১৪, ডিসেম্বর, ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

মেয়র আনিসুল হক মারা যাওয়ার আগে শেষ যে কথা বলেছিলেন

০২ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:৫০

সবুজ ঢাকা আর যানজটমুক্ত ঢাকার স্বপ্ন দেখা মেয়র আনিসুল হক জীবনের কর্মময় শেষদিনেও ভেবেছিলেন ঢাকাবাসীর কথা।  নিজের অসুস্থার মাঝেও সুদূর লন্ডন থেকে তার তাড়া ছিল ঢাকায় ফিরে এসে আবারও নগরবাসীর জন্য কাজ শুরু করার।  আনিসুল হকের কর্মক্ষেত্রে শেষ দিনগুলোতে একান্তভাবে পাশে ছিলেন তার মালিকানাধীন নাগরিক টিভির সিইও আব্দুর নূর তুষার এবং তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। 

মেয়র আনিসুল হক মারা যাওয়ার পর এই দু’জন আবেগাপ্লুত হয়ে জানিয়েছেন, তাদের শেষ
সময়ের স্মৃতির কথা।  নাগরিক টিভির সিইও আব্দুর নূর তুষার বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হবার আগের দিন আমার সাথে শেষ কথা হয়।  আমার সাথে ৩০ বছরের সম্পর্ক।  কোনটা বলব? উনি ফোন করেছিলেন আমাকে। 

তুষার বলেন, মেয়র বলেছিলেন, তুমি লন্ডন চলে আসো।  ঢাকা শহরেতো আমার অনেক কাজ বাকি।  আমি কবে ফিরতে পারব? ঢাকায় ফিরতে হবে।  কাজগুলাতো করতে হবে।  তোমার কি মনে হয়? আমি কি দু’সপ্তাহের মধ্যে ফিরতে পারব? না হলেতো আমার ঢাকার কাজগুলোর কথা সবাইকে বলে হাসপাতালে যেতে হবে। 

আব্দুর নূর তুষার বলেন, আমি উনাকে বলেছিলাম- এখনতো এগুলো বলার সময় না।  আনিস ভাই বললেন, মানুষের কাজতো ফেলে রাখা যাবে না।  আমিতো মানুষের কাছ থেকে দায়িত্ব নিয়েছি। 

নাগরিক টিভির সিইও বলেন, এরপর তার কথা ছিল পরের দিন আবার আমাদের কথা হবে।  তিনি সেই শেষ কথার দিন আমাকে এও বলেছিলেন, সিটি করপোরেশনের আইনগুলো ভালভাবে পড়ো।  আমি যদি কিছুদিন অনুপস্থিত থাকি তাহলে কি কি করতে হবে তা ভালভাবে জেনে রাখ।  পরে তিনি হাসপাতালে যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে যাবার পর আর বেশি কথা হয়নি। 

তুষার বলেন, আমি একবার ওনার কাছে যাই।  দীর্ঘদিন উনাকে ওষুধ দিয়ে রাখা হয়েছিল।  একদিন তিনি চোখ খুলেছিলেন।  কিন্তু কোনো কথা বলতে পারেননি। 

আনিসুল হকের পিএস মিজানুর রহমান বলেন, আমার সাথে ১৩ আগস্ট শেষ কথা হয়।  ১৫ আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বনানী কবরস্থানে আসার কথা ছিল।  এ নিয়ে তিনি আমাকে ফোন করেছিলেন।  অনেক্ষণ কথা হলো। 

বারবার বলছিলেন তোমরা বারবার যাও, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাতে বনানী কবরস্থানের অনুষ্ঠানটা ভালোভাবে করতে পারেন।  সেই ব্যবস্থা করি।  তিনি ছবি চাইলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কেমন প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি তার।  ছবি পাঠানোর পর প্রস্তুতি দেখে উনি খুশি হলেন। 

মিজান বলেন, ঢাকার ৪ হাজার বাস আর আমিন বাজারের উদ্ধার করা ৫২ একর জায়গা নিয়ে উনার (আনিসুল হকের) অনেক বড় স্বপ্ন ছিল।