১৪, ডিসেম্বর, ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

প্রশ্নপত্রে উসকানির দায়ে পরিক্ষা কমিটিতে ১০ বছর নিষিদ্ধ রাবির দুই শিক্ষক

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৪:২৭

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) চারুকলা অনুষদের (আই ইউনিটের) ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে সাম্প্রদায়িক উসকানির দায়ে দুই শিক্ষকে ১০ বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ধরনের পরীক্ষা কার্যক্রমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।  তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

পরিক্ষা কমিটিতে নিষিদ্ধ হওয়া ওই দুই শিক্ষক হলেন, চারুকলার অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের
সহকারী অধ্যাপক মো. জিল্লুর রহমান।  এছাড়া শিক্ষক জিল্লুর রহমান ‘সহযোগী অধ্যাপক’ পদে পদন্নোতি পাবেন নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর পর। 

বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান, সিন্ডিকেট সদস্য মো. মামুন আব্দুল কাইউম। 

তিনি বলেন, “ডিনের পদ থেকে অব্যাহতির জন্য আইনগত কোনো বাধা যদি না থাকে, তাহলে অধ্যাপক মুস্তাফিজকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। ”

রাবির ২০১৭-১৮শিক্ষাবর্ষের ¯œাতক সম্মান ভর্তি পরিক্ষায় গত ২৫ অক্টোবর চারুকলা অনুষদের (আই ইউনিটের) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।  ওই পরিক্ষায় দুই নম্বর সেটের ৭৬ নম্বর প্রশ্নটি ছিল- ‘বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ কোনটি? উত্তরের জন্য দেওয়া চারটি অপশন ছিল- (ক) পবিত্র কুরআন শরীফ (খ) পবিত্র বাইবেল (গ) পবিত্র ইঞ্জিল (ঘ) গীতা।  এখানে গীতার আগে ‘পবিত্র’ ছিল না। 

একই সেটের ৪১ নম্বর প্রশ্নটি ছিল- ‘মুসলমান রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা সশস্ত্র হামলা চালায় কত তারিখে?

পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এ দুটি প্রশ্ন নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।  এই ইস্যুতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা প্রগতিশীল ছাত্রজোটসহ বিভিন্ন সংগঠন।   

চারুকলা অনুষদের ডিন মোস্তাফিজুর রহমান সেসময় বলেছিলেন, এ ধরনের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া ঠিক হয়নি। 

এরপর গত ২৮ অক্টোবর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহাকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।  তদন্ত শেষে কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই সিন্ডিকেট ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত দিল। 

এদিকে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) শিক্ষক অধ্যাপক হাছানাত আলীকে মারধরের ঘটনায় আইবিএর সান্ধ্যকালীন এমবিএ নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাহিদ হায়দারকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে সিন্ডিকেট। 

এছাড়া শিক্ষক হাছানাত আলীকেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার বিষয়ে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মামুন আব্দুল কাইউম। 

গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইন্টার্নশিপ পেপারে সই দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষক হাছানাত আলীকে মারধর করে তার অধীনে ইন্টার্নশিপে থাকা নাহিদ।  ঘটনা পরপরই নাহিদকে আটক করে পুলিশ।  পরে শিক্ষক হাছানাত আলী নাহিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। 

ঘটনা পরদিন (২৬ সেপ্টেম্বর) আইবিএ এর শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে।  পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ওই ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মহসিন-উল-ইসলামকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।