১৫, ডিসেম্বর, ২০১৭, শুক্রবার | | ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

মাওলা আমার গাড়ি নিয়া নেরে মাওলা মাওলা বাড়ি নিয়া নে সব নিয়া নেরে মাওলা সব.......

২৪ নভেম্বর ২০১৭, ০৩:৪০

নিজের গাওয়া এ গানের মতোই অগণিত ভক্ত-অনুরাগীদের কাঁদিয়ে চলে গেলেন প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক-লোকসংগীত শিল্পী এবং বংশী বাদক বারী সিদ্দিকী।  আজ দিবাগত রাত আড়াইটায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।  এ খবর নিশ্চিত করেছেন তার পুত্র সাব্বির সিদ্দিকী। 

গত ১৭ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন জনপ্রিয় এ শিল্পী।  শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি।  আধাঘণ্টার মধ্যে অচেতন অবস্থায়
তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।  এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্ট দেন। 

বারী সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।  মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোণার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়।  তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষসহ অসংখ্য গুণীশিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন। 

সত্তরের দশকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত হন বারী সিদ্দিকী।  ওস্তাদ গোপাল দত্তের পরামর্শে ক্লাসিক্যাল মিউজিকের উপর পড়াশোনা শুরু করেন।  পরবর্তী সময়ে বাঁশির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন ও বাঁশির ওপর উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নেন।  নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুনে গিয়ে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন।  দেশে ফিরে এসে লোকগীতির সাথে ক্লাসিক মিউজিকের সম্মিলনে গান গাওয়া শুরু করেন। 

১৯৯৫ সালে বারী সিদ্দিকী প্রখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘রঙের বাড়ই’ নামের একটা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে প্রথম সংগীত পরিবেশন করেন।  এরপর ১৯৯৯ সালে হুমায়ূন আহমেদের রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে ৭টি গানে কণ্ঠ দেন।  এর মধ্যে ‘শুয়া চান পাখি’ গানটির জন্য তিনি অতিদ্রুত ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।