১৪, ডিসেম্বর, ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

২০২৫ সালের মধ্যে ১০ শতাংশের বেশি গাড়ি হবে চালকহীন- জয়

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৩:২১

বাংলাদেশের শিক্ষার সকল পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা। ’ তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতবাণী করতে চাচ্ছি না।  তবে কোন সেক্টর ছেড়ে কোন সেক্টরের উন্নতি করা হবে, এর জন্য আমাদের আইডিয়া মানুষের কাছে তুলে ধরতে চাই।  যা আপনা আপনি উন্নতির পথে যায়। ’

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী
তথ্যপ্রযুক্তির মহাসম্মেলন ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড–২০১৭’ এর দ্বিতীয় দিনে মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্স এসব কথা বলেন তিনি।  এসময় পাঁচ দেশের মন্ত্রীসহ সাত দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

গ্লোবাল কনসাল্টিং গ্রুপ এর জারফ মুনিরের সঞ্চালনায় এই কনফারেন্সে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত ভবিষ্যতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।  এজন্য ৪র্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে এখন কথা বলার সময় এসেছে।  কারণ, দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তি মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনছে। ’

তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির বিকাশ ও শিল্পায়নও দ্রুত ঘটছে।  ২০২৫ সালের মধ্যেই ন্যানোম্যাটেরিয়ালের বাণিজ্যিক ব্যবহার দেখা যাবে।  এসব ন্যানোম্যাটেরিয়াল স্টিলের চেয়েও ২০০ গুণ শক্ত, কিন্তু চুলের চেয়েও পাতলা।  থ্রিডি প্রিন্টেড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট হবে।  ১০ শতাংশের বেশি গাড়ি হবে চালকহীন। ’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জীবনেও এর প্রভাব দেখা যাবে।  আগামীর বাংলাদেশ পৃথিবীর এসব উন্নত প্রযুক্তিগুলোকে গ্রহণের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে। ’

সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘সরকার বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ করেছে।  জনগণ তথ্যপ্রযুক্তির সুফলও ভোগ করছে।  ফলে, বাংলাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ।  এই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডেই আপনারা দেখেছেন ড্রোন, বিশ্বের উন্নত রোবট সোফিয়াকে। ’

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে মোবাইল সুপারকম্পিউটিং, চালকহীন গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমান রোবট, নিউরো প্রযুক্তির ব্রেন, জেনেটিক এডিটিং দেখতে পাবে।  প্রযুক্তির এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জন্য আমাদেরকে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে হবে। ’

নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ও প্রকৌশলীদের জন্য আগামী ভবিষ্যত হবে এবং এজন্য নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে জয় বলেন, ‘বর্তমানে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ থেকে দেওয়া হচ্ছে, ভবিষ্যতে প্রাথমিক স্তরেও আইসিটি শিক্ষা দেয়া হবে।  দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ভবিষ্যত পরিকল্পনা রয়েছে আইটি শিক্ষা প্রাইমারি লেভেল থেকে শুরু করার। ’

তিনি বলেন, ‘৬ষ্ঠ শ্রেণির চেয়ে প্রাথমিকে আইটি শিক্ষা শুরু করা কঠিন হবে না এ লেভেলে শুধুমাত্র লেখা শেখানো বা তাদের হোমওয়ার্ক ট্যাবের মাধ্যমে করা ইত্যাদি করা যেতে পারে। ’

‘এখানে আমাদের রিসোর্স একটি চ্যালেঞ্জ, স্বল্পমূল্যে ট্যাবলেট ও কম্পিউটার দেশে তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।  আশা করছি কয়েক বছরের মধ্যে প্রাথমিক থেকে এ শিক্ষা শুরু করা যাবে,’ যোগ করেন তিনি। 

২০০৮ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হওয়ার পর বর্তমানে দেশের ৪০ শতাংশ সরকারি সেবা ডিজিটাইজড হয়েছে জানিয়ে জয় বলেন, ‘আগামীতে বেশীরভাগ সেবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হবে।  ভবিষ্যতে ৮০ শতাংশ সরকারি সেবা স্মার্টফোনের মাধ্যমে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসা হবে। ’

এ সময় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেন,  ‘গত ৯ বছরে বাংলাদেশ দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে।  আমরা দ্রুত এগিয়েছি।  ভবিষতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করছি।  তরুণদের উদ্যোক্তা হতে পথ দেখাচ্ছি।  ৫ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি। ’

কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য উপদেষ্টা ডায়োডোনি কালোম্বো কোলি বাডিবাং, কম্বোডিয়ার ডাক ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী কান চানমেটা বক্তব্য রাখেন। 

এছাড়া কনফারেন্সে ভুটানের তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী দিনা নাথ ডঙ্গায়েল, মালদ্বীপের সশস্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তা উপমন্ত্রী থরিক আলী লুথুফি, ফিলিপাইনের আইসিটি অধিদপ্তরের পরিচালক নেস্টর এস বোঙ্গাটা, সৌদি আরবের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান ও মন্ত্রীর উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাহাদ আলী আরাল্লাহ অংশ নেন।