১৪, ডিসেম্বর, ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

উইকেট নয়, ব্যাটসম্যানদের দায়ী করলেন সুজন

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৭:১৬

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়  মিরপুরে উইকেট।  মিরপুরে স্লো উইকেটে কারণে ব্যাটসম্যানরা বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে রানের জন্য।  ফলে কোন দলের রান ১৫০ করতে অনেক কষ্ট সাধ্য হচ্ছে সাবারই। 

আর এতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশি-বিদেশিসহ অনেক তারকাই। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক তামিম ইকবাল তো বলেই দিলেন এই উইকেটক একটি 'জঘন্য'  উইকেট।  মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছেন, গ্রহণযোগ্য নয়।  ব্রেন্ডন ম্যাককালাম বলেছেন,
বাজে উইকেট। 

তবে এতো সমালোচনার পরও  ঢাকা ডায়নামাইটসের কোচ ও বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন এই উইকেটে খারাপ কিছুই দেখছেন না।  উল্টো তিনি ব্যাটসম্যানদের দায়ী করলেন।  তিনি ব্যাটসম্যানদেরই কাঠগড়ায় তুললেন  রীতিমতো ধুয়ে দিলেন।  এছাড়াও আম্পায়ারিংই ভালো হচ্ছে বলে দাবী করলেন এ বোর্ড পরিচালক।  কেননা আম্পায়ারিংই বেশ সমালোচনা করেছেন অনেকেই। 

টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে মূলত চার-ছক্কার খেলা।  দর্শকরাও আশা করেন ব্যাটসম্যানদের ধুম-ধাড়াক্কা ব্যাটিং করুক।  সেখানে মিরপুরে রান খরায় ভুগছেন ব্যাটসম্যানরা।  ৯৭, ৯৪ ছাড়াও ৬৮ রানের ইনিংসই বুঝা গেল এবারের বিপিএল কতটা লো-স্কোরিং হতে পারে।  যেখানে প্রতি দলেই রয়েছেন বিধ্বংসী সব ব্যাটসম্যান। 

তবে উইকেট নিয়ে  যখন এতো সমালোচনা তখন ভিন্ন পথে হাঁটেন সাবেক অধিনায়ক সুজন।  উইকেট খারাপ মানতে নারাজ ঢাকা কোচ সাবেক অধিনায়ক সুজন।  বৃহস্পতিবার তিনি সরাসরিই বললেন, ‘উইকেটে কোন জুজু ছিলো না।  হ্যাঁ সুনীল নারিনের উইকেটটা একটু লো ছিল।  এমন দুই একটা হতেই পারে।  ওদের বেলাতেও একটা দুইটা এমন হয়েছে।  যেমন সুনীল নারিন নাহিদের যে উইকেটটা পেল।  এমন দুইটা একটা হয়েছে। ’

রংপুরের বিপক্ষে ১৩৭ রান করেছিল ঢাকা।  ম্যাচের ৪৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। ঢাকা ডায়নামাইটসের এমন সংগ্রামের পরও উইকেটের দোষ না দিয়ে সুজন বলেন, ‘উইকেটটা আমাদের হাতে নাই, এটা আমার কাজ না।  এটা কিউরেটরের কাজ।  সে তার সেরাটা তৈরি করার চেষ্টা করেছে যেখানে ভালো ক্রিকেট খেলা হয়।  কালকের উইকেটে দেখেন আমরা শুরুটা ভালো করতে পারিনি, তবে পরে সাকিব যেভাবে ব্যাটিং করলো তাতে উইকেটকে আমি দোষ দেব না।  আমরা আসলে ব্যাটিং ভালো করতে পারিনি।  আমরা আলগা শট খেলে আউট হয়েছি। ’

এবারের বিপিএলে উইকেটের কারণে সবচেয়ে বড় আলোচনায় ছিল রংপুর ও কুমিল্লার ম্যাচটি।  মিরপুরের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম ম্যাচে মাত্র ৯৭ রানে অল আউট হয় রংপুর।  মাত্র ৯৭ রান  তাড়া করতে গিয়ে ৬ উইকেট হারায় কুমিল্লা।  জয় পায় শেষ ওভারে। 

দ্বিতীয় ম্যাচে ১০৬ রানে অল আউট রাজশাহী।  যদিও এর আগের ম্যাচে অবশ্য ২০৫ রানের একটি বড় স্কোর করেছিল ঢাকা।  রাজশাহীর ফিল্ডাররা অবশ্য সে ম্যাচে মোট ৫টি সহজ ক্যাচ ফেলেছিলেন।  তাই এতো রান হয়েছে নইলে তাদেরও দেড়শ রানের বেশী হয়তো না। 

আর সেই ম্যাচের উদাহণ টেনে সুজন বলেছেন, ‘যেদিনের উইকেট নিয়ে এতো কথা সেদিন কিন্তু ঢাকা দুশর উপর রান করেছে।  তো বলতে পারবেন না উইকেট খারাপ।  তবে আমরা চাই যে ভালো উইকেটে খেলা হোক।  ফ্ল্যাট উইকেটে খেলা হোক।  যেটা দুই দল ভালো খেলবে। ’

 তবে সুজনের দাবী আম্পায়ারিংও ঠিক হচ্ছে, ‘ভুল সিদ্ধান্ত হয়।  আমরা মনে করি এটা খেলার অংশ।  আম্পায়ার্স রিপোর্ট একটা আমাদের কাছে আছে, আমরা বলতে পারি এটা হয়েছে, ওটা হয়েছে।  কিন্তু দিনশেষে এটা আম্পায়ার্স কল।  কিন্তু কোন আম্পায়ার যদি বলে আমাদের বাজে দিন গেছে।  এটা হতে পারে।  কারণ তারা খালি চোখে দেখে। ’

 উইকেট নিয়ে যত কথাই উঠুক ঢাকা ডায়নামাইটস তার সুফল পাচ্ছে।  কারণ দলে রয়েছেন সাকিব, নারিন ও আফ্রিদির মতো দুর্ধর্ষ তিন স্পিনার উইকেট পাচ্ছেন।  ফলে এমন উইকেটই কামনা করবেই পারেন তিনি এবং তার দল।  এছাড়াও বাজে আম্পায়ারিংয়ের ফলাফল তাদের পক্ষে যাওয়াই, আম্পায়ারিংয়েও ভালো হচ্ছে এমন দাবি তিনি করতেই পারেন!