১৮, ডিসেম্বর, ২০১৭, সোমবার | | ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

বিয়ে করে মা হতে চাই, কিন্তু!

২২ নভেম্বর ২০১৭, ০৮:০৪

বাকী আট দশ জন মানুষের মত বিয়ে করেই সংসার পেতে চান।  প্রতিটি মানুষই তার জীবনে সাংসারিক জীবনের জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকেন।  পাকিস্তানি অভিনেত্রী মীরাও ঠিক তাই।  আইনি প্রকিয়া দেওয়াল তুলেছে।  আবার এদিকে যে মেঘের কারণে বেলা অনেকটা গড়িয়ে পড়েছে।  বয়স ইতিমধ্যে চল্লিশের কোঠায় গিয়ে পড়েছে, হতাশার ডালপালাও দিন দিন বেড়ে গিয়েছে।  আতিক-উর-রেহমান নামের একজন পাকিস্তানি ব্যবসায়ী নিজের স্ত্রী দাবি করে মীরার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। 

বিপত্তি ঘটেছে এখানেই। 
হয়তো এ কারণেই তিনি মা হতে পারছেন না।  কেননা, দেশটির প্রচলিত আইন বলছে, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যে মীরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না।  মীরা এ বিষয়ে হতাশায় বলেন, বিয়ে করতে চাই আমি।  আমি সন্তানের মা হতে চাই।  সময় তার আপনগতিতে চলে যাচ্ছে, কিন্তু...........! আমি আদালতে এভাবে লড়াই করতে করতে যে এখন ক্লান্ত।  মানসিকভাবে যে আমি ভেঙে পড়েছি।  পাকিস্তানি এই অভিনেত্রী তাকে অবিবাহিত প্রমাণ করার জন্য গত সাত বছর যাবৎ আইনি লড়াই করে যাচ্ছেন।  স্বামী দাবিদ্বার করা আতিক অভিযোগ তুলেছেন, তার সাথে মীরার বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু মীরা তাদের মদুজনের মধ্যকার বিয়ের সংবাদ গোপন করে নিজেকে অবিবাহিত বলে রীতিমত দাবি করে যাচ্ছেন। 


বুধবার ২২ নভেম্বর বিবিসির অনলাইনে বলা হয়েছে, মীরা পাকিস্তান চলচ্চিত্রের খুব জনপ্রিয় একটি মুখ।  ৪০ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী দেশ পেরিয়ে বলিউডেও অভিনয় করেছন।  তার রাজনিতীতে অংশ নেওয়ার ইচ্ছাও রয়েছে।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মীরা বেশ অ্যাক্টিভ।  সব সময় তিনি নিত্য নতুন সব রঙ ঢঙের ভিডিও পোস্ট করে আলোচনায় থাকেন।  ২০০৯ সালে সাংবাদিকদের আতিক-উর-রেহমান নামের ফয়সালাবাদের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ২০০৭ সালে গোপনীয়তা মীরা ও সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।  বিয়ের খবর মীরা প্রকাশ করতে চায়নি।  বাকী সবাইকে মীরা অবিবাহিত বলে রটিয়ে বেড়াচ্ছেন।   মীরার এই বিসয়ে তিনি মনঃকষ্টে ভূগছেন।  পরে মীরার বিরুদ্ধে তিনি আদালতে কয়েকটি মামলা দায়ের করেন।  এমন কী প্রমাণস্বরূপ তিনি বিয়ের কাবিননামা ও স্ত্রীর মেডিকেল পরীক্ষার কাগজ পত্র হাজির করেন।  দাবি করেন তারা যেখানে থাকতেন তা দেখার জন্য। 

মীরার আইনজীবী বালাক শের খোসা জানিয়েছেন, আতিক-উর-রেহমান আদালতে মীরার মেডিকেল পরীক্ষার যে আবেদনপত্র করেছিলেন তা লাহোর হাইকোর্ট পরে খারিজ করে দেন।  পরে ২০১০ সালে মীরা আতিক-উর-রেহমানের দাখিল করা ‘কাবিননামা’ কে চ্যালেঞ্জ করে মীরা নিজে একটি পাল্টা মামলা করেন।  মীরা তার পাল্টা মামলায় দাবি করেন যে তিনি কাউকেই বিয়ে করেননি।  আতিক-উর-রেহমান নামের ব্যক্তিটি কেবলি আলোচনায় অঅসার জন্য এসব করেছেন। 

তাহালে এখানে মীরা না আতিক; কার কথা বিশ্বাসযোগ্য??? একজন বন্ধার মাধ্যমে আতিকের সাথে মীরার পরিচয় হয়।  আতিক কয়েকটি কনসার্ট ও আয়োজনে উদ্যোক্তা হিসেবে ছিলেন।  আর তার পরেই আতিক কিচু ভূয়া বানোয়াট ছবি কোথেকে যেনো হাজির করে দাবি করছেন যে তারা বিবাহিত।  এমনটাই জানিয়েছেন মীরা।  মীরা আরো বলেন, সে কীভাবে আমাকে তার স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন।   আমি একজন তারকা।  কী কারণে বা কেনোই বা আমি ঘরোয়াভাবে তার মত একজনকে বিয়ে করতে যাব? অপরদিকে আতিকের আইনজীবী আলী বোখারি বলেন, আমার মক্কেল আতিক মীরার মা ও তার চাচার উপস্থিতিতে মীরাকে বিয়ে করেছেন।  এখন মীরার উচিত হবে আতিককে তার স্বামী হিসেবে গ্রহণ করে নেওয়া। 

বিয়ের ভূয়া নিবন্ধনপত পাকিস্তানে বের করা একদমই সহজ ব্যাপার।  আবার তারকারা যে বিয়ে করে তার গোপন রাখে সেটাও কিন্তু সকলেরই জানা।  বিশেষ করে অভিনেত্রীদের মধ্যে এমনটা হয়ে থাকে।  তাদের মতে বিয়ের খবর প্রকাশিত হলে ক্যারিয়ারে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।  দর্শক চাহিদাও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  তাদেরকে সব সময় তাড়কাখ্যাতি কমে যাওয়ার এই আশঙ্কা তাড়িয়ে বেড়ায়।  কিন্তু মীরার ক্ষেত্রে কোনটা ঘটেছে তা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না, সেজন্য আদালতের রায়ের অপেক্ষায়ই যে সকলের থাকতে হবে!