১৪, ডিসেম্বর, ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলামেই এবারে আওয়ামী লীগের আলোচনায়

০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:৫১

জে,জে ভ্রাম্যমান বিশেষ প্রতিনিধিঃ দেড় বছর বাকি এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচার ও প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা। 

সৎ, বিনয়ী, পরীক্ষিত ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীদের তুলনামূলকভাবে জনপ্রিয়তা বেশি দেখা যাচ্ছে।  মাঠে এবার তরুণদের প্রাধান্য দিতে পারে বলে বেশ খবর পাওয়া যাচ্ছে। 

এসব মানবিক-রাজনৈতিক গুণাবলীসম্পন্ন প্রার্থীদের ঘিরে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে সারাদেশে। 

কুড়িগ্রাম-৪
আসনে সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুল আলমের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।  মাঠ পর্যায়ে তার জনপ্রিয়তাও বেশি। 

গত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম ৪ আসনে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছিলেন যা তিনি এখনও অব্যাহত রেখেছেন। 

ফলে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে তাঁর শক্তিশালী সেতুবন্ধন গড়ে উঠেছে।  তাছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক থাকাকালে গ্রাম হতে আসা কোন কর্মীকে তিনি বিমুখ করেননি।  যতটা সম্ভব সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। 

সাইফুল আলম  এলাকায় কর্মীবান্ধব ও ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে পরিচিত, যা তার জনপ্রিয়তাকে সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি করে চলেছে। 
ইতোমধ্যে উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রাম-গঞ্জে নিয়মিত গণসংযোগ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে আসছেন সাইফুল আলম। 

দলীয় ত্যাগী নেতা-কর্মীদের একত্রিত করা, সাধারণ ভোটারদের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে প্রচার করা এবং দলের পক্ষে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা কর্মসূচি পালন করতে দেখা যাচ্ছে সাবেক এই ছাত্রনেতাকে। 

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিগত ২০০২ সালে বন্দবেড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ সভাপতি পদ দিয়ে ছাত্ররাজনীতির হাতেখড়ি তার।  পরিবর্তীতে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ন আহবায়ক,কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, পরে সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। 

ছাত্ররাজনীতি শেষ করে তিনি জনগনের সেবায় স্থানীয় আ:লীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।  এবং বিপুল ভোটে রৌমারী উপজেলা আ:লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। 

একাদশ সংসদ নির্বাচনে পুনরায় তিনি একই আসনের প্রার্থী হিসাবে নিজেকে তুলে ধরেছেন।  মনোনয়ন পাওয়ার আশায় এলাকায় তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজ এবং নানা শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। 

ছাত্রলীগের রাজনীতির পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।  তার রাজনৈতিক কর্মকান্ড- ও আওয়ামী লীগের আদর্শের প্রতি তাঁর আত্ত্বত্যাগের পুরস্কার হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নজর কেড়েছেন তিনি। 

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গড়ে উঠেছে তাঁর বিশাল কর্মীবাহিনী।  যাদের ভালোবাসায় আজ সাইফুল ইসলাম  জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 

অন্যদিকে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আওয়ামী লীগের নীতি, আদর্শ ও দলে প্রতি আনুগত্যের প্রশ্নে আপসহীন সাইফুল ইসলাম,ওয়ান-ইলেভেনের মাইনাস শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। 

কুড়িগ্রাম-৪ আসনটি এরশাদ এর জাতীয়পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।  ঐতিহ্যগতভাবে এ অঞ্চলটিতে জাতীয়পার্টির জনপ্রিয়তা বেশি। 

১৯৯১ সালের পর একমাত্র একবার আসনটি দখল করে আওয়ামী লীগ। বাকি সব জাতীয় মাঠে সক্রিয় ছিলো। 

তবে এ আসন হতে রাজীবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম,সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী আব্দু রাজ্জাকের শ্যালক মুরাদ লতিফ,আরো মনোনয়ন চাইতে পারেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী জিল্লুর রহমান ও রৌমারী উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর রহমানসহ অনেকে।  তবে গ্রহনযোগ্যতা মাঠে নেতাকর্মীদের মুখে সাইফুল আলমের নাম বেশ জনপ্রিয়। 

জাতীয় পার্টির নিয়ন্ত্রনে থাকায় এলাকার কোনও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও তেমন হয়নি।  এলাকার ভোটাররা মনে করেন, দেশের ছেলে সাইফুল ইসলামই তাদের প্রকৃত অভিভাবক, এলাকার প্রতি সাইফুলের টান মাটি ও মানুষের টান।  তাই এবার আর কোনও অতিথি প্রার্থী নয়, দেশের সন্তান এবার দেশের মাটিতেই প্রার্থী হোক এই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর !

সেই হিসাবে জনপ্রিয়তা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছ ইমেজের কারণে সাইফুল আলম  দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। 

প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, "২৮ কুড়িগ্রাম-৪ আসন একটি অহেলিত এলাকা জনপদ,তাই এই এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলে এই এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যা নদী ভাঙ্গন রোধ,কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সাধারন মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাবেন তিনি"।