১৭, জানুয়ারী, ২০১৮, বুধবার | | ২৯ রবিউস সানি ১৪৩৯

বিশ্ব ইজতেমা সরিয়ে নেয়ার হুমকি!

০৮ জানুয়ারী ২০১৮, ০৭:৩২

 

 

বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় স্থানান্তরের হুমকি দিয়েছে মালয়েশিয়া তাবলিগের শুরা কর্তৃপক্ষ।  তাবলিগ জামাতের আমিরের পদ থেকে মাওলানা মুহাম্মদ সা’দকে সরিয়ে দেয়া হলে বাংলাদেশ থেকে ইজতেমা স্থানান্তরের হুমকি দিয়েছে মালয়েশিয়া তাবলিগের শুরা কর্তৃপক্ষ।  বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতের শুরাকে রোববার লেখা এক চিঠিতে মালয়েশিয়া তাবলিগের শুরা কর্তৃপক্ষ এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে। 

তাবলিগের ফায়সাল এবং আমিরের দায়িত্ব নিজামুদ্দিনের (তাবলিগের
মারকাজ) প্রতিনিধিদের থেকে কেড়ে নেয়া হতে পারে এমন আশঙ্কা করছে তারা।  এমন কিছু হলে এটা শুধু বিশ্বব্যাপী তাবলিগ জামাতেই নয়, বাংলাদেশেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।  কারণ, সারা বিশ্বের অধিকাংশ তাবলিগ মারকাজ নিজামুদ্দিনকে বিশ্ব তাবলিগ মারকাজ এবং সংগঠন ও প্রশাসনের কেন্দ্র মনে করে। 

এতে বলা হয়, মাওলানা মুহাম্মাদ সা’দের বর্তমান পদ-পদবি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।  এই অবস্থায় মালয়েশিয়া তাবলিগের শুরা সর্বসম্মতভাবে সবাইকে জানাচ্ছে যে, মাওলানা সা’দই হচ্ছেন তাবলিগ জামাতের বর্তমান আমির।  মাত্র ১ শতাংশের কম সদস্য এই সিদ্ধান্তের বিরোধী। 

চিঠিতে বলা হয়, যেভাবে আমরা মাওলানা সা’দকে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও মূল্যায়ন করছি, বাংলাদেশ সরকারও সেটা করবে।  কারণ, তিনি এবং তার পূর্বসূরিরা নিজামুদ্দিন থেকে এসেছেন যারা এর আগে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। 

টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি ও আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্দেশ করে এতে বলা হয়, এই কর্মকাণ্ডকে পুনরুজ্জীবন দানে আল্লাহ নিজামুদ্দিনকে জন্মস্থান হিসেবে পছন্দ করেছেন।  সেখান থেকেই বিশ্বের আনাচে-কানাচে এই কাজ ছড়িয়ে পড়েছে।  একই সঙ্গে নিজামুদ্দিনের মুরুব্বিরা অত্যন্ত সম্মানিত হয়ে আসছেন। 

চিঠিতে বলা হয়, আমরা দোয়া করি, এই দ্বীনি সমাবেশের মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য মেনে এই ইজতেমায় নিজামুদ্দিনের প্রতিনিধিদের থেকে আমির ও ফায়সাল অনুমোদনে আল্লাহ আয়োজকদের পথনির্দেশনা দেবেন। 

অন্যথায় এতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, যদি আয়োজকরা নিজামুদ্দিনের প্রতিনিধিদের থেকে আমির ও ফায়সাল নির্বাচনের মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য মানতে ব্যর্থ হন, তাহলে আমরা মালয়েশিয়া শুরা বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনে মালয়েশিয়াকে প্রস্তাব করতে একমত হয়েছি। 

প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে তাবলিগ জামাতের মারকাজ হিসেবে ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দিন পরিচিত।  ওই মারকাজের অন্যতম মুরুব্বি মাওলানা সা’দ।  কিন্তু বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।  কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ভারতের ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’ মাওলানা সা’দের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। 

এদিকে বাংলাদেশে তাবলিগের ফায়সালের মধ্যে মাওলানা মুহাম্মদ জুবায়ের, মাওলানা রবিউল হক ও মাওলানা ওমর ফারুক প্রমুখ আগামী ইজতেমায় মাওলানা সা’দের বাংলাদেশে আগমনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। 

অন্যদিকে বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সা’দের যোগদান ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের দ্রুত অবসান চেয়েছেন তাবলিগ জামাতের আরেক অংশের নেতারা। 

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, মাওলানা সা’দ না আসলে এটা বিশ্ব ইজতেমা থাকবে না।  এটা হবে স্থানীয় ইজতেমা।  কারণ, মাওলানা সা’দ না আসলে অনেক বিদেশি মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন।