২০, জানুয়ারী, ২০১৮, শনিবার | | ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

অনিশ্চিত আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

২৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:০৬

জানেন কি আমরা আমাদের জন্মের আরো অনেক আগেই মারা গিয়েছি? এখন শুধু আনুষ্ঠানিক অন্তেষ্টিক্রিয়ারের বাকি।  গ্রহের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীরা যেদিন ৯২তম পরমানুর নিউক্লিয়াসকে ভেঙে ফেলেছে সেদিনই আমরা মরে গিয়েছি।  কিন্তু স্টিফেন হকিং সেটা মানতে নারাজ।  তিনি বলেন, মানুষ যেদিন প্রথম E=mc^2 সূত্রটি আবিষ্কার করে সেদিন থেকেই তার ধ্বংসের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে।  এখন শুধু একটু একটু করে অপেক্ষামাত্র....

মৃত্যু ভয়ে আমি ভীত নই।  আমার শুধু আফসোস হয়।  মানুষ নামের
এই মহাপ্রতিভাধর, মহাজ্ঞানী প্রানীটি নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে না।  বিজ্ঞানী ফার্মি সাহেবের ফার্মির ৩য় বিভ্রান্তি থেকে তো জানিই বুদ্ধিমান প্রাণীর সভ্যতা ক্ষনস্থায়ী।  ক্ষনস্থায়ী বলছি এ কারণেই যে পৃথিবীর বয়স ৪.৬ বিলিয়ন বছর।  আর এই পৃথিবীতে মানুষের বয়স মাত্র ৭ মিলিয়ন বছর।  পৃথিবীর বয়সকে যদি আমরা ৪৬ বছর ধরি তবে আমাদের আগমন হয়েছে মাত্র ৪ ঘন্টা আগে।  আর শিল্প বিপ্লব হয়েছে ১ মিনিট আগে।  এই ১ মিনিটে আমরা কি কি করেছি? পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক বন খেয়ে সাবাড় করে ফেলেছি, নিজেদের সুইসাইড করার জন্য তৈরী করেছি পারমানবিক বোমা।  কোথায় যেন দেখেছিলাম শুধু মাত্র আমেরিকার কাছে অফিশিয়ালি(!) যে পরিমাণ পারমানবিক অস্ত্র আছে তা দিয়ে গোটা পৃথিবীকে ১০ বার ধ্বংস করে দেয়া যাবে।  আনঅফিশিয়ালির কথা বাদই থাক। 

নির্মলতা নামক জিনিসটা বহু আগেই এই গ্রহ থেকে চলে গেছে।  পুঁজিবাদী সমাজ আমাদের টেকনোলজিক্যাল পুশ দিচ্ছে আর আমরা নতুন নতুন টেকনোলজির জোয়ারে গা ভাসিয়ে হারিয়ে যাচ্ছি আর্টিফিশিয়ালের জগতে।  ভাগ্যিস এই নর্দমার নাগরিক জীবন থেকে পালিয়ে নির্মলতা, সজীবতা আর নিজেকে খুঁজে পাওয়ার জন্য এখনও প্রকৃতির বুকে অবগাহনের সুযোগ আছে।  কিন্তু দোপেয়ে দৈত্যদের আগ্রাসন থেকে রেহাই পাচ্ছে না সেই শেষ সম্বলটুকুও।  কিন্তু এতসব যবনিকার আড়ালেও আনন্দ আর সৌন্দর্যের তরঙ্গে ভেসে যাই আমি।  দূর আকাশের ময়ূর নীলিমার হাতছানি যেন দৈব দর্শনের মত হতবিহ্বল করে দেয় আমাকে।  এই সৌন্দর্যের বুকেই একদিন মরে যাওয়ার তাড়না তাড়া করে ফেরে প্রতিনিয়ত।  সমুদ্র! সে তো মৃত্যুতেও সুন্দর!!!

একবার নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুন তো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কি রেখে যাচ্ছি আমরা? স্বার্থপর হয়ে পরের চিন্তা করা বাদই না হয় দিন।  আপনার ছেলে মেয়ের জন্য কি রেখে যাচ্ছেন? তাদেরকে বোতলজাত অক্সিজেন কিনে পৃথিবীর বুকে টিকে থাকতে হবে না তো?