১৫, ডিসেম্বর, ২০১৭, শুক্রবার | | ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও আড়াই বছর বেতন-ভাতা উত্তোলন

২৪ নভেম্বর ২০১৭, ০৬:৫৯

নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৪৬ নং খুদিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উৎপল কুমার বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও গত আড়াই বছর যাবৎ সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।  আর এসব কাজে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান এবং সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম তাকে সহযোগীতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।  কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাত করায় ওই শিক্ষকসহ এর সাথে জড়িতদের
বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতন মহল। 
সরেজমিনে জানা যায়, গত ২৮/০৩/২০১৫ তারিখে ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন উৎপল কুমার।  এরপর প্রায় দু’মাস বিদ্যালয়ে ক্লাস করলেও আজ অবধি তিনি কোন ক্লাস করেননি।  বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১২০ জন।  শিক্ষকের পদ সংখ্যা ছয় জন হলেও প্রধান শিক্ষকের পদ শুণ্য রয়েছে প্রায় ছয় মাস থেকে।  এরপর থেকে সহকারী শিক্ষিকা রেহেনা আক্তার বানুকে অতিরিক্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়।  তিনি বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকেন।  উৎপল কুমার দীর্ঘদিন থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত।  বাকী তিন জন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান।  এই তিন জন শিক্ষক পাঠদান করাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমসিম খেতে হচ্ছে।  ফলে পড়াশুনার পরিবেশ একেবারেই ভেঙে পড়েছে।  বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উৎপল কুমারকে চেনেন না বলেও জানা গেছে। 
অপরদিকে, শিক্ষক উৎপল কুমার বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকে ধরাকে সরা করে চলছেন।  তিনি মান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে শিক্ষা অফিসারের পেছনের টেবিলে বসে কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্ব পালন করছেন।  পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের পার্শ্বের একটা ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে ‘মাষ্টার কম্পিউটার’ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দিয়েছেন।  ফলে সেখানেও ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকেন।  বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও দু’তিন মাস পর পর তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হাজিরা খাতায় ও রির্টান ফরমে একবারে সবগুলো স্বাক্ষর করেন।  ফলে বছরের পর বছর সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।  
শিক্ষক উৎপল কুমারকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, শিক্ষা অফিসার স্যার সব বিষয়ে জানেন। 
বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জামিল হোসেন প্রামানিক বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে বারবার তাগাদা দেয়া হলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।  গত ৪ নভেম্বর ম্যানেজিং কমিটির সভা হয়।  সেখানেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়।  বিধি বর্হিভূত ভাবে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।  
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেহেনা আক্তার বানু বলেন, শিক্ষক স্বল্পতায় প্রতিনিয়ত পাঠদানে অসুবিধা হচ্ছে।  এছাড়া শিক্ষক উৎপল কুমার বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির বিষয়টি বার বার শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়েছে।  হাজিরা খাতা ও রির্টান ফরমে তার অনুপস্থিত দেখিয়ে শিক্ষা অফিসে জমা দেয়া হয়।  অথচ শিক্ষা অফিস সেই কাগজপত্রগুলো ঠিকঠাক করে দিয়ে তার বেতন-ভাতা উত্তোলনে সহযোগীতা করেন। 
ওই বিদ্যালয়টি সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা(এটিও) রেজাউল করিমের নিয়ন্ত্রনে।  এটিও রেজাউল করিমের নিকট শিক্ষক উৎপল কুমারের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘নট অনলি খুদিয়াডাঙ্গা, বাট অল উপজেলা স্কুল’।  ওই স্কুলের বিষয়ে কোন মন্তব্য করবোনা।  যদি অন্য স্কুলের বিষয়ে জানতে চান, তার উত্তর দিবো।  
মান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান বলেন, অফিসে অফিস সহকারি নাই।  চারটি পদ শূণ্য রয়েছে।  উপজেলায় প্রায় এক হাজার ১০০ জনের মতো শিক্ষক রয়েছে।  আর উৎপল কুমার প্রামানিকের কম্পিউটারেও বেশ দক্ষতা আছে।  কম্পিউটারে লেখালেখি থেকে শুরু করে অফিসে অনেক কাজ করে সে। 

তিনি আরো বলেন, ওই স্কুলে যে কয়জন শিক্ষক রয়েছে এই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট।  এতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কোন যুক্তিই আসে না।  এজন্য উৎপল কুমারকে অফিসেই রাখা হয়েছে।