১৮, ডিসেম্বর, ২০১৭, সোমবার | | ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

নীলফামারীতে দীর্ঘদিন নিখোঁজ ৩ চিকিৎসক

২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০৬:৪২

নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীতে দীর্ঘদিন ধরে তিন চিকিৎসক নিখোঁজ রয়েছেন।  কর্মস্থল থেকে বিনা ছুটিতে লাপাত্তা রয়েছেন তারা।  গত তিন মাসে তিন চিকিৎসক সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেননি। 
নিখোঁজ চিকিৎসকরা হলেণ-নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক ইমরান হাসান ও একই উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক মামুনুর রশীদ চৌধুরী ও ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল
অফিসার চিকিৎসক শওকত আলী শাফায়াত।  
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিকিৎসক মামুনুর রশীদ চৌধুরী ২০১২ সালের ২৪ জুন ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে নাউতারা ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। 
কর্মরত অবস্থায় ওই বছরের ৪ আগস্ট থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি।  সেখানে তিনি ৪০ দিন কর্মরত ছিলেন।  তার যোগদানের ঘেটে দেখা গেছে, তার বাড়ি চট্রগ্রামের মীরসরাই উপজেলার মিঠানালা গ্রামে।  তার বাবার নাম হাফিজুর রহমান। 
অপরজন চিকিৎসক ইমরান হাসান।  ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দেন ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট।  এরপর ২০১৫ সালের  ১ আগস্ট থেকে বিনা ছুটিতে লাপাত্তা হন তিনি। 
এখানে তিনি এক বছর কর্মরত ছিলেন।  চিকিৎসক ইমরান হাসান নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা শহরের শহীদ আতিয়ার কলোনী মহল্লার ইকবাল হাসানের ছেলে। 
এদিকে, ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক শওকত আলী শাফায়াত ২০১০ সালের ১ জুলাই কাজে যোগ দেন।  যোগদানের পরের দিন থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি।  তার নামের প্রোফাইলে এর বেশি কিছু লেখা নেই।  এমন কি তার চাকরির কোড নম্বরসহ বাড়ির ঠিকানাও পাওয়া যায়নি। 
কর্মস্থলে তাদের অনুপস্থিতির বিষয়টি ধরতে পেরে তাদের বাড়ির ঠিকানায় তিন দফায় পত্র পাঠান সংশ্লিষ্ট দফতর।  কিন্তু কোনো উত্তর মেলেনি।  ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য (প.প) কর্মকর্তা সারেয়ার আলম বলেন, ডিমলায় দুইজন চিকিৎসক দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত।  বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। 
নীলফামারী সিভিল সার্জন চিকিৎসক রনজিৎ কুমার বর্ম্মন বলেন, কর্মস্থলে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়।  মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে।  তবে এই তিন চিকিৎসকের এখন পর্যন্ত খোঁজ পাওয়া যায়নি।