  অভিযোগকারিণীর জবানবন্দি নথিভুক্ত হয়েছে।  ওই কামরাতেই মহিলার এক ভাই নজরুল ইসলাম এবং এক আত্মীয় ফারুক শেখ ছিলেন।  তাঁরাও দিল্লি যাচ্ছিলেন।  তাঁদেরও বক্তব্য নথিভুক্ত হয়েছে।  ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনার পরেই তাঁরা ট্রেন থেকে চান্দেরি স্টেশনে নেমে যান।