১৫, ডিসেম্বর, ২০১৭, শুক্রবার | | ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ৫ বছর পূর্তিতে হতাতদের স্মরণ

২৪ নভেম্বর ২০১৭, ১১:২৭

রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে ২০১২ সালরে ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাজরীন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ৫ বছর পূর্তিতে হতাতদের স্মরণ করেছে বিভিন্ন সংগঠন।  এসময় দ্রুত এ ঘটনার বিচার কাজ শেষ করার দাবিতে বিক্ষোভও করেন তারা। 

কেটে গেছে পাঁচ বছর।  এখনো যেন নাকে লাগে মানুষের শরীর পোড়া গন্ধ।   অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১৩ জন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।  আহত হন অন্তত ৩ শতাধিক শ্রমিক।  এখনো অনেক পোশাক শ্রমিকের মৃতদেহের খোঁজ পাওয়া যায়নি, ডিএনএ
টেস্টে নিহত ১৩ জনের পরিচয় মেলেনি।  তাজরীন ট্র্যাজেডির পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিপূরণ পাননি ক্ষতিগ্রস্তের অনেকে।  নিহতদের অসহায় এতিম শিশুদেরও কেউ খোঁজখবর নেননি। 

শুক্রবার সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে অবিস্থত তাজরীন ফ্যাশনের পুড়ে যাওয়া ভবনের প্রধান ফটকে ফুল দিয়ে হতাহতদের স্মরণ করা হয়।  পরে সেখানেই বিক্ষোভ করেন তারা।  সকালে অশ্রুসিক্ত নয়নে নিহত শ্রমিকদের স্মরণ করেন তাদের স্বজনরা।  পরে একে একে পোশাক কারখানার শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। 

শ্রদ্ধা জানানো শেষে বিক্ষোভ মিছিল থেকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সব ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিককে অবিলম্বে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও মালিক দেলোয়ার হোসেনের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। 
 
শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নানা আন্দোলন ও সংগ্রাম হলেও এখনো অধরাই থেকে গেছেন তাজরীনের মালিক দেলোয়ার।  সরকারসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি থেকে নিহতদের পরিবার সহযোগিতা পেলেও আহতদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন না কেউ।  ঘটনায় আহতদের অনেকেই ভুগছেন কঠিন যন্ত্রণায়।  কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন অনেকেই। 

এদিকে, তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক নিহত হওয়ার পাঁচ বছর পূর্তিতে প্রতিবাদ মঞ্চ গড়ে তোলা হয়েছে ওই কারখানার পাশে।  'তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারবর্গ' ব্যানারে এ প্রতিবাদ মঞ্চটি স্থাপন করেছে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিবারবর্গ। 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডের পরদিন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।  সেই মামলায় নাশকতার পাশাপাশি অবহেলাজনিত মৃত্যুর দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারা যুক্ত করা হয়। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক এ কে এম মহসিনুজ্জামান খান ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিজিএম) আদালতে তাজরীন ফ্যাশনস- এর এমডি দেলোয়ারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। 

চার্জশিটভুক্ত বাকি আসামিরা হলেন, তাজরীন ফ্যাশনস-এর চেয়ারম্যান মাহমুদা আকতার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুলাল, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনারুল, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল-আমিন, স্টোর ইনচার্জ আল-আমিন ও লোডার শামীম মিয়া।