১৮, ডিসেম্বর, ২০১৭, সোমবার | | ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

গোপালগঞ্জে উৎপাদনে আসছে এসেনশিয়াল ড্রাগস লিমিটেডে প্রকল্প

২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০৭:০৪

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : আগামী এপ্রিলেই উৎপাদনে যাচ্ছে এসেনশিয়াল ড্রাগস্ লিমিটেডের গোপালগঞ্জ প্রকল্প (তৃতীয় প্রকল্প)।  প্রকল্পটি উৎপাদনে গেলে দেশের ৭শ’ ৭৮ জন ব্যক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।  ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।  প্রকল্পের অভ্যন্তরে মাটি ভরাট, ভবনগুলোর সাজসজ্জা, মেশিনারি মালামাল স্থাপন ও জনবল নিয়োগ সম্পন্ন করেই উৎপাদনে যাবে প্রকল্পটি।  প্রকল্পটি চালু হলে একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে এ প্রকল্পের উৎপাদিত
উন্নতমানের ওষুধ দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করার চিন্তা ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টর কর্মকর্তাগণ। 
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া নামক স্থানে ১০ একর জায়গার উপর শুরু হয় এসেনশিয়াল ড্রাগস্ লিমিটেডের গোপালগঞ্জ প্রকল্পের কাজ।  এ প্রকল্পে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫শ’ ৯৮ কোটি টাকা।  এটি চালু হলে একদিকে দেশের বেকার সমস্যা দূর হবে, পাশাপাশি গোপালগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।  এসেনশিয়াল ড্রাগস্ লিমিটেড জরুরি কিছু ওষুধ উৎপাদন করে থাকে।  তারা এসব ওষুধ নামমাত্র মূল্যে সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করে থাকে।  ফলে দেশের গরিব-অস্বচ্ছল রোগীরা উপকৃত হয়।  এসেনশিয়াল ড্রাগস্ লিমিটেড তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে দেশের আনাচে কানাচে সেবা সম্প্রসারণ করতে কারখানা তৈরি করছে।  গোপালগঞ্জে এই কারখানাটি চালু হলে সেখানে প্রায় হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।  এতে ওই এলাকায় বেকারত্ব কমবে।  পাশাপাশি বাড়বে মানুষের সেবা। 
জানা গেছে, প্রকল্পের মোট কাজের ৮০ ভাগ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।  বাংলাদেশ ফাউন্ডারি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস্ লি. নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দ্বারা চলমান এ কাজ ইডিসিএল ঢাকা অফিসের ২৪ জন কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।  পরামর্শক প্রতিষ্ঠানেরও দুইজন কর্মকর্তা এ কাজের নিয়মিত দেখাশোনা করছেন।  প্রকল্পটিতে ৪টি ইউনিট থাকবে, যার একটিতে তৈরি হবে পেনিসিলিন, অপরটিতে হরমোন ইনজেকশন ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি।  তৃতীয়টিতে স্যালাইন ও অন্যটিতে আয়রন ট্যাবলেট।  এগুলো এ অঞ্চল ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছড়িয়ে পড়বে।  প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও সাইড ইনচার্জ মফিজুর রহমান শেখ জানান, আমি সহ ইডিসিএল এর ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সার্বক্ষনিক তদারকীর মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজ বুঝে নিচ্ছি।  আমাদের পাশাপাশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দুইজন কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক কাজের গুনগত মান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।  আশা করছি এখানকার সবকিছু কর্তৃপক্ষের সন্তোষজনক হবে।  যথাযথ নিয়মে এখানকার সব কর্মকা  এগিয়ে চলেছে।  বিষয়টি নিয়ে কথা বললে গোপালগঞ্জ তৃতীয় প্রকল্পের প্রকল্প ব্যাবস্থাপক ইমাম হাসান জানান, আশা করছি আগামী ২০১৮ সালের এপ্রিলের মধ্যে অন্তত একটি ইউনিটে উৎপাদন কাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্ভোধন করা হবে।  পর্যায়ক্রমে বাকি তিনটি ইউনিটও উৎপাদনে যাবে।  প্রকল্পের অভ্যন্তরে মাটি ভরাট, ভবনগুলোর সাজসজ্জা , বিদেশ থেকে আমদানি করা উন্নত মানের মেশিনারি মালামাল স্থাপন ও জনবল নিয়োগ সম্পন্ন করেই উৎপাদনে যাবে প্রকল্পটি।