২৩, ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

পাঠ্যে হযরত মুহাম্মদ (স:) এর ছবি, তুমুল বিতর্ক

১০ জানুয়ারী ২০১৮, ০২:২৮

গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিনের অভিযোগ রয়েছে শিক্ষায় গৈরিকীকরণের।  দেশজুড়ে নতুন করে ইতিহাসের ধাঁচ বদলাতে চায় গেরুয়া শিবিরের থিঙ্ক ট্যাঙ্কারা।  ঠান্ডা ঘরে বসে হিন্দুত্বকে সামনে রেখে রচিত হচ্ছে গেরুয়া ইতিহাস।  পচ্চিমবঙ্গে অবশ্য সেই নকশা সফল হয়নি।  তবে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা আজকাল নজর এড়াচ্ছে না।  শিশু বিকাশ পাবলিকেশনের দ্বিতীয় শ্রেণীর গৃহপাঠ্য পুস্তুক ‘মানব সভ্যতার ইতিহাস’ এমনই এক বিতর্কের জন্ম দিল।  পুস্তুকটির রচয়িতা প্রাক্তন প্রধানশিক্ষক
শ্রী গোষ্ঠবিহারী কারক।  সেখানে একটি অধ্যায় রয়েছে হযরত মুহাম্মদ নামে। 

ইসলাম সম্পর্কে বোঝাতে গিয়ে অধ্যায়টির নাম হযরত মুহাম্মদ রাখা হয়েছে।  শিশু পড়ুয়াদের ইসলামের ইতিহাস বোঝাতে গিয়ে কাবার ছবি দেওয়া হয়েছে পাঠ্যের সঙ্গে।  মুখে লম্বা দাড়ি, হাতে সবুজ পতাকা, কমরে গোঁজা তলোয়ার এমন একটা ছবিও বড় করে ছাপা হয়েছে।  প্রশ্ন উঠেছে এই ছবিটি কার? অবশ্যই শিশুরা মনে করবে এটি হযরত মুহাম্মদের ছবি।  কারণ উপরে লেখা রয়েছে হযরত মুহাম্মদ নীচে বড় ছবি।  শিশু নয়, বড় মানুষও মনে করতে পারেন হয়তো এমনই ছিলেন হযরত মুহম্মদ (সাঃ)।  শিশুপাঠ্যে এমন অদ্ভুত ছবি প্রথম আমতা চাখানার অভিভাবকদের নজরে আসে।  তাঁরা অবশ্য কোনো বিক্ষোভ বা হিংসার পথে না গিয়ে পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর কাছে যান।  তিনি কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।  বই জ্ঞানের দরজা।  সেখানেই এমন অজ্ঞতা দেখে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন।  কেউ কেউ বলছেন নিছক অজ্ঞতা নাকি পরিকল্পনামাফিক এমন কাজ চলছে তা অবশ্য বোঝা মুশকিল।  সারা জীবন হযরত মুহাম্মদ (মাঃ) চেষ্টা করেছেন যাতে কেউ কোথাও তাঁর ছবি না আঁকে।  সে আমলে বহু খ্যাতনামা শিল্পী ছিলেন।  কিন্তু তাদের কাউকেই ছবি আঁকতে দেননি তিনি।  তাঁর ছবি থাকলে ব্যক্তি পূজা শুরু হবে।  সেই কারণেই কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ তাঁর ছবি প্রকাশ।  তাছাড়া যেহেতু কোনও কালেই তাঁর কোনও কাল্পনিক ছবিও সামনে আসেনি তাহলে কোন যুক্তিতে শিশুপাঠ্যে এমনি একটি ছবি প্রকাশ করল শিশু বিকাশ পাবলিকেশন? এক্ষেত্রে দু’টি কারন থাকতে পারে হয় অজ্ঞতার কারণে এটি করা হয়েছে, অথবা এর পিছনে রয়েছে গেরুয়া নকশা।  যদি দ্বিতীয়টি হয় তবে তা অত্যান্ত মারাক্তক।  স্কুলপাঠ্য নয় বলে বিষয়টিকে লঘু করে দেখা উচিত হবে না বলে মনে করছেন অনেকেই।  গৃহপাঠ্য হলেও এই ভুল ইতিহাস শিশুদের মনে গেঁথে যাবে।  গেরুয়া শিবির দীর্ঘদিন ধরে এমনটাই চাইছে।  এখন তদন্ত করে দেখা উচিত অজ্ঞতাবশত এই ছবি ছাপা হয়েছে নাকি এর পিছনে গেরুয়া মদত রয়েছে। 

 

এমন দৃষ্টান্ত বাংলায় তেমন না থাকলেও গোবলয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমন চেষ্টা চলছে।  মোদি জামানায় তাঁর নেতা মন্ত্রীরা মাঝে মধ্যেই এমন উদ্ভট ইতিহাস বলছেন যা শুনলে তাকে লেগে যায়।  কিন্তু গোটাটাই যে হোমওয়ার্ক করা তা বোঝা যায়।  তাজমহল কে তোজোমহল বলে চালানোর চেষ্টা হয় তা নিছক খামখেয়ালিপনা নয়।  এই ভাবেই হঠাৎ করেই বাবরি মসজিদের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল রামলালার মূর্তি।  এর পরের ইতিহাস সকলেরই জানা।  ঐতিহ্যশালী মসজিদটিকে ধ্বংস করে দেয় উন্মাত্ত গেরুয়াবাহিনী। 

আজকের শিশু কালকের ভবিষ্যৎ।  তাই শিশুপাঠ্য রচনায় সব থেকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।  ভুল ইতিহাস একটা জাতির মেরুদন্ড ভেঙে দিতে পারে।  উল্লেখ্য, লেখক এক জায়গাতে লিখেছেন- ‘ঈশ্বর এক, তাকে চোখে দেখা যায় না।  তাঁর কোনও আকার নেই। ’ কারও কারও মত হল ঈশ্বরের প্রতিশব্দ আল্লাহ নন।  কারণ আল্লাহর কোনও স্ত্রীলিঙ্গ হয় না।  তাই সত্যিই যদি ইসলামের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ওই লেখক দিতে চান তাহলে তাঁর লেখা উচিত ছিল- ‘আল্লাহ এক, তাকে চোখে দেখা যায় না…..’।  ইউপির মাদ্রাসায় মুসলিম ছাড়াও সমস্ত ধর্মের অনুষ্ঠানের ছুটি ঘষণার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।  বলা হয়েছে, সমস্ত ধর্ম সম্পর্কে মাদ্রাসার ছাত্রদের জানা উচিত।  ঠিক এভাবেই ইসলামের ইতিহাস লিখতে গেলে বেশ কিছু শব্দ ব্যবহার করার সময় সচেতন থাকতে হবে লেখককে।  তা না হলে ভুল ইতিহাস আঁকড়ে বড় হবে শিশু মন।