১৭, জানুয়ারী, ২০১৮, বুধবার | | ২৯ রবিউস সানি ১৪৩৯

২০১৭ সালের আলোচিত কিছু বিষয়

০২ জানুয়ারী ২০১৮, ০৮:৪৬

২০১৭-এর যেসব ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে, গুরুত্ব বিবেচনায় সেগুলোর যদি কোনো তালিকা করা হয়, তাহলে তাতে ষোড়শ সংশোধনী, গুম, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ধর্ষণ, রোহিঙ্গা সংকট ও ডাকসু নির্বাচনের দাবির মতো বিষয়গুলোকে স্থান দিতে হবে।  অবস্থানক্রমে কিছুটা হেরফের হয়তো হবে, কিন্তু বছরজুড়ে এসব কথাই আমাদের ভাবনার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল। 

২০১৭ সালের আরেকটি বহুল আলোচিত বিষয় গুম বা ‘নিখোঁজ’।  এটি একটি আতঙ্কেরও বিষয়।  সম্ভবত ২০১৭ সালেই সর্বাধিক ৭৫ জন গুম/নিখোঁজ হয়েছেন,
তাঁদের মধ্যে ফিরে এসেছেন ৩৫ জন, মরদেহ পাওয়া গেছে ৭ জনের এবং ৩৩ জনের ভাগ্য সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যাচ্ছে না (গুম আতঙ্কে বছরজুড়ে অনেকেই নির্ঘুম, ।  যাঁরা ফিরে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে ১৬ জনকে নিখোঁজের পর বিভিন্ন সময়ে, এমনকি মাসাধিককাল পরে পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করেছে।  তবে কাগজে-কলমে গ্রেপ্তার দেখানো হয় আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।  জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেছেন, যাঁরা ফিরে এসেছেন তাঁরা কথা বলছেন না আতঙ্কের কারণে।  ফৌজদারি অপরাধীরা কাউকে অপহরণ করে থাকলে সেখানে কোনো লেনদেন ছাড়া তাঁরা ফিরে আসতে পারতেন না।  এসব ক্ষেত্রে কোনো ধরনের লেনদেন ঘটার কথা জানা যায় না।  তাঁর কথায় ‘এখন তো রাষ্ট্রীয় বাহিনীকেই আমাদের সন্দেহ হচ্ছে।  রাষ্ট্রকেই এখন প্রমাণ করতে হবে যে তারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। 

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত জাতিগত নির্মূল অভিযান এবং এ কারণে সৃষ্ট অসহায় আশ্রয়প্রার্থীদের ঢল বছরটির একটি স্মারকচিহ্ন হয়ে গেছে, সন্দেহ নেই।  প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গার অস্থায়ী আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণের এক অবিশ্বাস্য চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশের সামনে।  রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয়, আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানো, গণহত্যা, ধর্ষণ, জাতিগত হত্যার বিচার ইত্যাদি প্রসঙ্গ ঘিরে বারবারই রোহিঙ্গাদের কথা আলোচিত হচ্ছে গত আগস্ট থেকে।  কিন্তু নতুন আসা আশ্রয়প্রার্থীসহ দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বোঝা বাংলাদেশের কাঁধে চাপলেও সমস্যাটির সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।  সেই বিবেচনায় রোহিঙ্গা সংকটকে তালিকায় একটু পেছনের দিকেও রাখা যায়। 

২০১৭ সালে আমাদের জন্য খুবই লজ্জার ও মর্মপীড়ার একটি বিষয় ছিল ধর্ষণ।  প্রায় প্রতিদিনই সংবাদপত্রের পাতায় এই জঘন্য অপরাধের খবর ছাপা হয়েছে।  একেবারে ছোট শিশুও এই ঘৃণ্য অপরাধের শিকার হয়েছে।  নারীদের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য নানা ধরনের প্রচারাভিযান চললেও অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াটি ভীষণভাবে দুর্বল থেকে গেছে।  এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় আরেকটি বিষয় হলো নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর আন্দোলনবিমুখতা।  কয়েক দশক আগে দিনাজপুরে ইয়াসমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে যে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছিল, সে রকম কিছু এখন আর দেখা যায় না। এই যদি হয় আমাদের দেশের অবস্থা তাহলে আমরা কোথায় গিয়ে দাড়াবো।  এভাবে আমাদের আর কত প্রতি মুহুর্তে বেচে থাকার লড়াই করতে হবে।